কমিউনিটি ক্লিনিকে মিলছেনা কাঙ্ক্ষিত সেবা

প্রকাশিত: ১২:২৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২২

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম যেভাবে চলছে, তা সত্যিই হতাশাজনক। সপ্তাহের বেশিরভাগ দিনই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ থাকছে বলে জানান স্থানীয়রা। চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক। সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ৮ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে সেবা দেয়ার কথা। তবে পাংশার বেশিরভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকেই ঠিকমতো সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মরহুম রেজাউল ইসলাম কমিউনিটি ক্লিনিকটি বছরের বেশিরভাগ সময়ই তালাবদ্ধ থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। উপজেলার দীঘলহাট কমিউনিটি ক্লিনিকটিও বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সেবা নিতে এসে ফিরে যেতে হয় রোগীদের। একই অবস্থা যশাই ইউনিয়নের লক্ষিপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের। সপ্তাহে দুয়েকদিন দেখা পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর্মীদের। উপজেলার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকের চিত্র কমবেশি একইরকম বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের।

নিয়ম অনুযায়ী সেবাকেন্দ্রে সপ্তাহে ৬ দিন উপস্থিত থাকতে হবে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের। অভিযোগ আছে তাদের বেশিরভাগই সেবাকেন্দ্রে নিয়মিত নন।অনেক ক্লিনিকে সিএইচসিপি থাকলেও তাঁরা ঠিক সময়ে আসেন না বা এলেও তাড়াতাড়ি চলে যান। ফলে এলাকার বাসিন্দারা ঠিকভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কথা বলতে রাজি হননি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ৪২টি। অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার কারণে এসব ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম বলতে আর কিছু নেই। মনে প্রশ্ন জাগে, একটি উপজেলার এতগুলো কমিউনিটি ক্লিনিকের যদি এ রকম বেহাল পরিস্থিতি বিরাজ করে, তাহলে সে এলাকার সাধারণ মানুষ কী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে? এসব দেখার কি কেউ নেই?