লক্ষাধিক পর্যটক কক্সবাজারে,বাড়তে পারে করোনাভাইরাস

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

তিন দিনের সরকারি ছুটি থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখন কক্সবাজার মুখী । ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও তার আগে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র-শনি পড়ায় টানা তিন দিন ছুটি পেয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের অধিক সমাগম হয়েছে কক্সবাজারে কিন্ত অনেকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যাপারে সচেতনতা নেই।

২১ ফেব্রুয়ারি ছুটিতে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে লক্ষাধিক পর্যটকের মিলনমেলা হয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকে মুখরিত হয়েছে বালুকাময় সৈকতসহ জেলার পর্যটন স্পটগুলো। পাশাপাশি অনেক পর্যটক হোটেল কক্ষ না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এছাড়া অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে যে বাসে কক্সবাজার এসেছেন ওই বাসগুলোতেও রাত্রিযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। যার ফলে করোনাকালীন এই সময়ে তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শুক্রবার সকাল ও বিকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সৈকতজুড়ে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। পাশাপাশি কক্সবাজারের পর্যটন স্পট ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, দরিয়ানগর, পাহাড়ী ঝর্ণা হিমছড়ি, পাতুরে বিচ ইনানী, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া ও রামুর বৌদ্ধপল্লীতেও ভ্রমণপিপাসুদের ভিড় জমেছিল। তবে এসবের পাশাপাশি প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে প্রায় ১০ হাজারের অধিক পর্যটক গেছেন বলে জানা গেছে।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্যবারের চেয়ে এবার পর্যটকরা হোটেল কক্ষ নিয়ে সংকটে পড়েছেন। হোটেল কক্ষ না পেয়ে কেউ ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ গাড়িতে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবার অনেকেই রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।

কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, এবার পর্যটকরা হোটেল কক্ষের সংকটে পড়েছেন- তা সত্যি। তবে যারা বুকিং দিয়ে এসেছেন তারা কোনো প্রকার সমস্যা ছাড়াই হোটেল কক্ষ পেয়েছেন। যারা বুকিং না দিয়ে এসেছেন তারা হোটেল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। কারণ এবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটি যোগ হওয়ায় প্রচুর পর্যটক কক্সবাজার এসেছেন। যা কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্ট হাউজ, কটেজসহ নানা আবাসিকের ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি।

ঢাকার বসুন্ধরা থেকে কক্সবাজার আসা অনিক, নিহান, সিফাত, আরকান ও রুমেল পাঁচ বন্ধু বলেন, যতবার কক্সবাজার এসেছি হোটেল বুকিং করেনি।  যে কারণে এবারো আসার আগে হোটেল বুকিং দিইনি। কিন্তু সকাল সাড়ে ৮টায় বাস থেকে নেমে সব জায়গায় হোটেলের রুম খোঁজেছি। কিন্তু কোথাও পাইনি। শেষ পর্যন্ত কপালে কী আছে জানি না।

কক্সবাজার হোটেল গেস্টহাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, শহরের কলাতলীর সৈকত ঘেঁষে এক থেকে দুই বর্গকিলোমিটারের মধ্যে তারকা মানের ১০টির অধিকসহ প্রায় দুই সহস্রাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্টহাউস, কটেজ ও ফ্ল্যাট রয়েছে। পুরনো শহরের ভেতর রয়েছে আরও ৩০টির অধিক হোটেল। কিন্তু খবর নিয়ে দেখেছি শুক্রবার কোথাও কোনো হোটেলের কক্ষ খালি নেই। তবে যারা হোটেলে উঠেছেন তাদের করোনা সুরক্ষার ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন হোটলের মালিক কতৃপক্ষ।

টুয়াক কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এবারে কক্সবাজার প্রচুর পর্যটক এসেছেন। তবে অনেক পর্যটকের আগ্রহ ছিল প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রতি। যে কারণে প্রচুর পর্যটক সেন্টমার্টিন গেছেন।

এদিকে প্রত্যেকবারের মতো এবারো দেশি-বিদেশি পর্যটকদের প্রধান আর্কষণ সমুদ্র সৈকতের সমুদ্রস্নান ও পর্যটন স্পটে নিরাপদে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, লাইফ গার্ড, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও জেলা পুলিশ। পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে নিয়ম-কানুন ও করোনা সুরক্ষা মানতে পর্যটকদের প্রতি পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

লাইভ গার্ডকর্মী ছৈয়দ নুর বলেন, পর্যটকরা সাগরে গোসলে নামার আগে পর্যটকদের জোয়ার-ভাটার সময় দেখে নেওয়ার পরামর্শ সংবলিত নির্দেশনা রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের। সে বিষয়সহ সার্বক্ষণিক লাইভ গার্ডের নজরে থাকছেন গোসলে নামা পর্যটকরা।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার জিল্লুর রহমান বলেন, সাপ্তাহিক ও ২১ ফেব্রুয়ারির ছুটিতে কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা ভিড়ের মাঝে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার না হন সে জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সৈকতে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ টহল দিচ্ছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত