কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০২১

বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৭৩ বছর পূর্ণ করছে সোমবার। দেশভাগের পর ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল থেকে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এর নাম ছিল ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’।

পাকিস্তান আমলেই ‘মুসলিম’ শব্দটি ছেঁটে ফেলা হয়। স্বাধীনতার পর নাম হয় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। গত সাত দশকে সংগঠনটি পেরিয়েছে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ আর নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ঝঞ্ঝামুখর সময়। ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন ইউনিটে দেয়ালিকা ও গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়েছে।

প্রতি বছর বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন করা হলেও এবার করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদ‌যাপন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৭টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং দেশব্যাপী সংগঠনের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল ৮টায় লাল দিঘির পাড়স্থ দলীয় কার্য্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

বিকেলে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। যা কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ সরাসরি দলীয় কার্যালয়ে প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে  কেক কাটা হয়।

এসময় বক্তব্য রাখেন জয় বাংলা বাহিনির প্রধান মুক্তিযোদ্ধা কামাল চৌধুরি কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান,জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহম্মেদ বাহাদুর, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান সহ দলের নেতারা।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম বলেন,

“বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সংগ্রাম, সাফল্য ও ঐতিহ্যের ৭৩ বছর পূর্ণ করেছে। ঐতিহাসিক শ্রেষ্ঠত্ব এখনও পর্যন্ত ছাত্রলীগের হাতেই আছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার চেষ্টা করে যাব।

সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন,

“মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর বছরে শিক্ষা-শান্তি প্রগতির মূল মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। ছাত্রলীগের অভিভাবক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সকল নির্দেশনা যাতে আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি, সেটি হবে আমাদের শপথ।

 

এছাড়া ৬ জানুয়ারি সকাল ১১টায় দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হবে ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে। ৮ জানুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি এছাড়াও পুরো মাসব্যাপী নানান কর্মসূচি পালন করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।