বাংলাদেশ, , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

দিন যত যাচ্ছে কক্সবাজার বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২৩-০৯-২০ ১০:২৩:৪৪  

য়দিন যত যাচ্ছে, কক্সবাজারে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা তত বাড়ছে। সেই সাথে উদ্বেগজনকহারে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে কক্সবাজারে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন যথাক্রমে ৪০, ৪১, ৪৩ জন।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৪৩ জন। চলতি বছরে চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৩৭ জন। রোগীদের মধ্যে ২ হাজার ৫৯ জন স্থানীয় এবং রোহিঙ্গা রয়েছে ১১ হাজার ৪শ ৭৮ জন । এবং রবিবার ২৪ ঘন্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা গেলেন ১৪ জন। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশী মাত্র দু’জন বাকি ১২ জন রোহিঙ্গা।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্ত মো. করিম হোসেন জানান, প্রথমে আমার জ্বর হয়। আমার চোখ লাল হয়ে যায়। জ্বর না কমায় হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করাই। এরপর ডেঙ্গু ধরা পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি দেন চিকিৎসক। বর্তমানে আমি চিকিৎসাধীন আছি।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার শাহ্ ফাহিম আহমাদ ফয়সাল বলেন, জেলার উপজেলা গুলোতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় এ পর্যন্ত সাড়ে ১ লাখ ৪৮ হাজার মশারি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পে ডেঙ্গু রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও সচেতনতা: গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে জেলা প্রশাসনের মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা ও উন্নয়ন সমন্বয় সভায় প্রতি মাসেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সচেতনতা তৈরির আলোচনা নিয়মিত ভাবে উত্থাপন, যাতে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের যথাযথ ভূমিকা আহবান করে দৃষ্টি আকর্ষণ। গত ৯ জুলাই জেলা প্রশাসন মিলনায়তনে বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে WASH sector এর মাধ্যমে পরিষ্কার পরিজ্ঞাতা কার্যক্রম ও Community Health worker দের মাধ্যমে Door to door সতেনতা কার্যক্রম চলমান। ক্যাম্পের সেকেন্ডারি হেলথ ফ্যাসিলিটি গুলোতে মশারী সহ আলাদা ডেঙ্গু বেড নিশ্চিতকরণ। RRRC, DPHE এবং ক্যাম্পের WASH ও Health sector এর সাথে বিশেষ সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব প্রেরণের প্রেক্ষিতে ২৫ জুন ২০২৩ তারিখে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত। সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের জন্য মশারির স্টক নিশ্চিত হয়েছে, ক্যাম্পে ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত RDT সাপ্লাই নিশ্চিত করা হয়েছে।২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ সহ দশ (১০) জন চিকিৎসক সদস্য বিশিষ্ট টেলিমেডিসিন গ্রুপ সাধারণ লক্ষণ যুক্ত ডেঙ্গু রোগীদের বাসায় চিকিৎসার জন্য টেলিমেডিসিন সেবা দিচ্ছে। ডেঙ্গু সচেতনতা মূলক মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে, এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ফেসবুক পেজে সচেতনতা মূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে, স্কুলে স্কুলে সচেতনতামূলক বার্তা দেওয়া হচ্ছে। ক্যাবল টিভির স্কুলে সচেতনতা মূলক বার্তা দেওয়ার জন্য প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে স্যালাইন ইনফিউশন মজুদকারি ফার্মেসী এবং ডেঙ্গু পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে বেশী ফি নেওয়া ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক এর বিরুদ্ধে জেলা/উপজেলা প্রশাসনের সাথে যৌথভাবে অভিজান শুরু করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গুর প্রকোপ বিগত সময়ের চেয়ে এই বছর আরও বাড়তে পারে। তাই এখন থেকে যথাযথ প্রস্তুতি থাকতে হবে। আর আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে বাড়তে পারে মৃত্যুর সংখ্যাও।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা