সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে মামলা প্রসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের বিবৃতি

প্রকাশিত: ২:০০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১২, ২০২২

হ্নীলা মৌলভীবাজারের দুই গ্রামবাসির সংঘর্ষের ঘটনায় টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের বিবৃতি


রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় আমাকে আসামী করেছে ষড়যন্ত্রকারীরা

গেল শুক্রবার (০৮ইএপ্রিল) আমার নিজ ইউনিয়ন হ্নীলা ইউনিয়ন ১নাম্বার ওয়ার্ডের স্হায়ী বাসিন্দা পেঠান আলীর ছেলে আলমের সাথে ২ নং ওয়ার্ডের স্হায়ী বাসিন্দা সোনা আলীর ছেলে সাইফুলের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুইজন মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মারামারিতে উভয়ের আত্মীয় স্বজন জড়িয়ে পড়ে। একই দিন জুমার নামাজের পর উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বেলাল উদ্দিনের নির্দেশে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ঐ এলাকার লোকজন জড়ো করলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই গ্রামের বাসিন্দারা। ঘটনার দিন আমি কক্সবাজার যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলাম। সংঘর্ষের ঘটনা জানতে পেরে দ্রুত টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করি। পরে পুলিশ আসে। তাদের সাথে আমি ও স্থানীয় চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলীসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনতে সহযোগিতা করি। পরে যার্ব-১৫ এর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে আসেন।

পরিস্থিতি শান্ত হলে আমি গন্তব্যস্থল কক্সবাজার চলে যাই। রবিবার রাতে জানতে পারলাম ২ নং ওয়ার্ডের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। এজাহারে আমার নাম দেখে আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। আমাকে হুকুমের আসামী করা হয়েছে। কেন? কি কারণে মামলায় আমার নাম জড়ানো হয়েছে তা হয়তো বাদী বলতে পারবেন। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমার প্রতিপক্ষরা এমন ঘৃণ্যতম কাজ করেছেন। রাজনীতিতে আদর্শের প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু এ ধরণের প্রতিহিংসা আর অপরাজনীতি কখনো কাম্য নয়।

জানতে পারলাম তারা বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীকে টাকা দিয়ে অনলাইন ও প্রিন্ট পত্রিকায় নিউজও করাচ্ছেন। আমি আশা করবো টাকার কাছে বিবেক বন্ধক না রেখে গণমাধ্যম কর্মীরা সত্য সংবাদ প্রচার করবেন।

আর আমি পুলিশকে খবর দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার যে চেষ্টা করেছি। এটি কি তাহলে আমার অপরাধ ?
এমন হলে পৃথিবীর বিবেকবান কোন মানুষ অন্যের বিপদে এগিয়ে আসবে না।
শুধু আমাকে নয়, আমার আরো দুই ভাইকে আসামী করা হয়েছে। আমি এ ধরনের হীন কাজের তিব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

মূলত আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি সেটি শুরু থেকে মেনে নিতে পারে নি একটি চক্র। যারা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। তারা প্রতিনিয়ত আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে চাই। কিন্তু আদর্শের প্রতিযোগিতায় তারা বারবার হেরে যাচ্ছে। আমার জনপ্রিয়তা তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। এটি সহ্য করতে না পেরে গ্রামবাসির সংঘর্ষের ঘটনায় আমাকে আসামী করেছেন। মামলায় আসামী করা তাদের ষড়যন্ত্রের একটি অংশ। আমি বিচলিত নয়, তবে হতাশ। কারণ রাজনীতি মেধার প্রতিযোগিতা হবে প্রতিহিংসার নয়। একজন নিরাপরাধ ছেলের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে একটি জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাওয়া কখনো কাম্য নয়। তারা যেসব চিন্তা করুক বা না করুক আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় কোন আপোষ করবোনা। জীবনে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও পিতা মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়ন করে যাব ইনশাআল্লাহ । তবে আমি আশাবাদী তারা একদিন নিজেদের ভুল বুঝতে পারবেন। অপরাজনীতির প্রতিযোগিতা ছেড়ে মেধা ভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চায় নামবেন।

পরিশেষে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে বিবেকবান সাংবাদিক ভাইরা টাকার জন্য নয়, সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সত্য প্রচারে ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করি।

ধন্যবাদ
নুরুল মোস্তফা
সাধারণ সম্পাদক
টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগ।