‘কক্সবাজার’ শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত অবহেলিত পিছিয়ে পড়া একটি সমৃদ্ধ জনপদ।

প্রকাশিত: ১১:২৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২১

কক্সবাজার বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের তীর্থভূমি বলা যায়। কক্সবাজারের উত্তরে চক্ষুশীতলকারী  বাঁকখালী, মাতামুহুরি, রেজু খাল ও নাফ নদী, দক্ষিণে তৃণাচ্ছন্ন পাহাড়ি এলাকা, পশ্চিমে পৃথিবীর করিডোর খ্যাত বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত, পূর্বে চাষযোগ্য সমতল ভূমি। এছাড়াও কক্সবাজারে রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ সহ আরো অন্যান্য ভূ-নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা একটি পর্যটন নগরী।

ঐতিহাসিক দিক বিবেচনা করলেও কক্সবাজারে রয়েছে আনুমানিক ২ হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস ও তার নিজস্ব সংস্কৃতি ঐতিহ্য। (সম্রাট অশোক কর্তৃক ২৬৮ অব্দে রামু রামকোট বৌদ্ধবিহার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই অনুপাতে পর্যালোচনা করলে কক্সবাজারের ইতিহাস আনুমানিক ২ হাজার বছরেরও বেশি পুরনো।)

পর্যটনখাত থেকে বাংলাদেশ যা আয় করে, তার অধিকাংশই আসে কক্সবাজার হতে। এবং পর্যটন খাতে প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে; কক্সবাজার। যা আনুমানিক প্রায় ১হাজার কোটি টাকার উপরে।

এতো প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্য ও পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও কক্সবাজার একটি নিদারুণ অবহেলিত জনপদ। এবং কক্সবাজারের অধিবাসীরা শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত এবং শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।

জনশুমারী(আদমশুমারী) ২০১০ এর হিসাব অনুযায়ী কক্সবাজার জেলার সাক্ষরতার হার মাত্র ৩০.১৮ শতাংশ। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষয়ণায় দেখা গিয়েছে কক্সবাজার জেলার সাক্ষরতার হার ১০বছরে বেড়েছে মাত্র ৯.১২ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় সাক্ষরতার হার বিবেচনা করা হয়, ৩৯.৩০ শতাংশ। যা বাংলাদেশের অন্যান্য জেলাগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন। এবং কক্সবাজার জেলা সদর ছাড়া কক্সবাজারের অন্যান্য উপজেলায় এর হার আরো অনেক কম। এছাড়া ৩৯.৩০ শতাংশ হচ্ছে সাক্ষরতার হার, অর্থাৎ প্রকৃত শিক্ষিতের হার আরো কম। এবং উচ্চ শিক্ষিতের হার পর্যায় ক্রমে আরো কম।

ইউএসএইডের ২০১৮ সালের ‘র্যাপিড এডুকেশন অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালিসিস’ রিপোর্টের তথ্যমতে,

কক্সবাজারে প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার উপযোগী বয়সের শিশুদের মধ্যে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার হার মাত্র ৭১ শতাংশ, যা দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

একই সঙ্গে ঝরে পড়ার হার এখানে দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ শতাংশ।

শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য এখানে প্রয়োজন আরো অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এবং কলেজ। উচ্চ শিক্ষার জন্য এখানে নেই কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। কক্সবাজার বাসি অনেক দিন থেকে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সামাজিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। তবুও অপার সম্ভাবনাময় পিছিয়ে এই জনগোষ্ঠীর শিক্ষার হার উন্নয়নে স্বাধীনতার পর হতে কোনো সরকারের আমলে কোনো নৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। জাতিসংঘ কর্তৃক যে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস’ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষিত হয়েছে বাংলাদেশ ২০৩০ সালের মধ্যে সেই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস) অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে, তার আওতায় হলেও কক্সবাজার জেলার শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নের জন্য একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা এখন সময়ের দাবী এবং অপরিহার্য।

লেখক

ইমরান বিন জাবের




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত