বাংলাদেশ, , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

বাংলাদেশের প্রাচীন ও প্রথম মসজিদ

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-১২-১২ ১২:৩৩:২১  

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক:

রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক ধরে দক্ষিণে এক কিলোমিটার এগোলেই লালমনিরহাট সদরের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন। ইউনিয়নের রামদাস মৌজার, মসতারপাড়ার হারানো মসজিদ খ্যাত মসজিদটিকেই বাংলাদেশের সর্বপ্রাচীন ও প্রথম মসজিদ হিসাবে ধারণা করা হয়। ১৯৮৭ সালের দিকে আশ্চর্যজনকভাবে এ মসজিদটির সন্ধান পান স্থানীয় লোকজন।

মসতারপাড়ার স্থানটি বহুকাল ধরে কয়েকটি উঁচু মাটিরটিলা ও জঙ্গল দ্বারা আবৃত ছিল। যার স্থানীয় নাম ‘মজদের আড়া’। ১৯৮৭ সালে জমির মালিক তা আবাদযোগ্য করার চিন্তা করে জঙ্গল পরিষ্কার করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে প্রাচীনকালের তৈরি ইট, যাতে আঁকা ছিল ফুল। আর মাটি ও ইট সরাতে সরাতে আশ্চর্যজনকভাবে পূর্ণ একটি মসজিদের ভিত খুঁজে পাওয়া যায়।

এতে পাওয়া একটি শিলালিপিতে সুস্পষ্টভাবে আরবিতে লেখা আছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ, হিজরি ৬৯ সাল।’ শিলালিপির সূত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৬৯ হিজরিতে (আনুমানিক ৬৯২ খ্রি.) নির্মিত হয়েছে এ মসজিদটি। খননের পর মসজিদের মেহরাব এবং মসজিদসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠ ও খুতবার মিম্বরও আবিষ্কৃত হয়। এলাকার লোকজন এ মসজিদটির নাম দিয়েছেন ‘হারানো মসজিদ’।

ঐতিহাসিকরা ধারণা করেন, সাহাবি হজরত আবু ওয়াক্কাস (রা.) এ অঞ্চল দিয়েই চীনে পাড়ি জমিয়েছিলেন। বর্তমানে চীনের বিস্মৃত কোয়াংটা নদীর ধারে কোয়াংটা শহরে তার নির্মিত মসজিদ ও সমাধি রয়েছে। ব্রিটিশ প্রত্নতাত্ত্বিক টিম স্টিল দাবি করেন, খ্রিষ্টপূর্ব সময় থেকে ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পাড় ধরে সিকিম হয়ে চীনের মধ্য দিয়ে আরব ও রোমান বণিকদের বাণিজ্য বহরের যাতায়াতের অনেক প্রমাণ রয়েছে তার কাছে। এ হারানো মসজিদ হতে পারে সাহাবি আবু ওয়াক্কাস (রা.) নির্মাণ করেছেন।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা