বাংলাদেশ, , শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কক্সবাজারে খাবারের অজুহাতে বিয়ে ভাঙ্গলেন বর

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৯-০৭ ০০:০৯:০৩  

গেল ২৫ আগস্ট কক্সবাজার শহরের এক আত্মীয়ের বাড়িতে ভালবাসার মানুষ মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন (২৪) এর সাথে বাগদান অনুষ্ঠানে বসেছিলেন মাহমুদা আনজুমান মিলি (২২)।

হঠাৎ বর পক্ষের লোকজন চলে যেতে দেখে আনন্দঘন পরিবেশে উৎফুল্ল মিলি (কনে) বিমর্ষ হয়ে পড়েন। তিনি জানতে পারেন খাবারের অজুহাত দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বরকে সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন তার বাবা-মা।

এসময় মিলি তার ভালবাসার মানুষ সাজ্জাদকে আটকাতে প্রাণপণ চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয় মিলি।

নিরুপায় হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেছেন মিলি। এই মামলার করার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে দাবি করেন মিলিসহ তার আত্মীয়স্বজনরা।

কান্না জড়িত কন্ঠে মিলির অভিযোগ, অনুষ্ঠানের খাবার হিসেবে তারা আমাদের কাছ থেকে কবুতর, হাঁস, গরু, দেশি মুরগী, ইলিশ, গলদা চিংড়ি ও খাসিসহ ১৪ রকমের বাহারি রকমের খাবার দাবি করেন। আমাদের আর্থিক সচ্ছলতা তেমন না হলেও তাদের চাহিদা মত আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু সবাই খাবার খাওয়ার পর আমাদের সাথে তারা প্রতারণা করেছে।

মিলির অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন তাদের এক প্রতিবেশি। তিনি জানান, বরপক্ষের অতিথি আপ্যায়নে ১৪/১৫ আইটেমের বাহারি রকমের খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করেছিল কনেপক্ষ। মূলত বরের পিতা তার অসাধু উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য এই অজুহাত তুলেছে।

জানা গেছে, সাজ্জাদের সঙ্গে মিলির বিয়ে হয়েছিল ২০১৯ সালেই গোপনে। তবে ২৫ আগস্টের বাগদান ছিল শুধু সামাজিকতা রক্ষার অনুষ্ঠানমাত্র।

মিলি জানান, দীর্ঘদিন প্রেমের সাজ্জাদের সঙ্গে গোপনে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। সাজ্জাদ তার স্বামী। পরে সেই বিয়েকে সামাজিকভাবে রূপ দিতে এনগেজমেন্ট অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দুই পরিবার। কিন্তু ‘খাবারের’ অজুহাতে অনুষ্ঠানের মধ্যেই চলে যায় সাজ্জাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা।

মিলি আরও জানান, ভালোবাসার মানুষকে ফিরে পাওয়ার আশায় পরে কাবিননামা ও যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে বর পক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ সমাজের গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের কাছে যান তিনি। পাশাপাশি বহুবার শ্বশুরবাড়ির সাথে যোগাযোগ করেন।

তারপরেও কোন প্রকার সামাধান পায়নি বলে অভিযোগ করেন মাহমুদা আনজুমান মিলি।

মিলি বলেন, সাজ্জাদ হোসেন কক্সবাজার শহরের বৃহত্তর পাহাড়তলি সমিতির সভাপতি ও দক্ষিণ পাহাড়তলি এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ সাওদাগরের ছেলে।

মিলি জানান, ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর থেকে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন। তার কারণে ওই এলাকার মানসম্মানে আঘাত লেগেছে বলে তাদের পরিবারকে স্থানীয় লোকজন দোষারোপ করছেন। এতে আত্মহত্যা করা ছাড়া তার আর কোন পথ খোলা নেই বলে জানান মিলি।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজ্জাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে মিলি তার স্ত্রী বলে স্বীকার করেন। পরে অনুষ্ঠানে তার বাবা-মাকে যথাযথ সম্মান না করার কারণে তিনি এই সম্পর্কের ইতি টানতে চাইছেন বলে জানান।

তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে মিলি তাকে বিয়ে করেছেন বলেও সাজ্জাদ দাবি করেন।

কক্সবাজার পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ বলেন, ছেলে মেয়ে দুই জনের মতের মিলনে বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। ওই বিয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে রুপ দেওয়ার জন্য কনে পক্ষ ১০০ জনের খাবারের আয়োজন করে। ওই অনুষ্ঠানে আমিও অতিথি হিসেবে ছিলাম। কনে পক্ষ যথাযথ সম্মান করেছে। পাশাপাশি ভালো খাবারও দিয়েছে। কিন্তু ছেলের বাবা ইউসুফ সাওদাগর অহেতুক আবেগের বসবতি হয়ে কান্না করে অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করে।

কাউন্সিলর আশরাফুল হুদা ছিদ্দিকী জামশেদ আরও বলেন, বিষয়টি বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা যেত। কিন্তু শুনেছি কনে ছেলের দোকানে এসে নানা ঝামেলা করেছে। পাশাপাশি আদালতে মামলাও করেছে।

এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সাজ্জাদের বাবা মো. ইউসুফ সওদাগর মঙ্গলবার রাতে বলেন, খাবারের বিষয় নিয়ে কোন কিছুই হয়নি। এটি মেয়ে পক্ষের সাজানো নাটক। সত্যিকারের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাহিত এবং আমাদের মান-সম্মান নষ্ট করতে এসব মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা