বাংলাদেশ, , মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

সাতক্ষীরা’র সর্বজনবিদিত “আকতার পাগল” বর্তমানে কেমন আছেন..?

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২০-০৫-১৪ ২২:৪৪:৪০  

আজহারুল ইসলাম সাদী, সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরা জেলার সর্বজনবিদিত আকতার হোসেন ওরফে (আকতার পাগল) বর্তমানে কোথায় আছেন, কেমন আছেন?

সাতক্ষীরা জেলা শহরের মিছিল মিটিংয়ের মঞ্চে বক্তৃতায় সবার আগে তাকে বক্তব্য দিতে কে না দেখেছেন?
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষণের অংশ বিশেষ তার বর্জ্য কন্ঠে জ্বালাময়ী ধরিয়ে মাইক কাঁপিয়ে দেয়া বক্তব্যের কথা কে না জানে, বা দেখেছেন?

কয়েক বছর আগেও, প্রায় তাকে (আকতার পাগল) দেখা যেত সাতক্ষীরা শহরের বিশেষ বিশেষ মোড়ে বা শহরের সম্মিলিত স্থান শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের উদ্যানে।
স্বাধীনতার পক্ষে বক্তব্য দেয়া বা
বঙ্গবন্ধুর ভাষণে সে ছিলো অদ্বিতীয়।

যদিও সে স্পষ্ট ভাষায় বক্তব্য দিতে পারতোনা তবুও ছাড়া ছাড়া তার বর্জ্য কন্ঠের বক্তব্য শোনার জন্য তাকে ঘিরে থাকতো ছেলে বুড়োসহ শতাধিক মানুষ।
তার ছাড়া ছাড়া বর্জ্য কন্ঠের প্রতিবাদী বক্তব্যের কথা সাতক্ষীরা জেলার সকল এলাকার মানুষের মুখে মুখে আজও ফেরে।
এক সময় সাতক্ষীরার সর্বজনবিদিত মানুষ এই আকতার হোসেন (আকতার পাগল)
কে ভালোবেসে স্বকৃীত দিয়েছিলেন। ” সাতক্ষীরা জেলা পাগল কমিটির সভাপতি হিসেবে “।

যার কথা এতো সময় বলছিলাম সেই চিরচেনা আকতার পাগল কে সাতক্ষীরাবাসী হয়তো ভুলেই গেছেন?
তার নাম শুনে হয়তো তাকে সবাই খুব মিস করছেন,
তাকে দেখতে বুঝি সবার মনটা আনচান করছে?
হুম সেটা করারই কথা।
সম্প্রতি কয়েক বছর সাতক্ষীরা বাসীর অন্তরালে রয়ে গেছেন তিনি।
জানেনা কেউ কেউ তার খবর। কোথায় আছেন কেমন আছেন?

তবে আশার কথা হলোঃ
কয়েকমাস আগে এই আকতার পাগল কে পুনরায় আবিষ্কার করেন সাতক্ষীরা ২ আসনের এমপি এডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ,
তিনি হঠাৎই একদিন যশোর বিমান বন্দর এলাকায় তাকে দেখতে পান এবং তার সাথে ভালোবাসার আবেগে সেলফি তোলেন।
এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোষ্ট করেন এবং সেটা করো কারো নজরে আসে।

সদা সত্য ন্যায়ের প্রতিক, এই আকতার পাগলকে সাতক্ষীরার সামান্য টোকাই থেকে একজন জাতীয় সংসদ সদস্য পর্যন্ত তাকে অত্যান্ত ভালোবাসেন!

আমার লেখার মধ্যে বিন্দু পরিমাণ গলদ আছে কিনা যারা তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন, সাতক্ষীরা শহরে তারা ঠিকই বুঝবেন আমি সত্য লিখছি নাকি মিথ্যা লিখছি?

যার কথা বলছিলাম এমপি এডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, শুধু তিনি নয় তার একমাত্র পুত্র (পরোলোকগত)
অনিকের ও খুব প্রিয় ছিলেন এই পাগল আকতার হোসেন।
আকতারকে নিয়ে অনেক স্থির চিত্র ও তুলেছিলেন এমপি তনয় অনিক আজিজ।
তার পর এমপি কন্যা বা তার স্ত্রী এক কথায় তাদের পরিবারের কাছে এই আকতার হোসেন খুবই প্রিয় ছিলেন।

তবে অনেকে তাকে সাতক্ষীরার প্রিয় একজন ব্যক্তি হিসেবে জানলে ও কেউ কেউ হয়তো তার আসল পরিচয় জানেন না?
আমি তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরার চেষ্টা করছিঃ
সাতক্ষীরা’র এই সর্বজনবিদিত পাগল কমিটির সভাপতি নামে খ্যাত আকতার হোসেন এর জন্ম বাংলাদেশ-ভারত এর সীমান্ত ঘেঁষা কাকডাঙ্গা গ্রামে।
যেটি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতীয় বর্ডার এলাকায় অবস্থিত।
সেই কাকডাঙ্গা গ্রামের এক গরীব কৃষক মোঃ হারুণ কারিকর এর ঘরে ১৯৭৭ সালে বিকলাঙ্গতায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার জন্মের পর কয়েক মাস হুপিং কাশি এবং বয়স বাড়তে থাকায় তার শরীরের দুর্বলতা অবসতা বা প্যারালাইসিস এর কারণে হাঁটতে শেখেন ৮ বছর বয়সে।

হাঁটতে শেখার পরে তার মধ্যে তেজদিপ্ততা লক্ষ করেন তার পিতা মাতা।
৩ ভাই এর মধ্যে আকতার হোসেন মেঝ।
বড় এবং ছোট ভাইটি সুস্থ্য স্বাভাবিক হলেও এই আকতার হোসেন ছাড়া ছাড়া তেজদিপ্ত ভাষায় এপাড়া ওপাড়া করে বেড়াতো।

প্রতিবাদী তেজদিপ্ততার কারণে তরুণ বয়সে একদিন তার বড় ভাইকে কোন কারণ বসত কলারোয়া থানা পুলিশ আটক করায় সরাসরি থানায় এসে পুলিশের সাথে ছাড়া ছাড়া বর্জ্য কন্ঠে প্রতিবাদী ভাষায় জানান, আমার ভাইকে ধরেছেন কেনো, ছেড়ে দেন?
এমনি ভাবে প্রতিবাদী সদালাপী সবার প্রিয় একজন হয়ে উঠতে থাকেন।

চঞ্চলতা দুরন্তপনার কারণে সে কখনো এখানে, কখনো সেখানে, আবার কখনো দু’ একদিন বাড়ির বাইরে রাত্রীযাপন করতো।

এভাবে এক সময় সে সাতক্ষীরা জেলা শহরে গমন করে এবং সবার প্রিয় হয়ে উঠতে থাকে।

শহরের কোন মিছিল মিটিংয়ে হলে তাকে সংগে নিয়ে পিকেটিং করা হতো, তার পর বক্তব্য দেয়ার সময় আকতার কে ও বক্তব্য দিতে বলা হতো, তখন দ্বিধা ও সংকোচ না করে জনতার সামনেই ছাড়া ছাড়া ভাষায় বর্জ্য কন্ঠে বক্তব্য দিতো। এভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষণ দেয়ায় অভ্যাস্ত হয়ে ওঠে ক্রমান্বয়ে
সাতক্ষীরা’র সর্ব শেণীপেষার মানুষের প্রিয় হয়ে উঠতে থাকেন এবং সবাই তাকে সাতক্ষীরা জেলা পাগল কমিটির সভাপতি হিসেবে অবহিত করতে থাকেন।
তার পর থেকে সে পাগল কমিটির সভাপতি হিসেবে সবার পরিচিত হতে থাকেন, জেলার ছেলে বুড়ো সকলের কাছে।

তবে সম্প্রতি কয়েক বছর সাতক্ষীরা’র এই প্রিয় মানুষ টি হয়ে যায় লাপাত্তা?

যে কোন কারণে সাতক্ষীরা ছেড়ে যশোরের
এয়ারপোর্টে এলাকায় তাকে, কেউ কেউ দেখেছেন কিন্তু তাকে সাতক্ষীরায় কেউ আনতে পারেনি?

রমজান মাসের প্রথমার্ধে যশোর জেলার কোন এক এলাকার রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে, একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দিলে আকতার হোসেন রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান এবং তার ডান পা এর হাঁটুর উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকেন।

কেউ একজন স্বল্প পরিচিত তাকে যশোর উদ্ধার করে, হাসপাতালে ভর্তি করেন।
কিন্তু সেখানে অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় পড়ে থাকায় কেউ তাকে ইজিবাইক এ তুলে দেয়, তারপর ঝিকরগাছা, নাভারণ, কলারোয়া এভাবে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে এসে ভর্তি হন।

সেখান থেকে সদরের নারকেলতলা মোড়ের উত্তরে ডাঃ হাফিজউল্লার ট্রমা সেন্টারে অপারেশন এর জন্য যান কিন্তু সেখানে অতিরিক্ত খরচের কারণে সাতক্ষীরা টার্মিনাল সংলগ্ন সির্ভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে আল-নুর হাসপাতালে অপারেশনে জন্য তার গরীব পরিবার চুক্তিবদ্ধ হন।
সে অনুযায়ি ১৩ মে-২০২০ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় তার ভাঙ্গা পায়ের অপারেশন শুরু হয়,
অপারেশন চলে প্রায় রাত ১১ টা পর্যন্ত।
তার অপারেশন এর জন্য ৩ ব্যাগ (A+) রক্তের প্রয়োজন হয়,

ওই রাতেই ৩ জন সহৃদয়বান যুবক তাকে ৩ ব্যাগ রক্ত দান করেন।
যার মধ্যে একজন শেখ নাজমুল শাহাদাত নয়ন উল্লেখ যোগ্য।
বর্তমানে এই আকতার হোসেন সেখানেই আছেন এবং অপারেশনের পর সুস্থ আছেন।
তবে সুস্থ থাকলে ও তার অসুস্থ শরীরে পর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন।
এবং অপারেশন এর খরচার টাকা ও প্রয়োজন, সাধ্য মতো সাতক্ষীরার আপামর জনসাধারণ তার সহায়তা করতে পারলে সে পুনরায় সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে আগের মতো সবাইকে তার জ্বালাময়ী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এতটুকু হলেও বিনোদন দিতে পারবে।
তবে ডাক্তার বলেছেন তাকে সুস্থ হতে প্রায় দু’মাস সময় লাগতে পারে।
আমরা সাতক্ষীরাবাসী এই প্রিয় আকতার হোসেন এর জন্য শুভ কামনা করি।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা