এক রোগীর পরিবর্তে অন্যকে গর্ভপাতের চেষ্টা, মারা গেল সন্তান

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩১, ২০২১

মানিকগঞ্জে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক রোগীর পরিবর্তে অন্য রোগীকে ভুল করে গর্ভপাত করার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর গর্ভপাত করার চেষ্টার শিকার জিয়াসমিন আক্তারের গর্ভের সন্তানটি অবশেষে মারা গেছে।

রোববার হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শনিবার সকালে ওই নারীর গর্ভের সন্তানটি মারা গেছে।

এদিকে গর্ভপাত ঘটানোর চেষ্টার ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. ওসমান গনি জানান, তাদের তদন্ত প্রতিবেদন সোমবার কিংবা মঙ্গলবারের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেয়া হবে।

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করে তিন কার্য দিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও মাঝখানে শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার গর্জনা গ্রামের সুমন মিয়ার স্ত্রী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিন আক্তারের (২২) রক্তক্ষরণ সমস্যা দেখা দিলে গত রোববার তাকে জেলা হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডের ২০নং শয্যায় ভর্তি করা হয়। চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। তার পাশের বেডের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত সন্তান হওয়ায় তাকে গর্ভপাত ঘটানোর কথা ছিল। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা সহকারী (সেকমো) ফাতেমা আক্তার ভুলে জিয়াসমিনকে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন।

এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে গা-ঢাকা দেন ফাতেমা। পরে এ ব্যাপারে জিয়াসমিনের চাচা লুৎফর রহমান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে গত শনিবার বিকালে অন্তঃসত্ত্বা জিয়াসমিন আক্তারের গর্ভের সন্তানটি মারা যায়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আরশ্বাদ উল্লাহ বলেন, শুক্রবার রাত থেকেই গর্ভবতী জিয়াসমিনের পুনরায় রক্তরক্ষণ ও তলপেটে ব্যথা শুরু হয়। একপর্যায়ে শনিবার বিকালে তার গর্ভের সন্তান মারা যায়। হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। রোববার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাননি বলে জানান তিনি।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত