হিমালয় কন্যার ক্রিকেট পুত্রঃ পরশ খাদকা

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

হাছিব হোছাইনঃ 

পরশ খাদকাঃ হিমালয় কন্যার ক্রিকেট পুত্র।

বাংলাদেশ আর নেপালের মাঝে ভারতের শুধু একটা ছোটো সুরঙ্গ রয়েছে। সেটা যদি না থাকতো তাহলে হয়ত আজ আমরা নেপালের সাথেও নিজেদের বর্ডার ভাগাভাগি করতাম। এই ছোটো সুরঙ্গটাই এই দুইদেশের মাঝে জ্ঞানের একটা বড় বিভেদ সৃষ্টি করেছে।

একটু ভেবে দেখুন, ২০১৪ সালের আগে কজনই বা জানতেন হিমালয়ের নিচে থাকা নেপাল নামক এই দেশেও ক্রিকেট কম জনপ্রিয় নয়। এমনকি নেপালের অনেক স্থানীয় ম্যাচে নাকি দর্শক ধারণের জায়গাটুকুও হয় না। সেই হিমালয় কন্যার রাজ্যেও রয়েছে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেট পুত্র। এদের মধ্যে সন্দীপ লামিচান্নেতো কোনো আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ না খেলেই আইপিএল কাপিয়েছেন। তবে রাডারের বাইরে রয়ে গেলেন তিনিই। নেপালের ক্রিকেটের জনপ্রিয়তাটা যেদিন থেকে শুরু সেদিন থেকেই দলের সাথে রয়েছেন। নেপালের প্রথম কোনো বিশ্ব দরবারে খেলা দলটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। মূলত ব্যাটসম্যান। সাথে টুকটাক পেস বোলিং করেন। তবে দরকার পড়লে নাকি অফ স্পিনার বনেও যান। বাংলাদেশে এমন ক্রিকেটার হিসাবে একমাত্র নাসির হোসেনকেই পাওয়া যায়। তবে নাসির আর তার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য।

নাসির হচ্ছে সেই ব্যাক্তি যে কিনা নিজের দায়িত্বটি বুঝতে ব্যার্থ হয়েছে। তবে তিনি নিজের সাথে সাথে দলের দায়িত্বও বুঝেছেন। তার আমলেই দলটি খেলেছে টি২০ বিশ্বকাপ। পেয়েছে ওয়ানডে স্ট্যাটাসও। দেখেছিলো বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন। বলছিলাম নেপালের অধিনায়ক পরশ খাদকার কথা।

সাধারণ নেপালীদের মতন দেহের গড়ন খাদকারও। তবে নেপালের ক্রিকেটের কাছে এই নামটি সর্বদা স্মরণীয় থাকবে। নিজেদের প্রথম আইসিসি ইভেন্টে বাংলাদেশের মতন টেস্ট প্লেয়িং দলের সাথে ৩৫ বলে ৪১ করাটা কম নয়। এমনকি তার নেতৃত্বে সেবার আরেকটু হলেই টি২০ বিশ্বকাপেও খেলে ফেলতো নেপাল। শুধু তাই নয়, খাদকার রয়েছে একটি বিরল রেকর্ডও। নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথম বলে উইকেট তুলে নিয়েছেন খাদকা। গতবছর নেপালের ক্যাপ্টেন্সি থেকে সরে দাড়িয়েছেন পরশ খাদকা। এবং এটাকে নেপালের নতুন শুরু হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

এখনব্দি ১০ ওয়ানডে ম্যাচের ১০ ইনিংস খেলে ৩৫ এর গড় ও ৮০ এর স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন ৩১৫, যাতে ১ সেঞ্চুরি ও ১টি ফিফটির ইনিংসও রয়েছে। বল হাতে ৯ ইনিংসে ৩.৯১ এর ইকনোমিতে পেয়েছেন ৯ উইকেট।

অন্যদিকে ৩৩ টি২০ ম্যাচের ৩২ ইনিংসে ২৭.৫৫ এর গড় ও ১২৮.০৪ এর স্ট্রাইকরেটে রান করেছেন ৭৯৯ রান। রয়েছে ৪টি ফিফটি ও ১টি সেঞ্চুরির ইনিংস। বল হাতে ২৬ ইনিংসে পেয়েছেন ৮ উইকেট।

তবে নেপালের এই ক্রিকেটারকে সর্বদাই আন্ডাররেটেড থাকতে হয়েছে। এমনকি বিপিএলের ৫ম আসরে যখন একটি ফ্রাঞ্চাইজি কর্মকর্তা সেই ফ্রাঞ্চাইজির মালিক পক্ষকে পরামর্শ দিয়েছিলো নেপালের পরশ খাদকাকে নিতে। এতে নেপালের সাপোর্টারও পাবে তাদের দল। সেই ফ্রাঞ্চাইজির মালিক বলেছিলো তুমি মার্কেট বুঝো না। অথচ বিপিএলে প্রত্যেক আসরে পাকিস্তান, ইংল্যান্ডের অনেক অখ্যাত ক্রিকেটার যারা খোদ নিজেদের পিএসএল বা কাউন্টি ক্রিকেটেও দল পায় না তাদের ঠিকই নেয়।

অন্যদিকে আইপিএলে লামিচান্নেকে সুযোগ দিয়ে নেপালের ভিউয়ারশীপ কিন্তু ঠিকই বুঝেছিলো। যাইহোক আমাদের বিশ্বাস একদিন পরশ খাদকা সহ ট্যালেন্টেড নেপালী ক্রিকেটাররাও বিপিএল খেলবে।

 




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত
%d bloggers like this: