বাংলাদেশের নতুন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

বাংলাদেশের কোচ হতে সবার আগে ঢাকায় এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন রাসেল ডমিঙ্গো। বাংলাদেশকে নিয়ে পরিকল্পনা, কাজের ধরন কেমন হবে, লক্ষ্য কী- সব উপস্থাপনের পরই তাকে ভালো লেগেছিল বিসিবির।

সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা আরও কয়েকজনকে টেলিকনফারেন্সে সাক্ষাৎকার নেয়ার পরও বিসিবির পছন্দে এগিয়ে ছিলেন ডমিঙ্গো। শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক এই কোচকেই বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দিল বিসিবি। শনিবার দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। ডমিঙ্গোর সঙ্গে দু’বছরের জন্য চুক্তি করেছে বিসিবি। আগামী বুধবার দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে কাজ শুরু করবেন নতুন কোচ।

আগের দিন রবি শাস্ত্রীকে নতুন মেয়াদে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় ভারত। এরপর বাংলাদেশের কাজটাও সহজ হয়ে যায়। কোচ হিসেবে ভারতের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় হিসেবে থাকা মাইক হেসন বিসিবির পছন্দের তালিকাও দুই নম্বরে ছিলেন। সব মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনজনকে পছন্দের তালিকায় রেখেছিল বাংলাদেশ। অনেক বড় মাপের কোচ পুরো সময় দিতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিবেচনায় আনা হয়নি। কাল নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিশ্বের অনেক নামিদামি কোচ বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

আর এ কারণেই সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের অনেক কাজ করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা তিনজনকে সংক্ষিপ্ত তালিকায় রেখেছিলাম। যে আমাদের সঙ্গে পুরো সময় কাজ করতে পারবেন এমন ব্যক্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। অনেকে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছেন কিন্তু তারা তিন মাস কিংবা ছয় মাস পর এসে দলের সঙ্গে কাজ শুরু করবেন। এছাড়া অনেকে জানিয়েছিলেন, শুধু সিরিজের আগে দলের সঙ্গে কাজ করবেন। কিন্তু আমরা এমন একজনকে চেয়েছি যে পুরো সময় জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করবেন। এসব বিবেচনায় আমরা রাসেল ডমিঙ্গোকে প্রধান কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছি।’

বিসিবি সভাপতি জানান, জাতীয় দলের পাশাপাশি সময়-সুযোগমতো ‘এ’ দল, হাই পারফরম্যান্স দল ও অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গেও কাজ করবেন নতুন কোচ। বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফের বড় একটি অংশ এখন দক্ষিণ আফ্রিকার। ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি ও ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের মেয়াদ বেড়েছে বিশ্বকাপ শেষেই। কিছুদিন আগে নতুন বোলিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকারই চার্র্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট। ল্যাঙ্গেভেল্টের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলেও কাজ করেছেন ডমিঙ্গো।

এছাড়া বাংলাদেশের কোচিং স্টাফে রয়েছেন লংকান ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়ন, স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টোরি ও পারফরম্যান্স অ্যানালিস্ট ভারতের শ্রীনিবাস চন্দ্রশেখরন। বিশ্বকাপের পর স্টিভ রোডসকে বিদায় জানায় বিসিবি। এরপর শ্রীলংকা সফরে ভারপ্রাপ্ত কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।

গত ৭ আগস্ট সাক্ষাৎকারে ডমিঙ্গো দু’ভাবে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন বিসিবির পরিচালকদের সামনে। একটি পরিকল্পনা ২০২০ টি ২০ বিশ্বকাপ সামনে রেখে। আরেকটি ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ সামনে রেখে। কোচ হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে বেশ পরিচিত নাম হলেও শীর্ষ পর্যায়ে কখনই ক্রিকেট খেলতে পারেননি ডমিঙ্গো।

তার জন্ম পোর্ট এলিজাবেথে ১৯৭৪ সালে। ইস্টার্ন প্রভিন্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সময়ই উপলব্ধি করে ফেলেন, ক্রিকেট খেলে বেশিদূর যেতে পারবেন না। তাই খেলা ছেড়ে দ্রুতই নাম লেখা কোচিংয়ে। ২২ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং ডিগ্রি। প্রথমে ইস্টার্ন প্রভিন্সের বয়সভিত্তিক দলে কাজ করেন। পরে জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ পান। ২০০৪ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশে এসেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার যুব দলের কোচ হিসেবে। ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের কোচ। এবার এশিয়ায় কোচিং করানোর নতুন চ্যালেঞ্জ ডমিঙ্গোর সামনে।