ফেসবুকে পেজ খুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিত দম্পতি

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২১

ফেসবুক পেজ খুলে বিদেশি প্রসাধনী এনে দেওয়ার নামে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক দম্পতি। এরমধ্যে একজনের কাছ থেকেই কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। অবশেষে এ দম্পতি সিআইডির জালে ধরা পড়েছে। প্রতারক জেরিন ওরফে জেনিফার তালুকদার ও স্বামী প্রবাল তালুকদারকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান হাউসিং সোসাইটি থেকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করেছে সিআইডি সাইবার পুলিশের একটি বিশেষ টিম।

এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

বুধবার প্রতারক দম্পতি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিভিন্ন ধরনের মাদকের নেশায় আসক্ত ছিলেন বলে সিআইডি জানিয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, জেরিন ওরফে জেনিফার তালুকদার তার নিজের পরিচালিত অল এসেনশিয়াল বাই-জেরিন নামক ফেসবুক পেজে বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী বিক্রির উদ্দেশ্যে পোস্ট দিতেন।

প্রথমত জেরিন নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কিছু বিদেশি পণ্য এনেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে মানুষকে অনলাইনে বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের পণ্য এনে দেবেন বলে তার পেজে পোস্ট দেন। জেরিনের এ পোস্ট দেখে অনেকে কেনার জন্য অর্ডার দিতে থাকে। জেরিন তাদেরকে মালামাল না দিয়ে করোনা মহামারির কথা বলে আশ্বস্ত করতে থাকেন।

এ ছাড়া কাস্টমস ট্যাক্স কার্গো সমস্যার নানাবিধ কারণ ও অজুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপণ করে ক্রেতা সাধারণকে মালামাল না দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারিত করে আসছিলেন। আফসিন নামে একজন অনলাইন ব্যবসায়ী তার নিজের ব্যবসার জন্য জেরিনের কাছ থেকে পণ্য ক্রয়ের অর্ডার দিয়েছিলেন। জেরিন আফসিনকে সত্য-মিথ্যা অনেক কিছু বুঝিয়ে বিদেশি প্রসাধনী আমদানি করে এনে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধাপে তিন লাখ ৭২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। আন্তরিক ব্যবহার এবং স্মার্টনেস দেখিয়ে তিনি আফসিনের মন জয় করেন।

বিভিন্ন খুচরা ক্রেতার কাছ থেকে যে টাকা গ্রহণ করতেন জেরিন তা তিনি আফসিনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে আনিয়ে সহজে বিশ্বাস স্থাপন করেন। বিকাশে আসা টাকাগুলো জেরিন তার স্বামী প্রবাল তালুকদারকে আফসিনের কাছে পাঠিয়ে গ্রহণ করতেন। মাঝে মাঝে বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে নিতেন। নিজেকে গোপন রাখতে জেরিন কখনও লাইভে আসতেন না।

মালামাল না দিয়ে যখন জেরিনের বিভিন্ন অজুহাত এবং কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয় তখন আফসিন বুঝতে পারেন জেরিন তার সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা করেছেন। এ ঘটনায় আফসিন সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিআইডি সাইবার পুলিশের অনুসন্ধানে প্রতারণার সত্যতা পায়।

এছাড়াও সিআইডি জানতে পারে জেরিনের অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত বিশৃঙ্খলার নানা তথ্য। আফসিনের মতো অনেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জেরিনের অন্তত ২০ লাখ টাকা প্রতারণার তথ্য পায় সিআইডি। পরে এ ঘটনায় জেরিন ওরফে জেনিফার তালুকদার ও স্বামী প্রবাল তালুকদারকে গ্রেফতার করে সিআইডি।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত