বাংলাদেশ, , সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

পাংশায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-১০-২৭ ১৪:০০:৪২  

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ধানুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও বেশ কয়েকজন সদস্য লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের নিজ বাড়িতে গিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী এই লাঞ্চনার ঘটনা ঘটান বলে অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি আহসান হাবীব ও সদস্যরা।

সভাপতি আহসান হাবীব ও বিদ্যালয়টির সদস্যরা গণমাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করে বলেন, পাংশা উপজেলার ধানুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী মন্ডলের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করা হয় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে। কমিটি, শিক্ষক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ফকির মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং পঙ্কজ কুমার বিশ্বাসের উপস্থিতিতে গত ২৩ অক্টোবর (রবিবার) উক্ত অভিযোগের তদন্ত চলাকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে নানা রকম দুর্নীতি-অনিয়মের কথা মৌখিক ও লিখিতভাবে তুলে ধরা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৫ অক্টোবর ইউনুস আলী মন্ডল আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের বাড়ীতে আসে। এ সময় প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যরা অশালীন ভাষায় গালি গালাজ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার তদন্তের রায় আমার পক্ষেই দিয়েছে, তোদের কোনো ফায়দা হলো না। সেই সাথে আমাদের বিদ্যালয় ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি আহসান হাবীবকে শারীরিক আঘাতের চেষ্টা করে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি আহসান হাবীব জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী মন্ডল দীর্ঘদিন যাবত দুর্নীতি-অনিয়ম করে আসছে। অনিয়মের বিষয়গুলো ম্যানিজিং কমিটির সদস্যদের সাথে নিয়ে আমি স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে তুলে ধরেছি এবং সেই সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ আকারে তুলে ধরলে প্রধান শিক্ষক আমার ওপর চড়াও হয়ে লাঞ্ছিত করেন। তার বিরুদ্ধে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম, দুর্নীতির যে লিখিত অভিযোগ করেছি সেই অভিযোগের সুষ্ঠ তদন্ত করে বিচারের দাবি জানায়।

বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সহসভাপতি হাসান মন্ডল জানান, প্রধান শিক্ষক ইউনুস মন্ডলের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমাদের সভাপতি আহসান হাবীব একটি অভিযোগ করে। গত ২৩ অক্টোবর অভিযোগের তদন্ত হয়। কিন্তু ২৫ অক্টোবর থেকে ইউনুস মন্ডল অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সে বলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমার পক্ষে কাজ করছে তোমাদের অভিযোগে কিছুই হবে না আমার।

তদন্তের দিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন জানান, তদন্তে আমি যেটা সরেজমিনে দেখেছি এবং আমি/আমরা যে তথ্য প্রমাণ দিয়েছি তাতে করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছিল সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার। এখন ইউনুস কিভাবে এই ধরনের কথা বলছে সেটাই প্রশাসনের ক্ষতিয়ে দেখার বিষয়।

সরেজমিনে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী মন্ডল।

পাংশা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে এম নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি আমরা আমলে নিয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা