বাংলাদেশ, , সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

সিরিজ হারল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৯-০৭-২৮ ২০:৫৭:৪৮  

হাছিব হোছাইন,স্পোর্টস ডেস্কঃ

মাশরাফি মুর্তজা-সাকিব আল হাসানকে ছাড়া যেন দিশেহারা বাংলাদেশ। শ্রীলংকার মালিঙ্গাবিহীন দ্বিতীয় ম্যাচেও বাংলাদেশের সেই হতাশার হার। হতশ্রী ব্যাটিংয়ের পর অল্প রানের পুঁজি নিয়ে বোলাররাও লড়াই করতে পারেনি। সফরকারীরা কাটিয়ে উঠতে পারেনি ফিল্ডিং দুর্বলতাও।

তিন বিভাগের ব্যর্থতায় টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও হারল তামিম ইকবালের বাংলাদেশ। এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের সিরিজ জিতে নিল স্বাগতিক শ্রীলংকা। আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে রোববার প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৯৮ রানের পরও বাংলাদেশ আট উইকেটে ২৩৮ রান করতে পারে। জবাবে ৩২ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের আরেকটি বড় জয় পায় স্বাগতিকরা।

সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাথা ব্যথার কারণ নতুন বল। মন্থর উইকেট দেখে তামিম কাল শুরুটা করান মেহেদী হাসান মিরাজকে দিয়ে। এদিনও নতুন বলে ভালো করতে পারেনি বাংলাদেশ। শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলে লক্ষ্যটা আরও ছোট করে ফেলেন অভিষ্কা ফার্নান্দো। দিমুথ করুনারত্নেকে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন মিরাজ। স্বাগতিকদের রান তখন ৭১। ফার্নান্দো তাতে রানের গতি কমাননি।

এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে ৭৫ বলে নয় চার আর দুই ছক্কায় ৮২ রানে মোস্তাফিজুরের শিকার হন তিনি। পরে মোস্তাফিজ ফিরিয়েছেন পেরেরাকেও। তবে খরুচে বোলিং থেকে বের হতে পারেননি মোস্তাফিজ। চতুর্থ উইকেটে কুসল মেন্ডিস (৪১*) ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (৫২*) অবিচ্ছিন্ন ৯৬ রানের জুটি বেঁধে দলকে জয়ের বন্দরে ভেড়ান।

বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বস্তির জায়গা বলতে ছিল শুধু ব্যাটিং। কিন্তু বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরে গিয়ে ব্যাটিংও যেন ভুলতে বসেছে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে তিন বিভাগের সম্মিলিত ব্যর্থতায় ৯১ রানের শোচনীয় হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় স্কোর গড়তে পারেনি বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ৬৭ রান করা মুশফিকুর রহিম কালও দলের বিপর্যয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন। তার ব্যাটিং বীরত্বেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় দল।

নবম ওভারে উইকেটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন মুশফিক। আফসোস তার একটাই- মাত্র দুই রানের জন্য প্রাপ্য সেঞ্চুরিটা মুঠোবন্দি করতে পারেননি। ছয় চার ও এক ছক্কায় ১১০ বলে ৯৮ রানে অপরাজিত থাকেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। মুশফিক একপ্রান্ত আগলে না রাখলে দুইশ’র আগেই হয়তো গুটিয়ে যেত বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ছাড়া কেউ তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি।

আগের ম্যাচের মতোই ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ ও মিডলঅর্ডার। প্রেমাদাসার মন্থর উইকেটে অফ-স্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে দিয়ে বোলিং শুরু করিয়েছিলেন শ্রীলংকা অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। প্রথম পাঁচ ওভার স্বস্তিতেই কাটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। বিপর্যয়ের শুরু ষষ্ঠ ওভারে সৌম্য সরকারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে।

নুয়ান প্রদীপের ফুলটস বলে এলবিডব্লু হয়ে ফেরেন সৌম্য। নবম ওভারে ইসুরু উদানার উইকেটের বেশ বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

৩১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারের বিদায়ের পর ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দিয়ে একে একে সাজঘরের পথ ধরেন মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বির রহমান। মোসাদ্দেক হোসেনও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১১৭ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন মহাবিপদে, তখনই মিরাজের মাঝে যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পান মুশফিক। সপ্তম উইকেটে তাদের ৮৪ রানের জুটিই যা একটু ভদ্রস্থ করেছে বাংলাদেশের স্কোর।

৪৯ বলে ৪৩ রান করে ৪৬তম ওভারে ফেরেন মিরাজ। এরপর আবার সেই মুশফিকের একার লড়াই। কিছুই না হওয়ার দিনে মুশফিকের ৯৮* রানের অসাধারণ ইনিংসটিই একমাত্র প্রাপ্তি। তিন অঙ্ক ছুঁতে শেষ ওভারে তার দরকার ছিল পাঁচ রান। মুশফিক নিতে পারেন তিন রান। সেঞ্চুরি না পেলেও বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ছয় হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। শ্রীলংকার পক্ষে প্রদীপ, উদানা ও আকিলা দনঞ্জয়া নেন দুটি করে উইকেট।

 


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা