বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ক্রিস্টালমেথ (Methamphetamine) বা আইস কী?

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২৩-০১-০২ ২০:০২:১৯  

হেরোইন, গাঁজা ও ফেনসিডিল বহুকাল ধরেই এদেশে অনেক মাদকসেবী ব্যবহার করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন যে মাদকের নাম শোনা যাচ্ছে তা হলো- ক্রিস্টাল মেথ বা আইস।

ক্রিস্টাল মেথ (Methamphetamine) একটি শক্তিশালী মাদক, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র বা মস্তিস্ককে প্রভাবিত করে। ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ড্রাগ অ্যাবিউজের তথ্য অনুসারে, এই মাদকের ব্যবহার স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, দাঁত ক্ষয় ও স্থায়ী হ্যালুসিনেশনসহ অন্যান্য স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

মাদক জগতে ক্রিস্টাল মেথ অনেক দিন ধরেই পরিচিত। আগে এটির বাণিজ্যিক নাম ছিল ‘পারভিটিন’৷ অত্যধিক ক্লান্তিতেও জাগিয়ে রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো এই মাদক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি ছড়িয়ে পড়ে । গভীর রাতে দায়িত্বপালনরত ট্যাংক কম্যান্ডার ও পাইলটরা এই মাদক সেবন করতেন বলে শোনা যায়।

আজও এইসব কারণেই ক্রিস্টাল মেথের দিকে হাত বাড়ান অনেকে। যেমন শিক্ষার্থীরা কিংবা মানসিক চাপের কাজ করেন যারা এছাড়া সাময়িকভাবে একটানা দীর্ঘ সময়ের কাজ করতে হলে এই মাদকের সাহায্য নেন অনেকে। এই মাদকের ক্লিস্টাল পাউডার নাক দিয়ে টানা হয়, মুখে খাওয়া হয়, সিগারেটের মতো ধূমপান করা হয় কিংবা সিরিঞ্জ দিয়ে শিরায় ঢোকানো হয়।

প্রচলিত ইয়াবায় এমফিটামিন থাকে পাঁচ ভাগ আর ক্রিস্টাল মেথ বা আইসের পুরোটাই এমফিটামিন। তাই এটি ইয়াবার চেয়ে অনেকগুণ বেশি ক্ষতিকর মাদক। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে মানবদেহে। ইয়াবা বা হেরোইন হল আফিমের বাইপ্রডাক্ট। এগুলো থেকেই প্রসেস করে এখন নতুন নতুন মাদক তৈরি হচ্ছে।

ক্লিস্টাল মেথ সেবন করলে স্বাস্থ্যের ভীষণ ক্ষতি হয়। অনেকের দাঁত পড়ে যায়। ওজন অত্যন্ত কমে যায়। অল্প সময়ের মধ্যে বার্ধক্য ভর করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অল্প কয়েক মাসের মধ্যেই দেহে এমন বিপর্যয় ঘটে যায় যে সেই ক্ষতি আর পূরণ করা যায় না।

সিন্থেটিক বা ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা এই মাদক উত্তেজনা জাগিয়ে তোলে, ক্লান্তি দূর করে। যারা প্রবল চাপ বা স্ট্রেসে থাকে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে চায়, তাদের মধ্যেই এই মাদক সেবনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক সেবন করলে প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হয়। নার্ভ সেল বা স্নায়ুকোষ ধ্বংস হয়। ক্ষতি হয় মস্তিষ্কের। এটা পশুর মত আক্রমণাত্মক ও সহিংস করে তোলে মানুষকে। মূলত মানসিক ক্ষেত্রে এটি বেশি প্রভাব ফেলে। কেউ আসক্ত হলে এটি ছাড়া তিনি আর ঘুমাতে পারেন না।

এটি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি করে। দাঁত ক্ষয় হয়ে যায়। মাংসপেশি দূর্বল করে দেয়। অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর বিভ্রম হয়। একটানা অনেকদিন মাথা ব্যাথা থাকে। পেশীতে ভাঙ্গন শুরু হয়। কিডনি অনেকসময় কাজ করা বন্ধ করে দেয়। স্ট্রোক এবং শরীরের অতি উচ্চ তাপমাত্রার (হাইপারথার্মিয়া) কারণে মৃত্যু হতে পারে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা