৯৮ কেজির স্ত্রী হাঁটুর চাপে স্বামীর মৃত্যু!

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০২২

বাকলিয়ায় স্বামী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্ত্রীকে। তবে স্ত্রী লিজা আক্তারের (২৩) দাবি, তাঁর ৯৮ কেজি ওজনের ভার সইতে না পেরে স্বামী আব্দুস শুক্কুর সোহেল (৩৮) মারা গেছেন!

এদিকে সোহেলের পিঠে লালচে দাগ এবং গলায় নখের আঘাতের চিহ্নে লিজার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ অবস্থায় সোহেলের বাবার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন লিজা।

এর আগে সোমবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে নগরের বাকলিয়া আব্দুল লতিফ হাটখোলা সাবান ফ্যাক্টরি এলাকার সিলেট কোম্পানির বাড়ির হোসেন বিল্ডিংয়ের নিচতলার ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) নিহতের বাবা আব্দুস সালাম (৫৮) বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। পর অভিযুক্ত পুত্রবধূ লিজা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওজনের চাপে স্বামীর মৃত্যু হয়ে বলে জানান লিজা।

লিজা আক্তার বাকলিয়া আব্দুল লতিফ হাট খোলা ১৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিসের পেছনে ফজল মুন্সি বাড়ির নূর উদ্দিনের মেয়ে। নিহত আব্দুস শুক্কুর সোহেল বাঁশখালী চাম্বল বদিউল আলম চেয়ারম্যানের বাড়ির আব্দুস সালামের ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সাহাব উদ্দিন খন্দকার গ্রেপ্তার লিজা আক্তারের বরাত দিয়ে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় নাস্তা আনতে যাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী সোহেল ফ্লোরে লুটিয়ে পড়েন। এসময় স্ত্রীর কাপড় ধরে টান দিলে ৯৮ কেজি ওজনের লিজা স্বামীর গায়ের ওপর পড়েন। ভারী শরীর হওয়ায় লিজাও আর উঠতে পারেননি। স্বামী সোহেলও তাকে সরাতে ব্যর্থ হন।

এরপর লিজা দেখতে পান সোহেলের শ্বাস-প্রশ্বাস আটকে গেছে। লিজা বিষয়টি বুঝে উঠার আগে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন। লিজাসহ আশপাশের লোকজন এসে সোহেলকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মামলার এজাহারে সোহেলের বাবা আব্দুস সালাম উল্লেখ করেন, ২০১৫ সালে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর পারিবারিক কলহের কারণে সোহেল ও লিজা আলাদা ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তাদের দুটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে লিজা তার দেবর আব্বাসকে ফোন কলে সোহেলের অসুস্থতার কথা জানায়।

আব্বাস সোয়া ৯টার দিকে সোহেলের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখেন লিজা তাদের প্রাইভেট অটোরিকশায় সোহেলকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়িতে লিজা, তার মামা এবং আরও দুজন পুরুষ ছিল। এসময় আব্বাসও দ্রুত হাসপাতালে যান। পরে রাত আনুমানিক সোয়া ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত সোহেলের বুকের দুপাশে জখম রয়েছে। রক্ত জমাট না বাঁধলেও ভেতরে জখম হয়েছে। তাছাড়া বুকের একপাশের পিঠে লালচে দাগ এবং গলায় নখের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

যোগাযোগ করা হলে বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুর রহিম বাংলাদেশ পেপার’কে বলেন, স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রী লিজা আক্তারকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যামে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।