ঈদগাঁও’র ইসলামাবাদে জমির বিরোধে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশিত: ১১:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঈদগাঁও থানার অর্ন্তগত ইসলামাবাদে সীমানাবিরোধকে কেন্দ্র করে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন গৃহিনী রাশেদা বেগম (৪০) এবং তাঁর কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউস (১৩)।
গতকাল (১৯ জানুয়ারী ) মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা’র দিকে ইসলামাবাদ ইউনিয়নের চরপাড়া (উত্তর লরাবাগ) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সম্পর্কে মা-মেয়ে এবং বাবুর্চি আজিজুল হকের স্ত্রী ও মেয়ে।
নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে নিহত জান্নাতুলের আপন চাচাত ভাই টমটমচালক আবুল কালাম (৩৫)। সে একই গ্রামের মৃত জাফর আলমের পুত্র।

জানা যায়, উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসতভিটার সীমানা বিরোধ চলে আসছিল এবং খুনী আবুল কালাম এ ব্যাপারে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে লিখিত অভিযোগও দায়ের করে। বিরোধ নিষ্পত্তিকল্পে তদন্ত কেন্দ্রের এসআই শামীম উভয়পক্ষকে নিয়ে কয়েকবার বৈঠকেও বসেন বলে বিশ্বস্তসূত্রে জানা গেছে। এছাড়া ওয়ার্ড মেম্বার সাইফুল ইসলামও স্থানীয়ভাবে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা চালান বলে তিনি জানান।
স্থানীয়সূত্র থেকে জানা গেছে, ঘটনার দিন নিহত রাশেদার স্বামী আজিজুল হক বিরোধীয় জমির সীমানায় ঘেরা দেন। আবুল কালাম সন্ধ্যায় বাড়ী এসে বিরোধীয় জায়গায় ঘেরা দেখতে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে গালিগালাজ করতে থাকে । এক পর্যায়ে সে ধারালো দা নিয়ে ওই ঘেরা কাটতে থাকে। কালামের গালিগালাজে রাশেদা ঘর থেকে বের হয়ে তাকে থামানোর চেষ্টা করে। উত্তেজিত আবুল কালাম ওই সময় রাশেদাকে মাটিতে ফেলে ধারালো দা দিয়ে জবাই করে। মায়ের শোরচিৎকার শুনে মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস ঘর থেকে বের হয়ে আসলে খুনী কালাম একই কায়দায় তাকেও জবাই করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মা-মেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

ওই ঘটনার পরপরই ঈদগাঁও পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের আইসি মোঃ আবদুল হালিম একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, খুনী আবুল কালামকে ধরতে পুরো এলাকায় তল্লাশী অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক ও ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে রয়েছেন। নিহতদের লাশ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা’টি পুলিশ উদ্ধার করেছে।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত