ইয়াবা গেল থানায়,অবাক হলেন পুলিশ কর্মকর্তা

প্রকাশিত: ১২:০০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাসটার্মিনাল ইউনিক কাউন্টারে পরিত্যক্ত ইয়াবার ছড়াছড়ি, রহস্যজনক বিপুল ইয়াবা লুট।

কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনালস্থ ইউনিক কাউন্টারে বিপুল সংখ্যক পরিত্যক্ত ইয়াবার হদিস মিলেছে। আর সেসব ইয়াবা নানা ফন্দিফিকির ও নয়ছয় করে লুট করে ফেলেছে বলে জানা গেছে। বাসটার্মিনালের পরিবহণ সেক্টরে কর্মরত ব্যাক্তি এবং কয়েকজন ফৌজদারী মামলায় চিহ্নিত আসামীর সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রিত এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে গণপরিবহণ সেবার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ইয়াবা পাচার করে আসছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শনিবার (২১ নভেম্বরে) রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার শহরের বাসটার্মিনালস্থ ইউনিক কাউন্টারে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল সংখ্যক ইয়াবার হদিস পাওয়া যায়। পরিত্যক্ত হলেও এসব ইয়াবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর না দিয়ে কাউন্টার কর্তৃপক্ষের লোকজন নিজেদের কাছে রেখে দেয়। এভাবে পুরো ২৪ ঘন্টা পার হয়ে গেলেও উক্ত ইয়াবা প্রশাসনকে অবগত না করার বিষয়টি স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের নজরে এলে খবর দেয় গণমাধ্যমকর্মীদের।

এরপর রবিবার (২২ নভেম্বর) রাত ৯টায় গণমাধ্যমকর্মীরা খোঁজ নিতে শুরু করলে নানা ফন্দিফিকির করে রাত ১২টার দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মাত্র ১৭৯০ পিস ইয়াবা নিজেরা গিয়েই হস্তান্তর করে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা মতে সেখানে কমপক্ষে এক ‘কার্ড’ (১০ হাজার) ইয়াবা ছিলো। আবার কারও কারও মতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা ছিলো সেখানে।

ঘটনার বর্ণনায় আরও জানা যায়- ইয়াবাগুলো কে বা কারা ইউনিক কাউন্টারে ফেলে পালিয়ে যায়। পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব ইয়াবা প্রথমে দেখতে পায় ওই কাউন্টারে কর্মরত রকিব, শাহেদ, সাইফ ও তালেব।

কাউন্টার ম্যানেজার পরিচয়ে একজনের সাথে প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তিনি শুরুতেই স্বীকারোক্তি দেন- সেখানে ৮ হাজার পিস ইয়াবা ছিলো। পরে ঘটনার বিষয়ে উর্ধ্বত্বন কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইউনিকের জিএম রহিমকে খবর দেওয়া হয়।

রহিমের দাবী- তিনি ইয়াবাগুলো নুরইসলামের মাধ্যমে র‌্যাবের জনৈক মিজান নামে একজনের কাছে হস্তান্তর করেন। আর মিজানের বক্তব্য মতে- যেহেতু আসামী নেই সেহেতু ইয়াবাগুলো র‌্যাবে নয় বরং থানাকে খবর দিয়ে হস্তান্তর করতে বলেছিলেন তিনি।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে- ইউনিক কাউন্টারের লোকজন এসে ১৭৯০ পিস ইয়াবা এখানে দিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই হতবাক হয়েছেন এই ভেবে যে- পুলিশকে ঘটনাস্থলে খবর না দিয়ে ইউনিক কাউন্টারের লোকজন কীভাবে এখানে এসে ইয়াবা পৌঁছে দিয়ে গেলো! ওই কর্মকর্তা উল্টো প্রশ্ন করে বলেন- তারা তো মাঝপথে কোনো সংস্থার হাতেও পড়তে পারতো। এমনকি ইয়াবা হস্তান্তরকারীদের মধ্যে নুরইসলাম একজন চিহ্নিত ফৌজদারী মামলার আসামী। থানায় এসেও ইয়াবাবহনকারী এই দুই লোক বিভিন্ন অসংলগ্ন এবং বেখাপ্পা বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নুরইসলামের দাবী মতে- তিনি প্রথমে পুলিশের তড়িৎ সেবা ৯৯৯ এ জানিয়েছিলেন। ৯৯৯ থেকেই নাকি তাকে ইয়াবাগুলো বহন করে থানায় পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশ বলছে তার এই বক্তব্য একেবারেই অযৌক্তিক। কারণ সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী কোনো তথ্যদাতা ৯৯৯ এর সহায়তা চাইলে সেখান থেকে অবশ্যই ঘটনাস্থল সংশ্লিষ্ট থানাকে জরুরি ভিত্তিতে অবগত করা হয়। অথচ রবিবার রাত ৯টা থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ৯৯৯ থেকে কোনো নির্দেশনা কক্সবাজার সদর মডেল থানায় আসেনি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মনিরুল গীয়াস প্রতিবেদককে জানান- ইয়াবাগুলো থানায় এসে দিয়ে যাওয়ায় এবং সরাসরি কোনো প্রমাণ না থাকায় কাউকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার গভীরতা জেনে সংশ্লিষ্ট আসামীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর সাথে জড়িত কেউই রেহাই পাবেনা বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সচেতন মহলের দাবী- ইউনিক কাউন্টারের জিএম রহিম এবং চিহ্নিত আসামী নুর ইসলাম যৌথভাবে ইয়াবা পাচারকারী চক্র গড়ে তুলেছে। থানায় পুলিশের কাছে মাত্র ১৭৯০ পিস ইয়াবা পৌঁছে দিয়ে কীভাবে বাকী বিপুল সংখ্যক ইয়াবা লুট করে নেওয়ার দুঃসাহস দেখায় সেই প্রশ্ন উঠেছে। আরও প্রশ্ন উঠেছে- পরিত্যক্ত ইয়াবার হদিস পাওয়ার পর রহিম কেনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেয়নি, উল্টো নরু নামের একজন চিহ্নিত ফৌজদারী আসামীকে খবর দেওয়া হলো। তাহলে কি এভাবেই কাউন্টার থেকে চতুর্দিকে ছড়িয়ে যাবে ইয়াবা?




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত