গর্ভপাত ঘটাতে গিয়ে ‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃত্যু, উধাও প্রেমিক

প্রকাশিত: ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০২১

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

পরিবারের আজান্তে গর্ভপাত করাতে গিয়ে ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তপাতে ফরিদা নামের (৩৮) এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর এ্যাম্বুলেন্সে লাশ রেখে পালিয়ে গেছেন ওই নারীর কথিত প্রেমিক নোমান।

লাশ ফেলে যাওয়ার ২৪ ঘন্টা পর সোমবার (১৫ মার্চ) বিকেলে কক্সবাজার শহরের জইল্যার দোকান এলাকার শাহীন টাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ফরিদা বেগম বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি দক্ষিণ বাইশারী এলাকার মৃত ফজলুর রহমানের মেয়ে। লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক নোমানও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অ্যাম্বুলেন্স চালক মোহাম্মদ আলমগীর বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, রোববার (১৩ মার্চ) ভোর ৪ টার দিকে নোমান নামের একজন ও ডিজিটাল হাসপাতালের দুইজন ওয়ার্ড বয় আমার এম্বুলেন্সটি ভাড়া করেন সদর হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে বান্দরবানের বাইশারীতে যাওয়ার কথা বলে। পরে হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় পৌঁছালে এ্যাম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে তার আত্মীয়দের সাথে মোবাইলে কথা বলার নামে করে উধাও হয়ে যান নোমান।

ওইদিন সারাদিন অপেক্ষার পরেও নোমান ফিরে না আসায় মরদেহ নিয়ে আমি নিজেই বেকায়দায় পড়ে যায়। কিন্তু এম্বুলেন্সে নোমানের ফেলে যাওয়া মোবাইলে সোমবার একটি কল আসে। কলটি রিসিভ করে এক ব্যক্তিকে বিস্তারিত বলার পর মৃত নারীর স্বজনেরা আমার সাথে যোগাযোগ করেন। পরে সোমবার বিকেলে ৪টার দিকে তার আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি পুলিশ মরদেহটা উদ্ধার করে।

ফরিদার চাচাতো ভাই মোহাম্মাদ ইউসুফ বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেলামেশা করার কারণে গর্ভবতী হয়ে পড়েন ফরিদা। তাকে বিয়ে না করে জোরপূর্বক গর্ভপাত করার জন্য কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে ডিজিটাল নামের একটি বেসরকারি হসপিটালে ভর্তি করা হয় বলে জেনেছি। কিন্তু ডাক্তার সোমা চৌধুরী নামের এক চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় অতিরিক্ত রক্তপাতের কারণে তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ডাক্তার সোমা চৌধুরীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল রিসিভ করেন তার স্বামী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কক্সবাজারের উপপরিচালক ডাক্তার পিন্টু কান্তি ভট্টাচার্য্য। তিনি তার স্ত্রী ডাক্তার সোমা অসুস্থ জানিয়ে ডিজিটাল হাসপাতাল থেকে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়েছেন বলে জানান।

অভিযোগের বিষয়ে স্ত্রীর পক্ষ হয়ে তিনি বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, অপরিকল্পিত গর্ভপাতের কারণে রক্তক্ষরণ হওয়ায় ওই নারীকে ডিজিটাল হাসপাতালে সোমা চৌধুরীর তত্বাবধানে চিকিৎসা করা হয়। আলট্রাসনোগ্রাফি করে দেখা গেছে ৫ মাস বয়সী বাচ্চাটি গর্ভে মারা গেছে। পরে ডিএনসি করার পর রোগীকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। এরপর রোগীর রিয়েকশন শুরু হলে তাকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।

তবে সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে নেওয়ার আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে ডাক্তার সোমা চৌধুরীর বিরুদ্ধে নিউজ না করার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে প্রতিবেদকের কাছে মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও ভুল চিকিৎসায় একাধিক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

মৃত ফরিদার বোন রুবি আক্তার বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ওমান পাড়ি জমান ফরিদা। তিন বছর থাকার পর দেশে আসেন। এরই মধ্যে পরিচয় হয় বাইশারী এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নোমানের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর পরিবারের অজান্তে (১২ মার্চ) কক্সবাজার আসেন তারা। পরে ফরিদার মৃত্যুর খবর পাই।

ফরিদার স্বজনেরা জানান, বিদেশ থেকে আসার পর নোমানের সঙ্গে সম্পর্ক হয় তার। বিয়ে করবে বলে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নোমান। হয়তো বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে পালিয়েছে নোমান।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ফরিদার স্বজনেরা।

কক্সবাজার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিপুল চন্দ্র দে বাংলাদেশ পেপারকে বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ওই নারীর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত