ঢাকার প্রথম মসজিদ

প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৭, ২০২০

তোফায়েল গাজালিঃ

দূর আজানের মধুর ধ্বনি বাজে বাজে মসজিদেরই মিনারে/এ কী খুশির অধীর তরঙ্গ উঠলো জেগে প্রাণের কিনারে।

মসজিদের নগরী ঢাকা। মুসল্লিদের শহর এটি। এখানে আল্লাহু আকবারের মধুর ধ্বনি জাগরণের ঢেউ তোলে অযুত-কোটি প্রাণে। কবে, কোন জনমে, কোন সে মহাপুরুষ- যিনি এ শহরকে সর্বপ্রথম আজানের সুরে জাগিয়েছিলেন?

ইতিহাস এর সঠিক জবাব দিতে না পারলেও যে মসজিদের আজান ধ্বনি সর্বপ্রথম এ শহরের প্রাণ জুড়িয়ে ছিল অর্থাৎ ঢাকার প্রথম মসজিদের বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় এভাবে- পুরান ঢাকার ৬ নম্বর নারিন্দা রোডের হায়াৎ বেপারির পুলের উত্তর দিকে অবস্থিত ‘বিনত বিবির মসজিদ’ ঢাকার প্রাচীন মসজিদ (মুনতাসীর মামুন রচিত ‘ঢাকা : স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’)।

মসজিদটির গায়ে উৎকীর্ণ শিলালিপি অনুসারে বলা যায়, ১৪৫৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের শাসনামলে তার কন্যা মুসম্মত বখত বিনত বিবি এটি নির্মাণ করেন।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বিনত বিবির মসজিদই ঢাকার সবচেয়ে পুরনো মুসলিম স্থাপত্য নিদর্শন ও শহরের প্রথম মসজিদ। সুলতান নাসিরুদ্দিন মাহমুদ শাহের আমলে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা হলেও তিনি বা তার কন্যা এটি নির্মাণ করেননি।

বরং ওই সময় আরকান আলী নামক এক পারস্য সওদাগর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকার নারিন্দায় বসবাস শুরু করেন এবং তিনিই বিনত বিবির মসজিদটি নির্মাণ করেন।

ছয়-সাত কাঠা জায়গার ওপর গড়ে ওঠা চার কোণবিশিষ্ট মসজিদটির আদি গঠনশৈলীতে একটি কেন্দ্রীয় গম্বুজ থাকলেও ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার সংস্কারকালে আরও একটি গম্বুজ যুক্ত করা হয়।

কালের আবর্তে মসজিদটি তার অসাধারণ রূপলাবণ্য হারালেও ঢাকার প্রথম মসজিদ হিসেবে বিনত বিবির মসজিদের আবেদন মোটেও কমেনি। তাই এখনও ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছাড়াও দেশ-বিদেশের সব রকমের পর্যটকরা একনজর মসজিদটি দেখতে ছুটে আসেন এখানে।

তবে সম্প্রতি হিজরি প্রথম শতাব্দীতে বাংলাদেশে মসজিদ নির্মাণ হয়েছে বলে যে গবেষণা-তথ্য প্রকাশ হয়েছে, তার আলোকে চিন্তা করলে এ কথা দৃঢ়ভাবে বলা খুব কঠিন যে- এ মসজিদ নির্মাণের আগে ঢাকায় কোনো মসজিদ নির্মাণ হয়নি।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত
%d bloggers like this: