বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ফৌজদারী মামলার ভীতি

প্রকাশিত: ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২১

সর্বপ্রথম জানতে হবে যে ফৌজদারী মামলার প্রকৃতি অনুযায়ী অভিযুক্তকে নিরপরাধ (Presumed to be Innocent) বলেই বিচারকার্য শুরু করা হয়, প্রমাণাদি নিয়ে নূন্যতম সন্দেহ থাকলেও আদালাত আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিবেন না। সুতরাং আদালতের রায় ছাড়া আপনাকে কেউ অপরাধী বলেতে পারবে না।

আইনের সঠিক বিশ্লেষণ না জানায় অনেকের ভীতির কারণ ফৌজদারী মামলা। আমরা প্রায় লক্ষ্য করে থাকি ফৌজদারী মামলায় কোনো শিক্ষক আটক হলেই তাকে ‘সাময়িক বরখাস্ত’ করা হয়ে থাকে।

ফৌজদারী মামলা হলেই বা আটক করা হলেই কি একজন বেসরকারি বা এমপিওভুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসরণ করা যাবে?

আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষকদের ভেতর একটি ভীতি কাজ করে থাকে যে মামলা হলে বা আটক হলেই বুঝি চাকুরী শেষ!

এই ব্যাপারে অনুমোদিত বেসরকারি স্কুল শিক্ষকদের চাকুরী আবস্থার ও শর্তবলির প্রবিধান ১৯৭৯- এ সরাসরি কিছু বর্ণীত না থাকলেও বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের কোনো শিক্ষক বিনা অনুমতিতে কর্তব্য কার্যে অনুপস্থিত থাকলে তবে তা ‘পেশাগত আসদাচরণ’ বলে গন্য হইবে। সেক্ষেত্রে নিয়োগকারী কতৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে।

নিয়োগকারী কতৃপক্ষের করনীয় এবং সাময়িক বরখাস্তর সময়কাল কতদিন?

নিয়োগকারী কতৃপক্ষেকে দ্রুততার সাথে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করতে হবে। যদি তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রমাণাদি পাওয়া যায় তাহলে শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে তালে অপসারণ করবেন। আর যদি নির্দোষ প্রমানিত হয় তাহলে তাকে চাকুরীতে পুনর্বহাল করবেন (নুরুন্নবী বনাম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়) [৬০ ডিএলআর ১২৫]

একই মামলায় আদালত সাময়িক বরখাস্তের সময় ৬০ দিন করে দেয় এবং তদন্তের সাপেক্ষে যদি আরও সময় প্রয়োজন হয় তাহলে অভিযুক্ত শিক্ষককে পূর্ণ বেতন-ভাতাদি দিয়ে রাখতে হবে যতদিন না সম্পূর্ণ তদন্ত ও রায় না আসে।

সুতরাং বলা যায় যে, মামলা হলেই বা আটক হলেই কোনো শিক্ষকের চাকুরী চলে যাবে তা বলা যায় না, এবং বিভাগীয় তদন্তের নামে দীর্ঘদিন শিক্ষককে বরখাস্ত রাখার ফলে তার পরিবারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নেমে আসে যা আইনের সম্পূর্ণ ব্যত্যয়।

 




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত