বাংলাদেশ, , সোমবার, ৪ মার্চ ২০২৪

মহেশখালীতে পান বাজার বন্ধের কারনে ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২০-০৪-২৮ ২২:৪০:২০  

কাইছার হামিদ ফরহাদঃ

প্রশাসনের মহেশখালীতে পান বাজার বন্ধ ঘোষণা বিষয়ে কিছু কথা।
চতুর্দিকে সাগর বেষ্টিত পাহাড় সমৃদ্ধ অনন্য বৈশিষ্টের দ্বীপ কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা। এদ্বীপের উৎপাদিত ফসলের মধ্যে ধান,পান,লবণ ও চিংড়ি জাতীয় অর্থনীতিতে উল্যেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম।
এখানকার উৎপাদিত মিষ্টি পানের সুনাম দেশ বিদেশে সমাদৃত। পান চাষিরা শুধুমাত্র তাদের বংশপরম্পরায়ের চাষ পদ্ধতিগতভাবে পান চাষের বাইরে গিয়ে এখন থেকে শুরু করেছে বাণিজ্যিকভাবে পান চাষ। মহেশখালী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মহেশখালীতে প্রায় ১ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে। সে অনুপাতে এবছর মহেশখালীর পাহাড়ী ও সমতল ভূমি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পানের বরজের চাষ করেছে বলে চাষীদের সূত্রে জানা গেছে। এ ১০ হাজার পান বরজ নিয়ে দ্বীপের প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার পানচাষীর কর্ম সংস্থান হয়েছে, ওনাদের সংসার চলে। প্রতি বছর মহেশখালী থেকে ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫শ মে.টন পান বাইরে রপ্তানি হচ্ছে। যারা এই রপ্তানীর মূল কারিগর ওনাদের অবস্হাটা একটু জেনে নিই- পান একটি পচনশীল পণ্য, সপ্তাহে একবার হলেও গাছ থেকে পান নিয়ে নিতে হয়। এবং দুঃখের বিষয় এত বড় একটা উপজেলায় একটাও পানের হিমঘর না থাকাতে দালালদের ধার্যকৃত মূল্যে গরীব চাষীদের পান বিক্রি করে দিতে হয় অন্যথায় পান রেখে দিলে নষ্ট হয়ে যাবে। এভাবে করেই মহেশখালীর পান চাষীরা ধুঁকে ধুঁকে পান চাষ করে যাচ্ছেন, কারণ তাদের এটা ছাড়া অন্য কোনো ব্যবসা নাই। এই করোনা মহামারীর সময়ে বড় একটা চ্যালেন্জিং সময় পার করছে চাষীরা, গাছের পান গাছেই পচে যাচ্ছে। ২০- ২৫ হাজার পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কারণ গত ১ সপ্তাহ ধরে তাদের পান বিক্রি বন্ধ, প্রশাসনের মতে পান বাজারে সামাজিক দুরত্ব মেনে চলা হচ্ছেনা, এবং পান বিক্রির জন্য লোক মহেশখালীর বাইরে গিয়ে অাক্রান্ত হচ্ছে। সুতরাং প্রশাসনকতৃক পান বাজার বন্ধ ঘোষনা করা হয়। ভালো উপলব্ধি, অামরাও চাই সবাই নিরাপদ থাকুক, সাবধান থাকুক। কিন্তু এটার সমাধান না দিয়ে একটা পচনশীল পণ্যের বাজার কিভাবে বন্ধ করার অাদেশ দেয়া হয় মাথায় অাসলোনা। অাপনি সবজির বাজার বন্ধ করতে পারবেন? নিত্য পণ্য নিয়ে বাইরে থেকে যে সমস্ত গাড়ি মহেশখালী অাসে সেগুলো বন্ধের অনুমতি দিতে পারবেন? পারবেন না। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ধান মাঠে পচে যাবে বলে সবাইকে ধান কাটার অাহবান জানাচ্ছেন, সেখানে অারেকটি পচনশীল কৃষি পণ্যকে এভাবে উপেক্ষা কেনো! পান চাষীদের কি অনেক টাকা সঞ্চয় অাছে? ওনাদের মাথায় অাছে ঋণের বিশাল বোঝা। নাকি সরকার অার্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করেছে পান চাষীদের জন্য? নাকি ওনাদের এবং ওনাদের পরিবারের খেতে হয়না? ওরাতো ভিক্ষে করেও খেতে পারবেনা। তাই মহেশখালী প্রশাসনের কাছে অনুরোধ-
পান বাজার অতিসত্বর অাবার সচল করুন কিছু পদক্ষেপ নিয়ে। বাজার বড় মাঠে স্থানান্তর করুন। যেমন চট্টগ্রামে বড় কাঁচাবাজার চকবাজার স্থানান্তর করা হয়েছে প্যারেড মাঠে, রিয়াজুদ্দিন বাজার স্হানান্তর করা হয়েছে রেলওয়ে গাড়ী পার্কিং এ। প্রশাসন রয়েছে তদারকিতে।
সপ্তাহে ২ দিনের পরিবর্তে ১ দিন বাজারের অনুমতি দিন। মহেশখালীর বাইরের যারা ক্রেতা তাদের সাথে প্রশাসন থেকে যোগাযোগ করে মহেশখালীর প্রবেশ মুখ অথবা নির্দিষ্ট জায়গায় প্রশাসন কর্তৃক পণ্য পৌছে দেয়া হোক সেফটি ও সিকিউরিটি নিশ্চিত করে। এই দূর্যোগে, মহামারীতে এতটুকু পদক্ষেপতো নেয়া যেতেই পারে। মানুষের জন্যইতো সরকার, প্রশাসন।
সৃষ্টিকর্তা সবাইকে সুস্হ ও নিরাপদ রাখুক।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা