উঠানে বাবার লাশ, সম্পত্তি নিয়ে সালিশে সন্তান

প্রকাশিত: ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২১

মৃত্যুর পর বাড়ির উঠানে বাবার লাশ রেখে সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছেন ৫ সন্তান। এমনকি সম্পত্তির সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত লাশ দাফনেও বাধা দেন ৪ সন্তান।

মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুর ৩টায় মৃত্যু হলেও বুধবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টা পর্যন্ত বাড়ির উঠানেই পড়ে থাকে বাবার লাশ।

২২ ঘণ্টা পর সালিসের মাধ্যমে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে দাফনের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর পুলিশ এসে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যান লাশ। বৃদ্ধের সন্তানদের এমন কীর্তিতে হতবাক স্থানীয়রা।

এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ পাঁচুরিয়ার অম্বলপুর গ্রামে। মৃত ব্যক্তির নাম ইয়াছিন মোল্লা (৮৫)।

স্থানীয়রা জানায়, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ইয়াছিন মোল্লার ৫ সন্তানের মধ্যে বাবলু মোল্লা, ফুলবড়ু, রাবেয়া ও মমতাজের সঙ্গে তার ছোট ছেলে রহমান মোল্লার দীর্ঘ দিন ধরেই বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরেই বাবার লাশ দাফন না করে জমি-জমা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনা শুনে দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলামের হস্তক্ষেপে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টির সুরাহা করা হয়। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ লাশটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা মর্গে পাঠায়।

মৃত ইয়াছিন মোল্লার সন্তান বাবলু মোল্লা, ফুলবড়ু, রাবেয়া ও মমতাজ অভিযোগ করে সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমাদের বাবা ছোট ভাই রহমান মোল্লার কাছে থাকার সুযোগে তাকে ফুঁসলিয়ে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নেন। এ নিয়ে রাজবাড়ী কোর্টে আমরা একটা মামলাও করি।

তারা আরও বলেন, সেই মামলায় গত ৫ জুলাই কোর্ট বাবাকে হাজির হতে নির্দেশ দিলেও অসুস্থতার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি। অসুস্থতার খবরে আমরা তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে বললেও সে আমাদের কথা না শুনে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা করায়। আমাদের ধারণা, ছোট ভাই রহমান ঘুমের ওষুধ খাইয়ে তাকে মেরে ফেলেছে।

ইয়াছিন মোল্লার ছোট ছেলে রহমান মোল্লা বলেন, গত শুক্রবার হঠাৎ করে আমার বাবা অসুস্থ হলে তাকে গোয়ালন্দে প্রাইভেট ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাই। এ সময় ডাক্তার কিছু টেস্ট ও ওষুধ লিখে দিয়ে বাবাকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, আমি ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাাবকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করাই। গত মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাবা আরও বেশি অসুস্থ হলে গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে দেখে মৃত ঘোষণা করেন।

দেবগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। এ ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তাদের বাড়িতে যাই এবং সালিসের মাধ্যমে লকডাউনের পরে সমাধানের কথা বলে স্ট্যাম্পে তাদের উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নিয়ে ইয়াছিন মোল্লার দাফনের সিদ্ধান্ত নেই।

এ ঘটনায় গোয়ালন্দঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান আকন্দ জানান, স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করি এবং জিডি মূলে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।




error: কপি রাইট আইনে সর্বস্বত সংক্ষিত