পদ্মা সেতুর আনন্দে ভাসছে দেশ

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১০, ২০২০

পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যানটি বসানোর পর ভার্চুয়াল জগতে বইছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসার বন্যা।  নানা বাধা বিপত্তির পরও একমাত্র তার দৃঢ়তার কারণেই স্বপ্নের এ সেতু নির্মাণ সম্ভব হয়েছে।

পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, সবার সামনে দৃশ্যমান।  যারা এ সেতুতে কোনোদিন পারাপার করবেন না বা করার দরকার হবে না, তাদের জন্যও আনন্দের বিষয় এটি। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পদ্মার দুই পারের মানুষের, বিশেষ করে গোটা দক্ষিণাঞ্চল এখন আনন্দে ভাসছে।

অনেকে শেষ স্প্যানটি বসানোর দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে যান পদ্মার তীরে। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে নদীর বুকে ভেসে মাহেন্দ্রক্ষণটি উপভোগ করেন। আনন্দ মিছিল বের হয়েছে অনেক জায়গায়।

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. সুদীপ হালদার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘চিকিৎসাসেবার জন্য অনেক উন্নত প্রযুক্তি নেই আমাদের। বিশেষ করে হেড ইনজুরি কিংবা স্ট্রোকের রোগীদের ঢাকায় পাঠাতে হয়।  দুঃখজনক হলেও সত্যি, রাত্রিকালীন লঞ্চ কিংবা সড়কপথে পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘসূত্রতার কারণে পথেই মারা যেত অনেক রোগী। এমনও হয়েছে যে, ফেরিঘাটে গিয়ে যথাসময়ে ফেরি না পাওয়া কিংবা কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ থাকায় পদ্মা পাড়ি দিতে না পেরে বিনা চিকিৎসায় নদীতীরেই মারা গেছেন অনেকে। আজ পদ্মা সেতুর সর্বশেষ স্প্যান বসল। খুব শিগগির চালু হবে এই সেতু। তখন আর হয়তো এরকম অসহায় মৃত্যু দেখতে হবে না আমাদের।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফজলে রব্বে বলেন, ‘শুধু পদ্মা সেতুই নয়, এর সঙ্গে এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে ঢাকা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৬১ কিলোমিটার দীর্ঘ এক্সপ্রেস সড়ক।  সেতু হয়ে রেললাইন যাবে পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা পর্যন্ত। এই সড়কে আরেকটি এক্সপ্রেস ওয়ে করারও কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের নেয়া এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ঢাকা থেকে বরিশালে আসতে সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা আর পায়রাবন্দর-কুয়াকাটা যেতে চর-সাড়ে ঘণ্টার বেশি লাগবে না।

বরিশাল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, ‘বিজয়ের মাসে এটা আরেকটা বিজয়। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে যে, জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশও পারে।’

বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নিজামউদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির গতি যে কতটা পাল্টে দেবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না। এরইমধ্যে বরিশাল অঞ্চলে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ। তারা এখানে শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে।’

মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাগর তামিম বলেন, ‘পদ্মা সেতুর দুই পাড় এখন দৃশ্যমান। আমরা দক্ষিণাঞ্চলবাসী আনন্দিত। এর চেয়ে আর বড় কোনো পাওয়া হতে পারে না। স্বপ্নপূরণ হওয়ায় আমরা মাদারীপুরবাসী স্বপ্নসারথি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত