জাপানের মেয়াদোত্তীর্ণ জাহাজ এখন বাংলাদেশের প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান’

প্রকাশিত: ১:৫৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

৪ বছর আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জাপানের ২৯ বছরের পুরনো জাহাজ সালভিয়া মারুকে ঘষামাজা করে বিলাসবহুল প্রমোদতরী ‘বে ওয়ান ক্রুজ’ চালু হয়েছে চট্টগ্রাম-সেন্টমার্টিন নৌরুটে। ইন্টারন্যাশনাল এসোসিয়েশন অব ক্লাসিফিকেশন সোসাইটিস’র নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো জাহাজের গড় আয়ু নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৫ বছর। আয়ুস্কাল হারানো ওই জাহাজ এখন বাংলাদেশের প্রমোদতরী।

আয়ুষ্কালের তথ্য গোপন করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়েই বিলাসবহুল ভাব লাগিয়ে সাগর পথে যাতায়াত করছে বে-ওয়ান ক্রুজ। আর এ কারণেই কর্ণফুলী শিপিং ইয়ার্ডের মালিকানাধীন চাকচিক্য এই প্রমোদতরী নিয়ে ভ্রমণ প্রেমিদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে সংশয়-শঙ্কা!

২৯ বছরের পুরানো সেই জাহাজের বয়স ২৮ বছর বলে দাবি করছেন জাহাজের ক্যাপ্টেন মাসুক হাসান তবে একই জাহাজের বয়স ২৬ বছর বলে জানান জাহাজের মালিক কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী এম এ রশিদ।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বে ওয়ান ক্রুজটির মূল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হলো জাপানের মিতশুবিশি হেভি ইন্ড্রাস্টিজ লিমিটেড। ১৯৯২ সালে সালভিয়া মারু নামে জাহাজটি আত্মপ্রকাশ করে। সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে ২৯ বছর অতিক্রম করেছে জাহাজটি। অথচ একটি জাহাজ তৈরি কাল থেকে ২৫ বছর পর আর ফিটনেস থাকেনা।

এছাড়া কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড এই জাহাজটি নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে যে আবেদনপত্র সে আবেদন পত্রেও এড়িয়ে গেছেন আয়ুষ্কালের বিষয়টি। শিপিং কর্পোরেশনের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে লিখিত কোন মতামত না দিয়ে কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডকে বে ওয়ান ক্রুজ চলাচলের অনুমোদন দেয়।

কনজ্যুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’র (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, যদি চার বছর আগে বে ওয়ান ক্রুজের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সাগর পথে চলাচলে এ জাহাজ অনিরাপদ ও ঝুঁকিপূর্ণ।

সাগরে চলার পথে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কে নিবে ? তখনই প্রশ্ন আসবে এটি ফিটনেস আছে কি না? কারা অনুমোদন দিয়েছে ? তবে এ বিষয়গুলো খুব গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা উচিৎ কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত