এএসআই মোস্তফা নিজেই ইয়াবা বিক্রেতা

প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নগর গোয়ন্দা পুলিশের বন্দর জোনে কর্মরত এ এস আই গোলাম মোস্তফা। কাজ করতেন পতেঙ্গা ও কর্ণফুলী থানা এলাকায়। ইয়াবাসহ পাচারকারী গ্রেপ্তার করে বাহবা কুঁড়িয়েছেন কর্মস্থলে। পরে দেখা যায়, ইয়াবা পাচারকারী ধরার আঁড়ালে মোস্তফা নিজেই ইয়াবা ব্যবসা করছেন। মোস্তফার দেয়া ইয়াবা বিক্রি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন নামে এক কনস্টেবল র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

মোশাররফ হোসেন ফেনী জেলার নবাবপুর ইউনিয়নের মৃত জাফর আহম্মেদ ও এ এস আই মোস্তফা নোয়াখালী জেলার চরজব্বার থানার চরহাসান সিকদার বাড়ির সাইদুর রহমানের ছেলে।

রাঙ্গুনীয়া থানায় কর্মরত কনস্টেবল মোশাররফ পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন এএসআই মোস্তফা ইয়াবা বিক্রির সাথে জড়িত। তারা দু’জনে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় এক সাথে চাকরি করেছেন। দু’জনের মধ্যে বেশ সখ্যতাও রয়েছে। র‌্যাবের দায়ের করা মামলা তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর জোনের পরিদর্শক মঈনুর রহমান কনস্টেবল মোশাররফ ও এএসআই মোস্তফাকে অভিযুক্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। কয়েকমাস পলাতক থাকার পর উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়ে কর্মস্থল নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনে হাজির হলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে তিনি দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত আছেন। তবে মোস্তফার ইয়াবার উৎসস্থল সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনে কোন তথ্য উঠে আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে পাচারকারীদের কাছে পাওয়া ইয়াবার একটি অংশ ফের বিক্রি করতেন মোস্তফা।

জানতে চাইলে নগর গোয়েন্দা বিভাগের বন্দর জোনের উপ-কমিশনার মনজুর মোর্শেদ জানান, ইয়াবা পাচারে অভিযুক্ত থাকার অপরাধে এ এস আই মোস্তফার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। তিনি ইতিমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে অন্তবর্তীকালীন জামিন নিয়েছেন। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

২০২০ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে নগরীর ওয়াসা মোড়ের হক লাইব্রেরি সামনে থেকে দুই হাজার আটশো ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন রাঙ্গুনীয়া থানার কনস্টেবল মোশররফ হোসেন। পরদিন নগরীর চকবাজার থানায় এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করে র‌্যাব।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা বলা হয়েছে : কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন ও এ এসআই মোহাম্মদ মোস্তফাকে অভিযুক্ত করে গত ১২ জানুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মাঈনুর রহমান।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কনস্টেবল মোশাররফ হোসেনকে ওয়াসার মোড় হক লাইব্রেরির সামনে থেকে দুই হাজার আটশো ইয়াবাসহ আটক করে র‌্যাব।

মোশাররফের জবানবন্দি : আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে কনস্টেবল মোশাররফ হোসেন জানান, তিনি রাঙ্গুনিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। নগরীর কসমোপলিটন আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে থাকেন। ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় এ এস আই গোলাম মোস্তফা ফোন দিয়ে তাকে দামপাড়া সিআইডি অফিসের গেটের সামনে যেতে বলেন। বিকেল চারটায় সেখানে গেলে মোস্তফাসহ গেটের পাশে একটি চায়ের দোকানে বসেন। কিছুক্ষণ পর বেলাল নামে একজন লোক এসে এ এস আই মোস্তফার সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে মোস্তফা বেলালের হাতে একটি লাল রংয়ের ব্যাগ দিয়ে মোশাররফকে বলেন,‘তুমি ওর (বেলালের) সাথে যাও। কিছু টাকা দেবে তা নিয়ে এসো’। মোস্তফার কথামতো বেলালের সাথে লালখানবাজার হাইলেভেল রোডের গেলে ইয়াবা নিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন রাঙ্গুনীয়া থানার কনস্টেবল মোশাররফ। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ইয়াবাগুলো বিক্রির জন্য দিয়েছেন এএসআই মোস্তফা। মোশাররফ ও মোস্তফা নগর পুলিশে কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলায় চাকরি করেছেন। দু’জনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইয়াবাসহ ধরা পড়ার আগে দু’জেনর মধ্যে একাধিকবার কথা হয়েছে। তারা জেনেশুনেই ইয়াবা বিক্রির জন্য নিজেদের কাছে রেখেছেন।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত