বাংলাদেশ , মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০

আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য

প্রিয়সংবাদ ডেস্ক  ২০১৯-০৮-২৫ ১১:২৮:৪৪   বিভাগ:

সাক্ষাৎকার

প্রশ্ন :২০০২ সালে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর ইতিমধ্যে ১৬ বছর পার হয়ে গেছে। এই সময়ে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। গত ২১ জুলাই বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হলো। উপাচার্য হিসেবে আপনার অনুভূতি জানতে চাই।

ড. অনুপম সেন : বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষাদান করে না, নতুন জ্ঞানও সৃষ্টি করে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি সেই লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে। পাশ্চাত্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিও বেসরকারি। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও জাতীয় সংস্কৃতিতে ভূমিকা রাখতে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি উচ্চ মানসম্পন্ন নাগরিক তৈরি করছে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির দ্বিতীয় সমাবর্তন হয়েছে। এতে এক হাজার ১১২ জন গ্র্যাজুয়েট তাদের শিক্ষা সমাপনী সনদ গ্রহণ করেছেন। কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় সমাবর্তনে ১১ জন গ্র্যাজুয়েটকে পদক প্রদান করা হয়। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি আজ যে উচ্চতায় পৌঁছে গেছে তাতে আমি সুখী। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা দেওয়া হয়। সেটা অব্যাহত রাখতে আমাদের সবার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

প্রশ্ন :বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চার বিস্তারে সরকার বা ইউজিসির তরফ থেকে আরো কী উদ্যোগ নেওয়া জরুরি?

ড. অনুমপম সেন : বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে জ্ঞান সৃষ্টি করতে হলে গবেষণাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকেও প্রাধান্য দিতে হবে। সেই জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকেও এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার অধিকার দিতে হবে।

প্রশ্ন : প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় তো এখন দেশের সেরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি। আপনার অনুভূতি কী!

ড. অনুমপম সেন : প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটিও বাংলাদেশকে জ্ঞান-সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নিয়ে প্রাক্তন মেয়র ও মানবতাবাদী রাজনৈতিক নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে। তাই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির লক্ষ্য কেবল জ্ঞান অর্জন নয়, জ্ঞান সৃষ্টিও করতে হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের; এই লক্ষ্যে ও আদর্শে তাদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ডিগ্রিকে যথার্থ মূল্য দিলেও আরো বেশি মূল্য দেয় তাদের শিক্ষার্থীরা যেন জীবনের ক্ষেত্রে এই ইউনিভার্সিটি থেকে তাদের অর্জিত জ্ঞানকে ব্যবহার করতে পারে। এই কারণে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি শিক্ষার মান বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেয়, গুরুত্ব দেয় তাত্ত্বিক (ঃযবড়ৎরঃরপধষ) জ্ঞানকে ব্যবহারিক (বসঢ়রৎরপধষ) প্রয়োগে ঋদ্ধ করতে। প্রিমিয়ারের ভৌত অবকাঠামো কিন্তু বিশাল। আমাদের ল ফ্যাকাল্টি দেখে অনেকে মন্তব্য করেছেন এটা তো একটা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় (ল ইউনিভার্সিটি) হতে পারে।

প্রশ্ন : প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির কয়েকটি বিভাগ ইতিমধ্যে সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। যেমন আইন বিভাগ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের সাফল্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব, অনন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই।

ড. অনুমপম সেন : আমাদের এই ইউনিভার্সিটিতে ১০টি বিভাগ আছে। প্রতিটি বিভাগই সাধ্যমত চেষ্টা করছে, এই ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞান অর্জন করতে পারে, যে জ্ঞানকে তারা উত্তর জীবনে বা কর্মজীবনে আরও সমৃদ্ধতর করবে। ইউনিভার্সিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ২০৬ জন শিক্ষক এবং অতিথি শিক্ষনক হিসেবে আরও ১৩০ জন, মোট ৩৩৬ জন শিক্ষক শিক্ষাদানে নিয়োজিত রয়েছেন। এসব দক্ষ শিক্ষকদের কারণে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান বর্তমানে অসামান্য। উদাহারণস্বরূপ, ২০১৭ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল পরীক্ষায় যেখানে পাশের হার মাত্র ৩০ শতাংশ, সেখানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের পাসের হার প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শিক্ষার মান অসামান্য হওয়ায় বর্তমানে রাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে এই ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করা ছাত্র-ছাত্রীরা দায়িত্ব পালন করছেন। দেশ-বিদেশের কর্মজীবনের হাজারো ক্ষেত্রে এই ইউনিভার্সিটি থেকে বাণিজ্য, প্রকৌশল, ইংরেজি, অর্থনীতি ইত্যাদি বিষয়ে ডিগ্রিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীরা সাফল্যের সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়াও এই ইউনিভার্সিটির বিপুল সংখ্যক পাশ-করা-শিক্ষার্থী ও ইউনিভার্সিটি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক দেশ-বিদেশে পিএইচডি সহ অন্যান্য উচ্চতর গবেষণায় নিযুক্ত রয়েছেন। প্রিমিয়ারের প্রায় ২৬/২৭ জন শিক্ষার্থী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে নিয়োগ পেয়েছে। আমি মনে করি, দেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরেই প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির ল বিভাগের স্থান। বলা হয়ে থাকে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির শুধু আইন বিভাগ নিয়েই একটি বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে।

প্রশ্ন : স্যার, একটা প্রচলিত ধারণা হলো, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি হলো বড় লোকের ছেলেমেয়েদের বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে নিম্নবিত্তের ছেলেমেয়েদের পড়ার সুযোগ নেই। আপনার মন্তব্য কি?

ড. অনুমপম সেন :হ্যাঁ, এ রকম একটা ধারণা আছে। তবে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। কারণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সবসময় চেয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে নিম্নবিত্তের সন্তানরাও পড়তে পারে। তাই এখানে সেমিস্টার ফি খুবই কম। এখানে কঠিন ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। কিন্তু গরিব ও নিম্নবিত্তের শিক্ষার্থীদের আর্থিক বিষয়টি আমরা সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করি। ভর্তি ফিতে আমরা কোন ছাড় দিতে পারি না। কিন্তু সেকেন্ড সেমিস্টার থেকে তাদের জন্য বিশাল একটা ছাড় দেওয়া হয়। বছরে প্রায় তিন কোটি টাকা আমরা ছাড় দিই। এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সবসময় আমাকে বলতেন, প্রিমিয়ারে যাতে গরিব শিক্ষার্থীদের ফি’র বিষয়টি সহানুভূতির সাথে দেখা হয়। তিনি অনেকসময় নিজে টাকা দিয়ে গরিব শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য পাঠাতেন। যেমন, হরিজন সম্প্রদায়ের সেবকদের সন্তানরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে উনার কারণে। গ্রাম থেকে আসা গরিব শিক্ষার্থীরা যারা যে কোনভাবে হয়তো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পায়নি, তারা প্রিমিয়ারে ভর্তি হচ্ছে। আমি বলব, প্রিমিয়ার বিশ্বদ্যিালয়ে উচ্চবিত্তের চেয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সন্তানরাই বেশি পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।

প্রশ্ন : চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কিন্তু চট্টগ্রাম বিষয়ে শিক্ষালাভ করার সুযোগ সৃষ্টি করা দরকার। এই যেমন ‘চিটাগাং স্টাডিজ’ নামে একটা কিছু থাকতে পারে…।

ড. অনুমপম সেন :আমরা সোশিওলজি বিভাগ চালু করেছি। সামনে বাংলাও চালু করবে। সেখানে চট্টগ্রামকে জানার ও অধ্যয়ন করার সুযোগ থাকবে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে দেশের কালচার সম্পর্কে বেশি করে জানতে পারে, সেজন্য আমরা সংস্কৃতিচর্চাকে খুবই গুরুত্ব দিই। বিতর্ক, বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা এমনিক খেলায়ও যাতে শিক্ষার্থীরা ভালো করতে পারে সেজন্য আমরা বিশেষ নজর দিই। তারই ফল হলো সম্প্রতি প্রিমিয়ারের ছাত্র নাইমের টেস্ট অভিষেক। এটা আমাদের জন্য বিশাল গৌরবের বিষয়। কারণ, এখন জঙ্গিবাদসহ নানা কিছুতে জড়াচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা খুবই ধনী ঘরের ছেলে, কিন্তু জীবনবিচ্ছিন্ন। এসব প্রতিরোধে নিজেদের সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই। আমরা সংস্কৃতিচর্চায় বেশি গুরুত্ব দিই।

প্রশ্ন : স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ।

ড. অনুমপম সেন :তোমাকেও ধন্যবাদ।

সূত্রঃ সমকাল/২৫ আগষ্ট ২০১৯



ফেইসবুকে আমরা

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অনলাইন বিজ্ঞাপন
বিশ্ব বিদ্যালয় ভর্তি সংক্রান্ত সকল তথ্য পেতে ক্লিক করুন