কক্সবাজারে নৌকার টিকেট পেলেন বিতর্কিতরাও

প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৭, ২০২১

জসিম উদ্দিন,কক্সবাজারঃ

কক্সবাজারে আগামী ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য চার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এছাড়া চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভার আওয়ামী লীগের প্রার্থী নামও ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, নৌকার টিকেট পাওয়া এসব প্রার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন মাদক কারবারসহ নানা গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত।

বিতর্কিত প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া পেকুয়া উপজেলার টৈটং এর সেই চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম চৌধুরীও। এর আগে ২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান হন জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী। করোনাকালের মানবিক সহায়তার ১৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করে কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগে গত বছরের ২৮ এপ্রিল পেকুয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুলকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা রুজু হওয়ার পরদিন ২৯ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করে। একই সঙ্গে ৩০ এপ্রিল তাকে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ টৈটং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তদন্তে জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক চাল আত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ২৯ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে ওই পদ থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করে চেয়ারম্যান পদ শূন্য ঘোষণা করে।

জাহেদুল ইসলামকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের অনেক নেতাও। তবে জাহেদুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

একইভাবে টেকনাফ সদর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন বির্তকিত আবু ছৈয়দ মেম্বার। তার বিরুদ্ধে কারাগারে থাকা টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হয়ে ‘ক্রসফায়ার-বাণিজ্যের’ দালালি, মিয়ানমার থেকে গরু আমদানির আড়ালে কমিশনের বিনিময়ে ইয়াবার চালান পাচারে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে আবু ছৈয়দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে আবু ছৈয়দ নৌকা প্রতীক পাওয়ায় হতাশ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, মাদকের কারণে আলোচিত আবু ছৈয়দ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের অনেকেই খুশিতে আত্মহারা। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন আবু ছৈয়দ।

এ ছাড়াও টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন আজিজুল হক। তিনি গত ইউপি নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী হয়ে বিপুল ভোটে পরাজিত হন তিনি। তাকে কিভাবে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এ নিয়ে দলের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জনসমর্থন না থাকলেও টাকার জোরে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে দাবি করে ওই ইউনিয়নে পুনরায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঘোষণার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন অনেকেই। এছাড়া আজিজুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

এর আগে কক্সবাজার জেলার সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির পরপরই সবচেয়ে বেশি আলোচিত মকছুদ মিয়াও মহেশখালীর পৌর নির্বাচনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। গত (১৩ মার্চ) কক্সবাজারের চকরিয়া ও মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। তাদের মধ্যে একজন চকরিয়ার বর্তমান পৌর মেয়র আলমগীর চৌধুরী, অপরজন হলেন মহেশখালীর মকছুদ মিয়া।

সূত্রমতে, মকছুদ মিয়ার বাবা হাসেম সিকদার প্রকাশ বড় মােহাম্মদ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলার ২২নং আসামি। মকছুদ মিয়ার ফুফা রসিদ বি.এ যিনি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলার ৩নং আসামি। মকছুদ মিয়ার মামা মৌলভী ওসমান যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলার ২৭নং আসামি। মকছুদ মিয়ার চাচা মৌলভী অলি আহম্মদ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের মামলার ৪নং আসামি।

এছাড়াও গত ২০১৮ সালের ১৫ আগস্ট মকছুদ মিয়ার ছেলে মিরাজ উদ্দিন নিশান বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ ঢাকায় র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। রাজাকার পুত্র মকছু মিয়া ও তার ছেলে নানান কারণে সবসময় আলোচনায় থাকেন।

এভাবে বির্তকিত ব্যক্তিদের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। যদিও এতদিন ধরে কেন্দ্রীয় ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বলে এসেছেন, বির্তকিত ব্যক্তিরা কোনোভাবে মনোনয়ন পাবেন না।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, আমাদের নেতারা মুখে বলেন বির্তকিত বা অনুপ্রবেশকারীদের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে উল্টো। দেখা গেছে, বিতর্কিতদের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেয় শীর্ষ নেতারাই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে মোবাইলে কথা বলা যাবে না, সাক্ষাতে কথা বলতে হবে।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত