চুক্তিতে বাকখালী নদী দখল করে আবাসন, মামলায় নেই নাম !

প্রকাশিত: ৫:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২২

ডেস্ক নিউজ, বাংলাদেশ পেপারঃ

গত বছর (২০২১ ইং) নভেম্বর মাসের ১১ তারিখ। স্বাক্ষরিত হয় একটি দ্বিপাক্ষিক দখল বিষয়ক চুক্তি। আর দলিলের মূল বিষয় বাকখালী নদীর দখল করা কিছু জায়গা বিক্রি।

বাকখালী নদীর অন্যতম দুইজন দখলদার বদর মোকাম এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে আবু আদনান প্রকাশ আদনান সাউদ এবং একই এলাকার এস এম আতিকুর রহমানের ছেলে জসিম উদ্দিন প্রতি শতক জায়গা দখল দেয়ার জন্য ১ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা করে ১০ শতক জায়গা দখলের জন্য নেন ১৫ লাখ টাকা। তাদের কাছ থেকে জায়গা বুঝে নেন ৪ জন।

দখল বিষয়ক চুক্তিপত্র

তারা হলেন, রুমালিয়ার ছড়া এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আলম, খুরুশকুল মনুপাড়ার দলিলুর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলমগীর, শহরের পাহাড়তলী এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মৌলভি নুর মোহাম্মদ এবং একই এলাকার ওসমান গণির ছেলে জিসান খান। দলিলের চুক্তির শুরুতেই লিখা তারা পরষ্পর পূর্ব পরিচিত এবং দলিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দখলকৃত জায়গায় স্থাপনা নির্মাণে কোন ধরনের আইনি কিংনা স্থা নীয় পর্যায়ে সমস্যা হলে প্রথম পক্ষ তথা আদনান ও সাউদ সব বিষয় ম্যানেজ করবেন।

 

এভাবে বিভিন্ন জনকে দখল বুঝিয়ে দিয়ে বিগত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় আদনান সাউদের নেতৃত্বে গড়ে উঠা এই সিন্ডিকেট। উক্ত সিন্ডিকেটের হাতে একের পর এক প্যারাবন নিধন নদী ভরাট হয়েছে রাতে দিনে। যার ফলে নদী চিহ্ন মুছে নদীর বুক ছিঁড়ে গড়ে উঠেছে একের পর এক আবাসন প্রকল্প।
কিন্তু বাকখালী নদী দখলে নেতৃত্ব দেয়া এই আদনান সাউদ আবার একটি পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতা বলে জেনে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ছোট ছোট প্লট, ছোট ছোট ঘর। চোখ আটকে যাবে সবুজের ভেতর লাল ইটের দেয়ালে। প্লটের সামনে ঝুলছে কারও কারও সাইনবোর্ড। পুরোনো চেনা ছবি এখন আর নেই। দখলবাজদের দাপটে এখন এপাশে বাঁকখালী নদী, অন্যপাশে প্যারাবন। ৬০০ হেক্টর প্যারাবনে দখলদারদের থাবা। বনের ভেতরে শুকিয়ে যাওয়া নদীর সাত কিলোমিটারজুড়ে পোলট্রি খামার, দোকানপাট, চাল-ময়দার মিল আর ঘরবাড়ি। দখলদারদের কেউ কেউ নদী-প্যারাবনের জমি নিজের বলে চালিয়ে বেচাকেনা চালাচ্ছেন দেদার। ইচ্ছা হলেই কেনা যায় নদী ও বনের বুকে প্লট। প্রতি প্লটের দাম পড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ। সরকারি জমি বেচে দিয়ে কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরে ফুলেফেঁপে উঠছে দখলবাজরা।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড় থেকে সৃষ্ট বাঁকখালী নদী রামুর ওপর দিয়ে কক্সবাজার শহরের উত্তর পাশ হয়ে আঁকাবাঁকা পথে মিশেছে বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী চ্যানেলে। বাঁকখালীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৭ কিলোমিটার। সেই নদীর তীরে এক দশক আগে গড়ে তোলা হয় প্যারাবন (ম্যানগ্রোভ)। ঝড়, জলোচ্ছ্বাসের মতো সামুদ্রিক দুর্যোগ থেকে উপকূলকে বাঁচাতে এ বনাঞ্চল প্রহরী হয়ে দাঁড়ায়।

ধীরে ধীরে ভূমিখেকোদের গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে বন-নদী। ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য।

সূত্রঃ দৈনিক  দৈনন্দিন , কক্সবাজার