মূর্তিমান আতঙ্ক থেকে শীর্ষ ইয়াবা কারবারি এহেসান, অবশেষে গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ২:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২১

ডেস্ক রিপোর্টঃ

টানা কয়েক বছর কক্সবাজার শহরে মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল এহেসান উল্লাহ। শহরে ছিনতাই, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ, ভাড়ায় জমি দখলসহ নানা অপকর্মে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল এহেসানের। নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীও ছিল তার।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে এক সময় সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে সরে আসে এহেসান। পেশা পাল্টিয়ে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে যায়। ধীরে ধীরে বড় মাপের ইয়াবা কারবারিতে পরিণত হন তিনি। ইয়াবা কারবার করে মাত্র কয়েক বছরে কোটিপতি এহেসান।
মঙ্গলবার শহরের আদালত চত্বর থেকে এহেসানকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ। আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুল গিয়াস।
সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, এহেসানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এরমধ্যে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্টও আছে। একারণে তাকে আটক করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, দীর্ঘদিন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে নির্ভয়ে ইয়াবা কারবার চালিয়ে আসছে। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশের সাথে সব সময় ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল এহেসানের। কিন্তু জেলা পুলিশের গণবদলীর পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কোন লবিং বা তদবির কাজে আসেনি। একারণে এহেসান ধরা পড়েছে।
জানা গেছে, সন্ত্রাসী জগতের মত ইয়াবা জগতেও বিশাল একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে এহেসানের। এহেসানের ইয়াবা সিন্ডিকেটের অন্যতম সক্রিয় সদস্যরা হলেন- বাসটার্মিনাল এলাকার আবুল কালাম ওরফে বড় দা, খুরুশকুলের জিয়াবুল হক, খুরুশকুল রাস্তার মাথার থানার রাইটার আনোয়ার, গোমাতলীর সাইদ আনোয়ার, দিদারুল করিম প্রমুখ।
জানা গেছে, দুই বছর আগে ক্রসফায়ারে নিহত হয় টেকনাফের ফ্রুট ব্যবসায়ী বেলাল। বেলালের প্রায় এক কোটি টাকা এহেসান ও আবুল কালাম ওরফে বড় দা’র কাছে জমা ছিল। বেলালের মৃত্যুর পর ওই টাকা আত্মসাৎ করে তারা।
ইয়াবা কারবার করে বর্তমানে বিপুল অর্থ এবং অঢেল সম্পদের মালিক এহেসান। বর্তমানে ৩ টি ডাম্পার আছে এহেসানের। সেই ডাম্পারগুলো ব্যবহার হয় খুরুশকুলে পাহাড় নিধনে। খুরুশকুলে খতিয়ানভুক্ত জমি কিনেছেন প্রায় ১০ কানি। এছাড়াও সরকারি জমি দখল করেছেন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কানি।
শুধু নিজে পরিবর্তন হয়নি এহেসান। পাল্টে দিয়েছেন শ্বশুর বাড়ির জীবনযাত্রাও। পেশকারপাড়ায় শ্বশুর বাড়ির টিনের ঘরকে করে দিয়েছেন বহুতল ভবন। ব্যাংকেও বিপুল অর্থ আছে এহেসানের। টেকপাড়ার আলোচিত এক কোটি ইয়াবা লুটের ঘটনায় এহেসানও একটি গ্রুপে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বলে গুঞ্জন আছে।
সূত্রঃ দৈনিক কক্সবাজার



error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত