ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে মাতামুহুরী উপজেলা ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাতামুহুরী উপজেলা ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলি,

আজ ৭ জুন, ঐতিহাসিক ৬ দফা দিবস, বাঙ্গালি জাতির মুক্তির সনদ ঘোষণা করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,

আইয়ুব খানের মার্শাল ল’ শাসন, ৬২-এর শিক্ষানীতিসহ সব অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং পূর্ব বাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দিনে ৬ দফা ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে এই ৬ দফার প্রতিটি দফা বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে বাংলার জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়। বাংলার সর্বস্তরের জনগণ এই ৬ দফা সম্পর্কে যখন সম্যক ধারণা অর্জন করলো, তখনই ৬ দফাকে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
ছয় দফা ছিল পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তির একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক সনদ।

এই ছয়টি দফা হলো-

প্রথম দফা – পাকিস্তানের সরকার হবে যুক্তরাষ্ট্রীয় এবং সংসদীয়। কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা প্রত্যক্ষ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত হবে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় আইনসভার প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে।

দ্বিতীয় দফা – যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে কেবলমাত্র দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র সংক্রান্ত বিষয়াদি।

তৃতীয় দফা – দেশের দুটি অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজেই বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। এক্ষেত্রে দুই অঞ্চলে একক মুদ্রাও থাকতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে ফেডারেল ব্যাংককে পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে মূলধন পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

চতুর্থ দফা – রাজস্ব সংক্রান্ত নীতি-নির্ধারণের দায়িত্ব এবং কর ধার্যের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারগুলোর থাকবে। দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় পরিচালনার জন্য আদায় করা রাজস্বের অংশবিশেষ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেওয়া হবে।

পঞ্চম দফা – বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দুই অঞ্চলের জন্য পৃথক হিসাব রাখতে হবে। প্রাদেশিক সরকারগুলো বিদেশের সঙ্গে বৈদেশিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্যিক চুক্তি করতে পারবে।

ষষ্ঠ দফা – কার্যকরভাবে জাতীয় নিরাপত্তায় অংশগ্রহণের জন্য প্রদেশগুলোকে প্যারামিলিশিয়া বা আধা-সামরিক বাহিনী গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হবে।

১৯৬৬ সালের এইদিনে ঘোষিত ৬ দফাকে তৎকালীন পূর্ববাংলার জনগণ পশ্চিমাদের এ দেশ থেকে তাড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

আইয়ুব খানের পতন, ১৯৬৯-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দির মুক্তি আন্দোলনের প্রধান মনোবল ছিল এই ৬দফা।

সর্বোপরি, ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে পূর্ববাংলার জনগণ আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মনোনীত প্রার্থীদের একচেটিয়া রায় প্রদান করে বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে।

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণেও ৬ দফার প্রতিটি দফার পর্যালোচনা ছিল।

পরবর্তীতে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুজিবনগর সরকার বিভিন্ন সেক্টরের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিচালনা করার পাশাপাশি দেশের ভেতরে সব সরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়েছিল ৬ দফার ভিত্তিতে।
উক্ত প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন ডেমুশিয়া ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল কাদের, কোনাখালী ইউনিয়নের যুগ্ম আহবায়ক মোশাররফ, সাহারবিল ইউনিয়নের সভাপতি সাদেকুর রহমান সহ মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মিনহাজ, সায়েম, সওয়ার, পারভেজ,মোসাদ্দেক, মিরাদ, জয়নাল, সিদ্দিক ইসমাইল সহ প্রমুখ