লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগ কমিটি নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না

প্রকাশিত: ৫:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নানাবিধ বিতর্কে জর্জরিত লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি। সদ্য কেন্দ্রের অনুমোদিত এই কমিটিতে স্থান না পেয়েও কেউ নিচ্ছেন ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন, জেলা সম্মেলনে এক পদে রাখা কাউকে চুড়ান্ত অনুমোদন পত্রে অন্য পদে রাখা হয়েছে এবং কারো পদ থেকে নিচে নামিয়ে কেন্দ্র থেকে চুড়ান্ত অনুমোদন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি থানা বিএনপি নেতাকে জেলা আওয়ামী লীগ কমিটিতে স্থান, অবৈধ হুন্ডি ব্যাবসায়ী, অভিযুক্ত সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি এবং আত্নীয় করণের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন মিডিয়ায় লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছে উক্ত কমিটিতে স্থান পাওয়া ভুক্তভুগী কিছু নেতা। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা ঠিকঠাক না মানায় এমন জটিলতা হয়েছে বলে মনে করছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা। কমিটির অসংগতির খুটিনাটি অবগত করে তারা চিঠি দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানককে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ থেকে রংপুর বিভাগীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শফিক বরাবর।

উল্লেখ্য, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় এবং উক্ত সম্মেলনে সভাপতি, একাধিক সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, শিপ্ল ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এবং একজন কার্যকরী সদস্য পদসহ মোট ৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক ঘোষনা করা হয়। সেখানে সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মোতাহার হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এডভোকেট মতিয়ার রহমানকে নির্বাচন করা হয়। এছাড়া ১ নং সহ-সভাপতি হিসেবে মোঃ সিরাজুল হক ও ১ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গোলাম মোস্তফা স্বপনকে নির্বাচিত করা হয়। অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের উক্ত কমিটি কেন্দ্রে পাঠানোর সময় মোঃ সিরাজুল হকে ১নং সহ-সভাপতি থেকে সরিয়ে ২নং সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এবং ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা স্বপনকে সরিয়ে তার স্থলে ২ নং সহ-সভাপতির নাম দেয়া হয়েছে।

এছাড়া লিখিত অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে চোরাকারবারির সাথে জড়িত এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, যুবলীগ কর্মী কবিদুল হত্যা মামলার আসামি মোঃ সাখাওয়াত হোসেন সুমন ওরফে হুন্ডি সুমনকে এবং আদিতমারি উপজেলা জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়। তাছাড়া কপিসংযুক্ত করে আরো উল্লেখ করা হয়েছে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান শীর্ষ নেতাদের প্রবাসী ছেলে, পিএস, ভাতিজা এমনকি অফিস সহকারীদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে এই পুর্নাঙ্গ কমিটি। দুঃখ প্রকাশ করে এই কমিটির একজন নেতা বলেন, ‘পারিবারিক এই কমিটিতে তৃণমূলের কোন মতামত নেয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি শুধু হুন্ডি সুমনের নাম কেটে বাকী কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যদিও কেন্দ্র থেকে বাদ দেয়া হুন্ডি সুমনকে ফেসবুক ও পোস্টারে দেখা যাচ্ছে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্ররোচণা করতে ও ফুলেল শুভেচ্ছা নিতে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হলে জানানো হয়, ‘সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান নামে কোন ব্যক্তি লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের কোন পদে নাই।’ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ উল্লেখ করে সুমন খানের প্রচারণা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বক্তব্য হলো, ‘আমাদের এই বিষয় কিছু জানা নাই। অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
মিডিয়ার কাছে পাঠানো চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে উপরোক্ত বিষয় সমুহ ও তার প্রমানপত্র সংযুক্তি করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তর সেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বরাবর চিঠি প্রেরণ করেছেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের ভুক্তভোগী নেতারা।