অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ পরীমণির বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১০:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২১

বাংলাদেশ পেপার, ডেস্কঃ

এবার অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে পরীমণির বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ৭ জুন দিবাগত রাতে পরীমণি ও তার সাবেক প্রেমিকসহ আরও কয়েকজন ওই ক্লাবে গিয়ে গ্লাস ভাঙচুর করেন।

গুলশান থানা-পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ৭ জুন গভীর রাতে। তবে এ ঘটনায় আজ বুধবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়নি।

তবে পুলিশ নতুন করে ওই ঘটনা তদন্তে ক্লাব পরিদর্শনে যাবে।

এ বিষয়ে অল কমিউনিটি ক্লাব লিমেটেডের প্রেসিডন্ট কে এম আলমগীর ইকবাল গণমাধ্যমকে জানান, রাত প্রায় একটার দিকে অল কমিউনিটি ক্লাবে আসেন পরীমণিসহ আরেকজন। এর আগে কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে ছিলেন পরীমণির পরিচিত আরও একজন, যিনি এই ক্লাবের সদস্য। ক্লাব বন্ধের সময় হওয়ায় তাদের প্রথমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে ক্লাব সদস্যদের অনুরোধে তাদের ঢুকতে দেওয়া হয়। আধঘণ্টা সার্ভ করার পর তাদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরীমণি বের না হয়ে বিশৃঙ্খলা শুরু করেন। এসময় তিনি ১৫টা গ্লাস, ৯টি অ্যাশট্রেসহ আরও কিছু হাফপ্লেট ভাঙেন।

পরে  নিজেই ৯৯৯ এ ফোন করেন। পুলিশ এসে তাদের বের হয়ে যেতে বলে।

 

এদিকে, সাম্প্রতিক এসব কাণ্ড নিয়ে পুলিশ আরও কিছু বিষয় খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। নিয়ম ভেঙে কয়েকটি সোশ্যাল ক্লাবে মধ্যরাতে এই নায়িকার যাতায়াত ও মদ্যপানের খোঁজ-খবর করছে পুলিশ। এরইমধ্যে বনানী থানা পুলিশ গুলশানের একটি অভিজাত ক্লাবের বার বয়ের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করেছে।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, বুধবার রাতে বোট ক্লাবকান্ডের তদন্তে নেমে কেচো খুঁড়তে সাপ বেরুচ্ছে। তার ব্যাপারে জানাতে ঢাকার একাধিক সোশ্যাল ক্লাবের কর্মকর্তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

তারা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, পরীমণি তার কস্টিউম ডিজাইনার জিমিসহ কয়েকজন যুবক-যুবতী নিয়ে প্রায়রাতেই অভিজাত ক্লাব ও তারকা হোটেলে ঘুরে বেড়াতেন। তাদের সঙ্গে নিয়ে মদ পান করতেন মধ্যরাত পর্যন্ত। এক্ষেত্রে প্রায় রাতেই তার কারণে ক্লাবের আইন ভাঙা হতো। বিশেষ করে হাফপ্যান্ট পরে তার সঙ্গী হওয়া জিমি ড্রেসকোডের তোয়াক্কা করতেন না কখনোই। এক ক্লাবে সময় কাটিয়ে তিনি যেতেন আরেক ক্লাবে।

গুলশান পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরীমণির সাবেক প্রেমিক তামিম হাসান ও দু’টি বেসরকারি টেলিভিশনের দু’জন কর্মকর্তা পরিচয়ধারীকে নিয়ে গুলশানের একটি অভিজাত ক্লাবে যান। তখন তারা মদ্যপ ছিলেন। ক্লাবে ঢুকে পরীমণি ও অন্যরা বার ব্যবহার করতে চান। বার বয় জালাল এতে অসম্মতি জানালে পরীমণি তার গালে  চড় মারেন। ক্লাব কর্মকর্তারা বেসামাল আচারণের প্রতিবাদ করলে তিনি নিজেই পুলিশে কল করেন। গুলশান থানা পুলিশের দু’টি পিকআপ ভ্যান সেখানে যায়।

পরে তারা বুঝিয়ে পরীমণিকে বাসায় পাঠান। এ খবর পুলিশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। সীমানা ঘেষা এলাকা হওয়ায় গতকাল বুধবার বনানী থানা পুলিশ ওই ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বার বয় জালালের কাছ থেকে সেই রাতের ঘটনা জানতে চায়। ক্লাবটির সদস্য (প্রশাসন) এজন্য পুলিশের কাছে সময় চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সূত্রঃ বিডি-প্রতিদিন/শফিক