ভাসানচরে সরালেও রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারেই ফিরতে হবে

প্রকাশিত: ১১:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৪, ২০২০

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকেই অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ সরকার। একটি অংশকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হলেও তাদেরকে অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরতে হবে।

অস্থায়ীভাবে আশ্রয়প্রাপ্ত মিয়ানমার নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটাই এই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে ১৬শ’র বেশি রোহিঙ্গাকে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়ার দিনে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

কক্সবাজার থেকে শুক্রবার ভাসানচরে নেয়া হয় রোহিঙ্গাদের। ছবি: যুগান্তর
কক্সবাজার থেকে শুক্রবার ভাসানচরে নেয়া হয় রোহিঙ্গাদের। 

বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রথম দল শুক্রবার ভাসানচরে পৌঁছেছে। যারা স্বেচ্ছায় সেখানে যেতে চেয়েছেন তাদেরই পাঠানো হয়েছে। ওই চরে এক লাখ রোহিঙ্গাকে পাঠানো হবে। সেখানে নেয়ার আগে তাদের কমিউনিটি নেতারা জায়গাটি পরিদর্শন করেন। এনজিও ও গণমাধ্যমের কর্মীরাও ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। ওই জায়গাটি এখন পুরোপুরি সুরক্ষিত। রোহিঙ্গাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভাসানচরে বাসস্থান, খাদ্য, চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও ২২টি এনজিও সহায়তা দেবে।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের নাগরিক। তাদের অবশ্যই ফিরতে হবে। আমরা সবাইকে বাংলাদেশ সরকারের প্রকৃত প্রচেষ্টাকে দুর্বল বা ভুল ব্যাখ্যা না করার জন্য সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানাচ্ছি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে ফেরার লক্ষ্যে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে।

কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে এসব রোহিঙ্গাদের শুক্রবার অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয়। ছবি: যুগান্তর
কক্সবাজার থেকে ভাসানচরে এসব রোহিঙ্গাদের শুক্রবার অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর করা হয়। 

মন্ত্রণালয় জানায়, ভাসানচরে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এখানে মিঠাপানি, সুন্দর হ্রদ, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, কৃষিজমি, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, দুটি হাসপাতাল, চারটি কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ, টেলিযোগাযোগ পরিষেবা, বিনোদন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও খেলার মাঠ রয়েছে। মহিলা পুলিশ সদস্যসহ পুলিশ মোতায়েন করে দ্বীপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া এলাকাটি পুরোপুরি সিসিটিভি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।

আবাসন প্রকল্পটি কংক্রিট দিয়ে নির্মিত। ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহ্য করতে সক্ষম। ঘূর্ণিঝড় আম্পান ভাসানচরে আঘাত করলেও আবাসন কাঠামোর কোনো ক্ষতি হয়নি। ভাসানচরে রয়েছে ১৪৪০টি ঘর এবং ১২০টি আশ্রয় কেন্দ্র। দ্বীপটি নৌপথ দিয়ে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য আধুনিক সব সুবিধার পাশাপাশি পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করছে।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত