কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন

প্রকাশিত: ১১:১৩ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২১

ওয়াসিক আহমেদ, কক্সবাজারঃ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা, স্বাধীন বাংলাদেশে ’৭৫ পরবর্তী সময়ে ইতিহাসের সবচেয়ে সফল রাষ্ট্রনায়ক, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ মিছিল করেছে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক আবু মোঃ মারুফ আদনানের নেতৃত্বে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

আনন্দ মিছিলটি কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে এসে শেষ হয়। আনন্দ মিছিল পরবর্তী,৭৫ টি বেলুন উড়িয়ে ও কেক কাটার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালন করে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ।

এ সময় কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে তাঁর সুন্দর জীবন, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার যে প্রক্রিয়া এদেশে শুরু হয়েছিল, তার বিপরীতে দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ’

কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান বলেন, ‘পচাত্তর পরবর্তী দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুদ্ধারে এবং গণতন্ত্র, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে বহু চড়াই-উতরাই, বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে দেশে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা। তিনি সেদিন এসেছিলেন বলেই আজ জাতির পিতার সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নে অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাঙালি জাতি। ভালোবাসায় ও সহমর্মিতায় তিনি বাংলার মানুষের প্রিয় এক ভগিনী, অতি আপনজন এবং একজন মমতাময়ী মা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একমাত্র অভিভাবক বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্মদিনে তাঁর সুস্বাস্থ্য, সুখ-সমৃদ্ধি, সুন্দর জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।’

প্রসঙ্গত, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগ অনুষ্ঠান পরবর্তী কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদান করে।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজকের জন্মদিনটি এমন সময়ে পালিত হচ্ছে যখন তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে। শেখ হাসিনার শৈশব-কৈশোর কেটেছে টুঙ্গিপাড়ায় দাদা-দাদির কোলে-পিঠে মধুমতি নদীর তীরে। পাঁচ ভাই-বোনের অপর চারজন হলেন- শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা ও শেখ রাসেল। এর মধ্যে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া কেউই জীবিত নেই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে বাবা-মাসহ সবাই ঘাতকের হাতে নিহত হন।

শেখ হাসিনার শিক্ষাজীবন শুরু টুঙ্গিপাড়ার এক পাঠশালায়। ১৯৫৪ সালে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর পরিবার নিয়ে পুরান ঢাকার রজনী বোস লেনের ভাড়া বাসায় ওঠেন। বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হলে সপরিবারে ৩ নম্বর মিন্টো রোডের বাসায় বসবাস শুরু করেন। তিনি ১৯৬৫ সালে আজিমপুর বালিকা বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৬৭ সালে সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজ (বর্তমান বদরুন্নেসা কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। ওই বছরই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সে ভর্তি হন এবং ১৯৭৩ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

শেখ হাসিনা ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজে পড়ার সময় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য এবং রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ছাত্রলীগের নেত্রী হিসেবে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলন ও ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

নিখাদ দেশপ্রেম, দূরদর্শিতা, দৃঢ়চেতা মানসিকতা ও মানবিক গুণাবলী তাঁকে আসীন করেছে বিশ্ব নেতৃত্বের আসনে। তিনিই বাঙালির জাতীয় ঐক্যের প্রতীক এবং ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দৈন্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত একটি জাতি তাঁর সফল নেতৃত্বেই উন্নয়ন-অগ্রগতি মহাসোপানে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, অতীত ও বর্তমান তুলনাতেই তা শুধু দেশের মানুষই নয়, বিশ্ব নেতাদের কাছেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

তাই সারাদেশে এখন শুধু একটাই স্লোগান- ‘শেখ হাসিনার হাতে থাকলে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।’