আপনার শিশুকে নামাজে অভ্যস্ত করার ৭ উপায়

প্রকাশিত: ৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

কিয়ামতের দিনও সর্ব প্রথম নামাজের হিসেব নেয়া হবে। মুসলমান হিসেবে আমাদের সকলেরই নামাজের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা আছে। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের মধ্যে যার অবস্থান কালেমার পরেই।

 

নামাজের এই গুরুত্বের কারণেই আমাদের উচিত শিশুদের শৈশব থেকেই নামাজের জন্য উৎসাহিত ও নামাজে অভ্যস্ত করে তোলার চেষ্টা করা। শিশুর অভিভাবক হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব।

 

অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করার বিষয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। তবে এতে চিন্তার কিছু নেই। কয়েকটি বিষয় মেনে চললেই ধীরে ধীরে শিশুরা নামাজে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে।

আপনার সন্তানকে নামাজে অভ্যস্ত করবেন যেভাবে:

১. শিশুরা তাদের বাবা-মাকে অনুকরণ করে। এজন্য তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই ওজু ও নামাজ আদায়ের চেষ্টা করুন। এতে আপনাকে অনুকরণ করে তারা নামাজ আদায়ে উদ্বুদ্ধ হবে।

২. নামাজে উৎসাহিত করতে শিশুদের জায়নামাজ কিনে দিন। নিজস্ব জায়নামাজ ব্যবহারে তাদের উৎসাহিত করুন।

৩. শিশুরা সবসময়ই দৃশ্যমান বস্তু ও তালিকায় প্রতিক্রিয়া দেখায়। শিশুকে নামাজে উৎসাহিত করার জন্য নামাজের সময়সূচি সম্বলিত ঘড়ি, পঞ্জিকা ইত্যাদি ঘরে ঝুলিয়ে রাখুন। এসকল দৃশ্যমান সময়সূচি আপনার শিশুকে নামাজের জন্য উৎসাহিত করবে।

৪. আল্লাহর কথা জানানো ছাড়া শিশুকে নামাজ শেখানো খুব কার্যকরী নয়। শিশুকে আল্লাহর সম্পর্কে জানান এবং তার অফুরান অনন্ত নেয়ামতের কিছু বিবরণ দিন। আল্লাহর এই নেয়ামতসমূহের শোকর আদায়ের জন্য নামাজ পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের শিক্ষা দিন।

 

৫. মাঝেমাঝে আপনার শিশুকে তার সকল বন্ধু-বান্ধবসহ একসঙ্গে নামাজ আদায়ের জন্য একত্রিত করুন। তাদেরকে নামাজের জন্য জায়নামাজ, টুপি, হিজাব, তসবিহ দিন। এরপর একসঙ্গে নামাজ আদায় করুন। নামাজ শেষে তাদের চকলেট, ক্যান্ডি ইত্যাদি উপহার দিন এবং সম্ভব হলে নবী ও সাহাবীদের জীবনী হতে কিছু গল্প তাদের শোনান।

৬. শিশুকে নামাজ আদায়ের শিক্ষায় তাড়াহুড়া না করে ধীর পদক্ষেপে অগ্রসর হোন। কখনোই আশা করবেন না, আপনার শিশু একবারেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে ফেলবে।

৭. যদিও আমরা চাই আমাদের শিশুরা নিজে থেকে নামাজ আদায় করেই বড় হোক, তথাপি একসময় হয়তো তারা নামাজে অবহেলা করবে এবং নামাজ আদায় করতে চাইবে না। পিতা-মাতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব তাদের নামাজ আদায়ে অভ্যস্ত করা। কখনই তাদেরকে নামাজ ছেড়ে দিতে না দেয়া। এক্ষেত্রে দৃঢ়তা বজায় রাখুন।

জুমা ও ঈদের নামাজে আপনার শিশুকে নিয়েই নামাজ আদায় করুন। বিশাল জামাতে নামাজ আদায়ের দৃশ্য তাকে তার পরিচয় সম্পর্কে সচেতন ও নামাজে উৎসাহিত করবে। মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা শিশুদের সঠিকভাবে নামাজের শিক্ষা গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন।