হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজি, ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকদের মাসোয়ারা

প্রকাশিত: ১:৫০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২২

মোহাম্মদ নওশাদুল ইসলামঃ

সিনহা হত্যার প্রথম দিকে কিছুদিন চাঁদাবাজী বন্ধ থাকার পর আবারো বিভিন্ন পরিবহন থেকে ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে। হাইওয়ে পুলিশের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাস, ট্রাক,মাইক্রো,প্রাইভেট,সিএনজি,অটোরিকশা, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার নামে এসব চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এছাড়া হাইওয়ে রোড দিয়ে চলাচল করা দুরপাল্লার অনেক পরিবহনের সাথে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশের মাসিক চুক্তি। যেসব গাড়িতে চুক্তি নেই শুধু সেই গাড়িগুলো আটক করে মামলা দিচ্ছেন তারা এমন অভিযোগ করেছেন অনেক চালক। এছাড়া ইজিবাইক,মাইক্রোসহ অন্যান্য গাড়ি থেকেও মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করা হচ্ছে।সব মিলিয়ে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করছেন হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান,কক্সবাজার টেকনাফ রোডের একাধিক স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রতিনিয়ত হাইওয়ে পুলিশ চাঁদা আদায় করছেন। চাঁদা দিতে না চাইলে সেসব গাড়িতে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুর পাল্লার অনেক বাস,ট্রাক,স্থানীয় মাইক্রো,প্রাইভেট,
ইজিবাইক চালকদের সাথে রয়েছে মাসিক চুক্তি। প্রতিমাসের নির্ধারিত দিনে এসব খাত থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করছে হাইওয়ে পুলিশ। মাসিক চুক্তিতে রাজি না হলে সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়াসহ গাড়ি রিক্যুজিশনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

মূলত রোড ডাকাতি ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশ গঠন করা হলেও তারা এখন ব্যস্ত আছেন চাঁদাবাজিতে। প্রতি মাসে সড়কে চলাচল করা গাড়ি থেকে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করছেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং নামক স্থানে পোশাক পরা অবস্থায় হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ট্রাক থেকে চাঁদা উত্তোলন করেছেন বলে একাধিক ড্রাইভার জানান। তাদের চাঁদাবাজিতে এ সময় সড়কে যানজটেরও সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাক ড্রাইভার বলেন, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও চা নাস্তার কথা বলে তারা চাঁদা আদায় করে থাকেন। চাঁদা না দিলে গাড়ির নামে মামলা দেন। এ ভয়ে আমরা চাঁদা দিয়ে দিই। আপনি আবার আমার নামটি পত্রিকায় লিখেন না। তাহলে পরবর্তীতে আমাকে ধরে মামলা দিয়ে দেবে।

নুর ইসলাম নামের এক ইজিবাইক চালক জানান, আমরা গরীব অসহায় মানুষ। ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। কিন্তু হাইওয়ে রোড দিয়ে চলাচল করলে তারা আমাদের কাছ থেকে ১০০ অথবা ২০০ করে টাকা নিয়ে থাকেন। টাকা না দিলে গাড়ি আটকিয়ে মামলা দিয়ে দেয়। তখন আবার ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা খরচ হয়। এ ভয়ে চালকরা ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে আবার চেক পোস্ট বসিয়ে বলে থাকেন হাইওয়ে রোড ছোট গাড়ি চালানো যাবে না। সে সময় শত শত ইজিবাইক,সিএনজিসহ অন্যান্য ছোট যানবাহন আটক করে মামলা দেওয়া হয়। বর্তমান হাইওয়ে ইনচার্জ মনিরুল যোগদানের পর থেকে ব্যাপকভাবে চাঁদাবাজী চলছে। তাদের কাছে চালকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন।

এদিকে চাঁদাবাজির কোন খবর যাতে পত্র পত্রিকায় না আসে সেজন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করতে কথিত সাংবাদিক জাহেদ হোসেনের ভাতিজা কথিত সাংবাদিক নামধারী ফারুক প্রতিমাসে হাইওয়ে পুলিশের কাছ থেকে মোটা অংকের চাদাঁ আদায় করে থাকেন।ভাতিজা টেকনাফ উপজেলার সকল সাংবাদিকদের মেনেজ করবে বলে চাঁদা আদায় করলেও অন্য একভাগ আসে তার চাচা কথিত সাংবাদিক জাহেদ হোসেনের জন্য কক্সবাজারে।তিনি কক্সবাজারের সকলকে মেনেজ করবেন বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন প্রতিমাসে ওনার ভাতিজা ফারুকের মাধ্যমে।

এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মনিরুল বলেন,আমি আসার পর সকল চাঁদাবাজী বন্ধ করে দিয়েছি। আপনি খোঁজ খবর নিয়ে দেখতে পারেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পোশাক পরা অবস্থায় সড়কে দাঁড়িয়ে ট্রাক থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়ে বলেন,আমি অবশ্যই এই বিষয়ে অবগত নই,আর যদি এ রকম হয় তাহলে আমি তা করতে দিব না। দুর পাল্লার পরিবহন ও স্থানীয় যানবাহন থেকে মাসিক টাকা উত্তোলনের বিষয়ে তিনি বলেন,এ ধরনের কোন বিষয় আমার মাথায় আসছে না। তারপরও আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।