২০ বছর বয়সেই কোটিপতি প্রতারক দীপু

প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২১

ইউটিউব দেখে প্রতারণার কৌশল রপ্ত করে ভোলার চরফ্যাশনের দীপু ২০ বছর বয়সেই কোটিপতি। সে নিজেকে কখনো মার্কিন নাগরিক, কখনো এনএসআইয়ের পরিচালক, বড় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয় দিত।

এ ছাড়াও পরিচয় দিত গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক হিসাবেও। সম্প্রতি এ প্রতারক পোশাক তৈরির প্রতিষ্ঠান নোমান গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পাওয়ার খবর জানাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ফেসবুক লাইভে জানায়, গুলশান ওয়েল ফেয়ার ক্লাবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছে। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নোমান গ্রুপের হেড অব প্রটোকল মাজহার ইসলাম চৌধুরীর নজরে আসে বিষয়টি।

এটি যে প্রতারণা, তা ধরে ফেলেন তিনি। পরে প্রতারক দীপুর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। এ ছাড়া অভিযোগ করা হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে। পরে তাকে রাজধানীর পল্লবী থেকে রোববার বিকালে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ডিএমপি গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে দীপুর প্রতারণার সত্যতা পাওয়া গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে তার প্রতারণার নানা কৌশল।

তিনি জানান, ১৪ বছর বয়সে ভোলায় ত্রাণের টাকা আত্মসাতের মধ্যদিয়ে শুরু হয় দীপুর প্রতারণা। নিজ জেলা ভোলাসহ, কিশোরগঞ্জ ও সিলেট সরকারি প্রটোকলে সফর করে সে। এমনকি সৌদি সরকারের ডাকে হজও করে। এনএসআইয়ের সহকারী পরিচালক হিসাবে চাকরি দেওয়ার নামে হাতিয়েছে মোটা অঙ্কের অর্থ।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, করোনায় অসহায় মানুষকে সহায়তার নামে টিম গঠন করে প্রবাসীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা। তার নামে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ আছে এমন চেক দেখিয়ে করে প্রতারণা। ফাঁদ পাততে সে চলাফেরা করত দামি ব্র্যান্ডের ভাড়া করা গাড়িতে। তার হাত থেকে রেহাই পাননি ভাড়া করা গাড়িচালকরাও। তার বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর ভাটারা থানায় মামলা করেন লেকশো অটো লিমিটেডের গাড়িচালক মীর সুজেল।

এদিকে দীপু গ্রেফতার হওয়ার পর তার নিজ এলাকা থেকে বের হচ্ছে প্রতারণার নতুন নতুন তথ্য। চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজারের মতু ফকিরের ছেলে আশরাফুল ইসলাম দীপু। বাবা এলাকার খামারি ও দিনমজুর।

দীপুকে নিয়ে সম্প্রতি দুটি টিভি চ্যানেলে নিউজ করার পর থেকে তার গ্রামে চলছে আলোচনা, সমালোচনা। সবার মুখে একটাই কথা- এ যেন আরেক রিজেন্টের সাহেদ করিম। এতদিন তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। নিজ এলাকায় মাদক ও দেহব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করত সে। এক্ষেত্রে তার ডানহাত হিসাবে পরিচিত ছিল নজরুল নগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী।

সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী আগে শিবিরকর্মী ছিল। হঠাৎ করে ২০১৪ সাল থেকে ছাত্রলীগের খাতায় নাম লিখিয়ে হয়ে যায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারক দীপু নিজ এলাকার অর্ধশত মানুষের কাছ থেকে কোটি টাকা আÍসাৎ করে। এ টাকা লেনদেন হতো মোহাম্মদ আলীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। দীপু গ্রেফতারের পর থেকে তার ডানহাত মোহাম্মদ আলী এখন পলাতক।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ চর আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, দীপুর বিরুদ্ধে গাজীপুরের শ্রীপুর মডেল থানা, টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানাসহ চরফ্যাশন থানায় প্রতারণাসহ জাল-জালিয়াতির ১০-১৫টি মামলা রয়েছে।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত