কোভিডে বিপর্যস্ত ভারতে দিশেহারা বাংলাদেশি রোগীরা

প্রকাশিত: ৪:১২ পূর্বাহ্ণ, মে ১০, ২০২১
কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাওয়ার আগে দিল্লিতে ভাড়া করা বাড়িতে স্বামী সন্তানদের সাথে গুলশান আক্তার (মাঝে)। একদম বামে মেজ মেয়ে নাহিদ তৃণা

বাংলাদেশ পেপার,ডেস্কঃ

কোভিডে মৃত মায়ের মরদেহ নিয়ে কীভাবে কত দ্রুত দেশে ফিরবেন, মর্যাদার সাথে মাকে দাফন করতে পারবেন তা নিয়ে উদভ্রান্ত হয়ে পড়েছেন নাহিদ নাসের তৃণা, তার দুই বোন, চাচাতো ভাই এবং শোকে কাতর বাবা।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাই কমিশনে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য আবেদন করেছেন তারা, কিন্তু রোববার বিকাল পর্যন্ত তা তাদের কাছে আসেনি। শুধু মায়ের মরদেহের ছাড়পত্র হাতে পাওয়া গেছে। মৃত মা শুক্রবার থেকেই হাসপাতালের হিমঘরে।

“আমাদের মনের অবস্থা যে এখন কেমন তা বলে বোঝাতে পারবো না,“ দিল্লি থেকে টেলিফোনে বিবিসিকে বলছিলেন ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তৃণা।

ফেরা নিয়ে দুশ্চিন্তা

এমনিতে গুলশান আক্তারের এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার স্বামী এবং সন্তানেরা। কিন্তু শোকের চাইতে মরদেহ নিয়ে দেশে ফেরা এবং তার দাফন নিয়ে শোকের চেয়ে উদ্বেগই বেশি ভর করেছে পুরো পরিবারের ওপর।

“কখন দেশে যাওয়া যাবে? বিমান নেই, ফলে কিভাবে এতদূর মায়ের মরদেহ নিয়ে যাবো? বেনাপোল সীমান্ত পেরিয়ে যদি ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হয় কিভাবে তা সম্ভব হবে? মায়ের দাফন কোথায় কিভাবে হবে – এসব চিন্তায় মাথা এলোমেলো হয়ে আছে সবার,“ বলেন তিনি।

শুধু গুলশান আক্তারই নয়, সাত জনের পরিবারের সবাই একে একে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উপসর্গ চলে গেলেও সবাই যে নেগেটিভ হয়েছেন রোববার পর্যন্ত সেই টেস্টের ফলাফল তারা পাননি।

নষ্ট হয়ে যাওয়া কিডনি বদলানোর জন্য গত ২৬শে মার্চ দিল্লিতে যান গুলশান আক্তার। সাথে ছিলেন স্বামী, তিন মেয়ে এবং তাদের চাচাতো ভাই এবং বাসার গৃহকর্মী। দিল্লির উপকণ্ঠে ফিরোজাবাদ এলাকায় হাসপাতালের কাছে একটি বাসা ভাড়া নেন তারা।

দিল্লির কোভিড পরিস্থিতি তখন ভয়াবহ রূপ নিতে শুরু করেছে।

“মায়ের ডায়ালাইসিস চলছিল, সপ্তাহে তিনদিন। শহরের কোভিড পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটের খবর শুনছিলাম। চিন্তা ঢুকেছিল মায়ের চিকিৎসা এখন ঠিকমত কি হবে?“, বলেন তৃণা।

পরিবারের সবার কোভিড

আশঙ্কা সত্যি রূপ নিল যখন ২১শে এপ্রিল তৃণার বাবা এবং দুই বোনের কোভিড ধরা পড়লো। দুদিন পর ধরা পড়লো তার মায়ের। তার পর একে একে সবার।

গুলশান আক্তারের শরীরে অক্সিজেন দ্রুত কমতে থাকায় ২৬শে এপ্রিল তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিন-চারদিনের মাথায় তিনি অচেতন হয়ে পড়লে আইসিইউতে নিয়ে ভেন্টিলেটরে নেওয়া হয়। তারপর শুক্রবার ডাক্তাররা জানান হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা