স্বনির্ভর জাতি গঠনে – অরুণোদয়

প্রকাশিত: ১০:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৩, ২০২০

পিছিয়ে পড়া আর নয়, করবো মোরা বিশ্ব জয় – অরুণোদয়। 

আজ ২২ তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস ও ২৯ তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস।

প্রতিবছর ৩ ডিসেম্ব বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে।

শারীরিকভাবে অসম্পূর্ন মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগীতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকান্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটির সূচনা।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী দিবসের অনুগামিতার পিছনে আছে এক ঘটনাবহুল জীবনস্মৃতি। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যান। আহত পাঁচ সহস্রাধিক ব্যক্তি চিরজীবনের মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাদের প্রতি সহমর্মিতায় ও পরহিতপরায়ণতায় বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজে স্বতঃপ্রবৃত্ত ভাবে এগিয়ে আসে। এর ঠিক পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিত ভাবে আন্তর্দেশীয় স্তরে এক বিশাল সম্মেলন করেন।

সেখান থেকেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্যের হদিশ মেলে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে প্রতিবন্ধী কল্যাণে বেশকিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচি গৃহীত হয়।খনি দুর্ঘটনায় আহত বিপন্ন প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহ্বান জানানো হয়।

সেই থেকেই কালক্রমে সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দিন হয়ে উঠেছে।

প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রতি বছর বিষয়ে সচেতনতার প্রসার এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, অধিকার সুরক্ষা এবং উন্নতি সাধন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছর বাংলাদেশে বিভিন্ন জায়গায় দিবসটি পালন করা হলেও, করোনা পরিস্থিতির কারনে এই বছর তা সম্ভব হয়নি।তবে ভার্চুয়াল ভাবে বিভিন্ন জেলায়, নানা রকম আয়োজন করা হয় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মর্যাদা সমুন্নতকরণ,তাদের অধিকার, সুরক্ষা, উন্নতি সাধন, শিক্ষা, চিকিৎসা, কারিগরী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূনর্বাসনের লক্ষ্যে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট  জনাব মোঃ কামাল হোসেন  এর আন্তরিক প্রচেষ্টায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য

কক্সবাজার জেলায় অরুণোদয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং গত দুই বছর ধরে কক্সবাজারে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে অরুণোদয়।বর্তমানে ৩০০ জনের অধিক শিশু নিয়মিত সেবা নিয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে।

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জনাব মোহাঃ শাজাহান আলি (পরিচালক অরুণোদয় ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) এবং কক্সবাজারের সকল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বনির্ভর জীবন উপহার দেওয়ার জন্য অরুণোদয় শিক্ষকবৃন্দ, মেডিক্যাল অফিসার,সাইকোলজিস্ট, ফিজিওথেরাপি সহকারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সেবা দিয়ে যাচ্ছে যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অরুণোদয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ফলে বিশাল এই জনগোষ্ঠীর প্রতি সমাজের মানুষের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের ব্যক্তিদের মর্যাদা সমুন্নতকরণ, তাদের উপযোগী শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, তাদের অধিকার ও সুরক্ষা প্রদানের কাজ করছে।

আজ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা, অধিকার, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি যাতে বৃদ্ধি পায় এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত সকলে।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত