বাংলাদেশ, , সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪

ইভটিজারদের উদ্দেশ্যে শিক্ষকের খোলা চিঠি

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০২২-০৬-০৪ ০১:১৮:২৭  

ফেসবুক ওয়াল থেকে :

কক্সবাজারে শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের আস্থাভাজন শিক্ষক, সকলের পরিচিত মুখ, কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আবু তৈয়ব দিদার এর টাইমলাইনে বাস্তব ঘটনার আলোকে ইভটিজার ও সংশ্লিষ্ট সকলের উদ্দেশ্যে লিখা একটি পোস্ট সচেতন অভিভাবক মহলের নজর কেড়েছে। শহরের বৈল্লা পাড়া, বৌদ্ধ মন্দির মোড়, গোল দীঘির পাড়, বিকে পাল সড়ক, বাজার ঘাটার নাপিতা পুকুর পাড়, এয়ারপোর্ট রোডের মোড়, লাইট হাউজ পাড়াসহ আরো বহু স্থানে প্রকাশ্যেই ইভটিজিং চলছে। বিশেষ করে স্কুল পড়ুয়া মেয়েদের স্কুল এবং কোচিংয়ে আসা যাওয়ার পথে ইভটিজারদের দৌরাত্নে কোমলমতি মেয়েরা এবং তাদের অভিভাবকগণ অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে। কৃতি শিক্ষক আবু তৈয়ব দিদার এর নিজস্ব ফেসবুকে বৃহস্পতিবার ২ জুন রাতে পোস্ট করা স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হল-

“ওহে যুবক, দাঁড়াও। একটু ভেবে দেখ, উত্তর দাও —
কে তুমি ? তোমার ভবিষ্যৎ কী? তুমি সমাজকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? তোমারও ঘরে একটা ছোট বোন রয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ২ জুন সকালে শহরের ঘোনা পাড়া থেকে আসা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই ছাত্রী আমার বাসার কলিং বেলটাকে হুলুস্থুল বাজাতে থাকে। দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই মেয়ে দুটো বলল, স্যার একটু নীচে আসেন। অনেকটা ভয়ার্ত কন্ঠে মেয়েরা জানালো, দুইটা ছেলে গোলদীঘির পাড় থেকেই তাদের পিছু নিয়েছে। মেয়েরা ছেলেদের আহবানে সাড়া না দেয়াতে তাদেরকে অনেকটা ধাওয়া করে মেয়েদের পিছু পিছু আমার বাড়িওয়ালার গেটের ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। দারোয়ান তাদের জিজ্ঞাসা করলে, ছেলেরা বোনের পিছু পিছু এসেছে বলে জানায়। এরইমধ্যে আমি মেয়েদেরকে নিয়ে দ্রুত নেমে এসে গেটের বাহিরে অবধি যাই। ততক্ষণে ছেলে দুটো চোখের আড়ালে চলে যায়।

এ ঘটনা নতুন নয়। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে এমনকি দৃষ্টি নন্দন স্থানেও এখন এভাবে প্রকাশ্যেই স্কুল পড়ুয়া মেয়েদেরকে স্কুল এবং কোচিংয়ে আসার যাওয়ার পথে কিছু বখাটে উত্যক্ত করছে। আফসোস হচ্ছে, অনেকেই তা দেখে, জানে কিন্তু কোন প্রতিবাদ করেনা। এতটাই আত্মকেন্দ্রীক হয়েছি আমরা, নিজের গায়ে এসে না পড়লে কারো ক্ষতিকেই আর ক্ষতি মনে হয়না।

ভাবতে অবাক লাগে, এলাকার সব যুবকই কি নষ্ট হয়ে গেছে। আগে দেখতাম, অনেক যুবক নিজে যাই হোক না কেন, এলাকার ছোট বোনদেরকে সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতো। এখনতো দেখি, কোন যুবক যখন কোন মেয়েকে উত্যক্ত করছে, তখন তারই আপন ছোট বোন অন্য কোন বখাটে দ্বারা উত্যক্ত হচ্ছে জেনেও তার কোন প্রতিক্রিয়া হচ্ছেনা।

আমার শুধু প্রশ্ন, তোমরা কারা? একটা ছোট্ট মেয়ে কথা শুনতে না চাইলেও জোর করে শুনাতে হবে! প্রেম করতে না চাইলেও জোর খাটাতে হবে! তোমাদের কি বোন ভাগিনী নেই? তোমাদের উপর কি তোমাদের পিতামাতা, অভিবাবকের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই? তোমাদের কি কোন লেখাপড়া বা কাজ কর্ম নেই? তোমরা এত দুঃসাহস কোথায় পাও! তোমাদের কি লাজ লজ্জাও নেই?

এ বিষয়ে সম্মানিত অভিভাবকদের সচেতনতা, স্থানীয় গণ্যমান্য লোকদের সক্রিয় ভূমিকা পালন, সর্বোপরি প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এখনই তড়িৎ ব্যবস্থা না নিলে পারিবারিক, সামাজিক ক্ষতি হবে অপূরণীয়।”

স্ট্যাটাসটি লাইক, কমেন্ট ও শেয়ারে ভরে গেছে।

(ফেসবুকে স্ট্যাটাস দাতা : কক্সবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আবু তৈয়ব দিদার)


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা