বাংলাদেশ , রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২০

চট্টগ্রামে ফের চাঙ্গা এক ইয়াবা ব্যবসায়ী : ব্যবহার করছে নিন্মমানের বিউটি পার্লার।।

সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ  ২০২০-০৩-২৫ ১২:৫৬:৪১   

শাহাদত হোছাইন,চট্টগ্রাম ব্যুরো।।

সারাবিশ্ব যখন মরণব্যাধি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তখন চট্টগ্রামের কিছু পালিয়ে থাকা পুরাতন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। প্রশাসন যখন করোনা নিয়ে ব্যস্ত ঠিক তখন প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে ‘পাঠাও’ আর ‘ওভার ‘ এ্যাপস ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা ব্যবসা। ফেইস বুকে সরকার দলীয় স্ট্যাটাস আর সরকারের গুন কীর্তন গেয়ে রাজনীতি করা করা এসব পালিয়ে থাকা ইয়াবা কারবারিরা চট্টগ্রামে আবার সেই মরণনাশক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী থানার এক ইয়াবা ব্যবসায়ী নগরীর বাকলিয়া থানাধীন দেওয়ান বাজার এলাকায় আত্নগোপনে থাকা ওয়ান্টেট ভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামী আবার ইয়াবা ব্যবসা পরিচালনা শুরু করেছে। পাঠাও, ওভারের পাশাপাশি এখন কিছু নাম সর্বস্বহীন বিউটি পার্লারের মধ্যবয়সী সুন্দরী নারীদের দিয়ে নতুন করে ইয়াবা পরিচালনা করছে এই অভিনব পন্থায়।
সূএে জানা যায়, নগরীর দেওয়ান বাজারস্থ একটি বিউটি পার্লারে সন্ধ্যার অন্ধকার নামার পর শুরু হয় উক্ত পার্লারে পুরুষের আনাগোনা, কেউ খদ্দের আর কেউ বিক্রেতা। লোকজন জানলেও কিছু করার নেই এলাকাবাসীর। কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় দোকানদার বলেন, এইটা মেয়েদের বিউটি পার্লার নাকি পুরুষের বিউটি পার্লার জানিনা। প্রায় সময় পুরুষে ভরপুর থাকে এই পার্লার। আমরা প্রতিবাদ করলে হিতে বিপরীত হয়। বিভিন্ন ভাবে মানুষজনকে হুমকি দেয়।তাই এখানকার মানুষ প্রতিবাদ করতে ভয় পাই।
উক্ত পার্লারের পাশের বিল্ডিং এ বসবাসকারী এক ভাড়াটিয়া (ছদ্দ নাম)সোমা ঘোষ জানান, কি আর বলবো এইটা পার্লার নাকি পুরুষের আড্ডা দেয়ার ঘর জানি না। সব সময় পুরুষলোকে ভরপুর থাকে এই পার্লার। আমরা জমিদারকে বিভিন্ন সময় অবহিত করেও কোন প্রতিকার পাইনি।লোকমুখে শুনা যায় এই পার্লারে নাকি ইয়াবা ব্যবসা হয়। কতটুকু সত্য মিথ্যা জানি না। তবে প্রতিনিয়ত পুরুষে ভরপুর থাকে। প্রতিবেদক জমিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে জানা যায় জমিদার অন্যএ থাকে।তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবা ব্যবসায়ী নাজমুল আলম লাভলু (ওরফে লাব্ব্য) বেসরকারি এন জি ও সংস্থা শক্তি ফাউন্ডেশনে এক সময় চাকুরী করতো বেশ কয়েক বছর আগে উক্ত সংস্থার প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা আত্নসাত করে পালিয়ে যায়।দুদক তদন্ত করে মামলার সত্যতা পেয়ে চট্টগ্রাম পটিয়া জজ আদালতে মামলা করে। চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া থানার শক্তি ফাউন্ডেশন শাখা প্রতারক নাজমুলের বিরুদ্ধে দুদকে মামলা দায়ের করে।উক্ত মামলায় সাড়ে ৩ বছরের সাজা ও সাড়ে ১৭ লাখ টাকা আত্নসাতের রায় হয় নাজমুলের বিরুদ্ধে। এখনো সেই মামলায় পলাতক আসামী।তাছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় এই ইয়াবা ব্যবসায়ীর নামে একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরি রয়েছে।
এ ব্যাপারে শক্তি ফাউন্ডেশনের উর্ধতন কতৃপহ্মের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বলেন,আমরা নাজমুলের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করছি রায় আর ওয়ারেন্টের কপি অফিসিয়ালভাবে পেশ করেছি স্থানীয় প্রশাসনকে । আশাকরি খুব তাড়াতাড়ি প্রসাশন আমাদের সহযোগিতা করবেন।
জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী থানাধীন খরন্দ্বীপ গ্রামের দিদারুল আলম বাডনের পুএ নাজমুল আলম ওরফে লাব্ব্য কেসিনো ও জুয়াড়ি হিসেবে এলাকায় পরিচিত। জুয়ার ভারে ভারাক্রান্ত হয়ে এক সময়ে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে এবং জেল ও কেটেছে কয়েক বার।সরকারের ঘোষিত মাদক বিরোধী জিরো টলারেন্স ঘোষনার পর আত্নগোপনে থাকা এই ইয়াবা ব্যবসায়ী আবার চাঙা হয়ে উঠেছে নতুন সাজে, নতুন চমকে। নিম্ন মানের এক বিউট পার্লারের ছএছায়ায় পরিচালনা করছে এই ইয়াবা ব্যবসা।
এই ব্যাপারে সি এম পি’র কমিশনার মাহাবুর রহমান রিপন বলেন,দেওয়ান বাজারস্থ একটা বিউটি পার্লারের অবৈধ কর্মকান্ডের খবর আমরা বিভিন্নভাবে অভিযোগ পেয়েছি।আমাদের নজরদারিতে আছে। যথাসময়ে প্রতিফলন ঘটবে।
চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ান বাজার এলাকা প্রশাসনের ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত। অনেক অপরাধীর আবাসভুমি এই এলাকা।নগরীর বেশির ভাগ ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এই এলাকায় বসবাস করে পুলিশের চোখে ধুলি দিয়ে। এই সব থেকে নিরাপদ থাকতে চাই এলাকার নিরীহ জনগন।

সুত্রঃ দেশ নিউজ



ফেইসবুকে আমরা

অনলাইন বিজ্ঞাপন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন
অনলাইন বিজ্ঞাপন