সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড: ফায়ারম্যান নওগাঁর রবিউলের খোঁজ মেলেনি

প্রকাশিত: ১:১৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ৮, ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনায় নওগাঁর ফায়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। তিনি সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনে কর্মরত ছিলেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন ও বিস্ফোরণে ভয়াবহ অগিড়্নকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। ১৬ জনের লাশ শনাক্তে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

 

রবিউল নওগাঁ শহরের চকপাথুরিয়া মহল্লার পূর্বপাড়ার খাদেমুল ইসলামের ছেলে। রোববার সকালে টেলিভিশনে আগুনের খবর দেখে পরে খোঁজ নিয়ে স্বজনরা তার নিখোঁজের সংবাদ পান।

রবিউলের বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। বাবা-মায়ের সঙ্গে পাঁচ বছরের ছোট বোন রিমঝিমও হাউমাউ করে কাঁদছিল।

রিমঝিম বলছিল, “আম্মু ভাইয়া ফোন রিসিভ করে না কেন? আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলব। আম্মু ভাইয়া কি বেঁচে আছে?”

তিন ভাইবোনের মধ্যে রবিউল বড়। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে দেড় বছর আগে সীতাকুণ্ডে ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। গত ঈদে বাড়ি যান। ছুটি শেষে ঈদের পরদিন কর্মস্থলে ফেরেন।

পরিবারে রবিউলই ছিল একমাত্র ভরসা। ছেলেকে হারিয়ে মাও বারবার বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন। অপেক্ষা করছেন ছেলে বাড়ি ফিরবে। স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা ফাইমা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে রবিউলের কথা হয়েছিল। পরে আবার কথা হওয়ার কথা থাকলেও মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় আর কথা বলা হয়নি।

ফাইমা বেগম বলেন, “শনিবার রাতে এশার নামাজের পর ছেলের সঙ্গে সামান্য কথা হয়। ছেলে ব্যস্ত থাকায় পরে ফোন দিতে বলে। কিন্তু আমি আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর বাসায় আসতে না পারায় ছেলেকে ফোন দিতে পারিনি। পরের দিন সকাল ৫টার দিকে ছেলেকে ফোন দিলে অফিসে যে ডিউটিতে ছিল সে রিসিভ করেন। “তিনি তখন বলেন, রবিউল ডিউটিতে গেছে, তার জন্য দোয়া করেন।”

 

সকাল ৮টার দিকে বাসায় এসে টেলিভিশন চালু করে আগুনের সংবাদ পান। তবে রবিউলের কোনো তথ্য জানা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, ছেলের খোঁজ নিতে বাবা খাদেমুল ইসলাম রোববরই ছোট ছেলে রনিকে নিয়ে সীতাকুণ্ডের যান। কিন্তু সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তারা রবিউলের সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

খাদেমুল ইসলাম বাংলাদেশ পেপার’কে  বলেন, “স্টেশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় গিয়ে হতাহতদের দেখে শনাক্ত করতে বলেছেন। কিন্তু সেখানেও আমার রবিউল নাই।”

কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, “কর্মকর্তারা বলেছেন ডিএনএ টেস্টের পর পাওয়া গেলে লাশ বাড়িতে পৌঁছে দিবেন। ছেলেকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে বুক ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরেছি।”

ডিএনএ টেস্টের জন্য নমুনা দিয়ে এসেছেন বলেও জানান খাদেমুল।

রবিউলের চাচি ফারজানা আফরোজ বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানের সন্ধান চাই। তাকে শনাক্ত করে দ্রুত তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এটাই আমাদের সরকারের কাছে চাওয়া।”

এদিকে, মঙ্গলবার ডিপোর পোড়া ধ্বংসস্তূপ থেকে দুটি ‘দেহাবশেষ’ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এদের মধ্যে একজন ফায়ার সার্ভিসের কর্মী বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য, ফায়ার সার্ভিসের নয় জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। আরও তিনজন নিখোঁজ আছেন।