বিলুপ্তির পথে কৃষি বন্ধু কাকতাড়ুয়া

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২২

আদিকাল থেকেই বিভিন্ন ফসলি জমিতে ব্যবহার হয়ে আসছে কাকতাড়ুয়া। কাকতাড়ুয়া ব্যবহারে কৃষকের ফসল রক্ষা থাকতো পশু-পখীর হাত থেকে। এখনকার সময়ে আর যুগের পরিবর্তনে তেমন চোখে পড়ে না কাকতাড়ুয়া। বিলুপ্তির পথে কৃষি বন্ধু কাকতাড়ুয়া।

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার ফসলি জমিতে একটা সময় কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার ছিল। তবে বর্তমান সময়ে কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার এ উপজেলায় চোখে পড়ে না, পড়লেও দু’একটা ফসলি জমিতে ব্যবহার দেখা যায়। কাকতাড়ুয়া এ উপজেলার বিলুপ্তির পথে।

কাকতাড়ুয়া ব্যবহারে ফসলি জমিতে পশু-পাখির হাত থেকে রক্ষা পেতো কৃষকের ফসল। দুর থেকে দেখে মনে হবে যেন কোন লম্বা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। এটা ভেবেই পশু-পাখি ভয়ে আসতো না। আর এতে কৃষকের ফসল রক্ষা পেতো, ভালো ফসল পেতো কৃষক। একটা বাঁশের উপর হাঁড়ি রেখে কালি/চুন মাখিয়ে সার্ট পরিয়ে দাঁড় করে রাখা হয় কাকতাড়ুয়া। দূর থেকে যে কেও দেখে মনে করবে- মানুষ দাঁড়িয়ে আছে।

কৃষকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, কাকতাড়ুয়া ব্যবহারে দিন দিন কমে যাচ্ছে, বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করে কৃষক তার ফসলি জমিতে। আগে এত কীটনাশকের ব্যবহার ছিল না। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক বাজারে এসেছে, যা ব্যবহার করলে পশু-পাখি আসে না, এতে ফসলও ভালো হয়, তাই কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার কমে যাচ্ছে।

কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করলে আমরা চিন্তামুক্ত থাকতাম পশু-পাখি থেকে, কেন না এটা ব্যবহার করলে পশু-পাখি আসতো না। তবে এখন বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ও বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারে ভুলেই গেছে কাকতাড়ুয়ার কথা, যেটা একটা সময় আমাদের বন্ধু ছিল।

দু’একটা ফসলি জমিতে কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার দেখা গেলেও অধিকাংশ জমিতে কাকতাড়ুয়া দেখা যায় না। যারা ব্যবহার করছে কাকতাড়ুয়া তারা এখনো বন্ধু হিসেবেই ফসল রক্ষা করতে কাকতাড়ুয়া ব্যবহার করছে।