আকর্ষণীয় নকশা আর ব্যয়বহুল খাবারে ইলিশ প্রকল্প

প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২১

রাকিবুল ইসলাম রাফি

প্রকল্প ইলিশ বা ‘প্রজেক্ট হিলশা’ রেস্তোঁরাটির বাহ্যিক অবকাঠামো দেখতে আমাদের জাতীয় মাছ – ইলিশের মতো লাগে। বাস্তব জীবনের ইলিশ মাছের মতো এটির লেজ এবং ডোরসাল পাখনা রয়েছে। যা ইলিশ প্রেমীদের মাঝে এখানে আসতে উৎসাহ জোগায়।

মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ফেরি ঘাটের কাছে অবস্থিত রেস্তোঁরাটি খাবার উৎসাহী এবং নগরবাসীর মধ্যে গুঞ্জন তৈরি করছে এর আকর্ষণীয় ও নান্দনিক অবকাঠামোর জন্য। রেস্তোঁরাটি সম্প্রতি চালু হওয়ার পর থেকে আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলগুলি থেকে মানুষ এখানে আসতে শুরু করেছে।

রেস্তোঁরাটির অভ্যন্তরে অবস্থিত খোলা রান্নাঘরটি আধুনিক রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং ডিভাইসগুলিতে সজ্জিত।

একটি ভিন্ন ডিজাইনে সজ্জিত আধুনিক এই রেস্তোঁরাটি তার দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে মাওয়া ফেরি ঘাটে একটি নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। রেস্তোঁরা কর্তৃপক্ষের মতে, প্রকল্প ইলিশ বা ‘প্রজেক্ট হিলশা’ দেশের অন্যতম বৃহৎ রেস্তোঁরা এবং এর উন্মুক্ত রান্নাঘরে গ্রাহকরা স্বাস্থ্যবিধি গুণগতমানের গুণাবলিকে বজায় রেখে কিভাবে রান্নার কাজ পরিচালনা করে তা প্রত্যক্ষ করতে পারে।

প্রকল্প ইলিশের প্রধান নির্বাহী সুকান্ত সৈকত বলেন, ‘একসাথে প্রায় ৩৫০ জন লোক এখানে আহার করতে পারেন। আমরা গর্বের সাথে দাবি করি যে আমরা দেশের একমাত্র রেস্তোঁরা যারা মেনুতে এমন বিস্তৃত ইলিশ আইটেম বহন করে।’

তিনি আরও জানান, ‘আরও ভাল গুণমান নিশ্চিত করতে আমাদের কিছুটা সময় লাগবে। ইলিশ আমাদের ঐতিহ্য এবং রেস্তোঁরাটি সেই ঐতিহ্যের উপর ভিত্তি করে আমরা তুলনামূলকভাবে নতুন কিন্তু গ্রাহকদের চরম চাপের মধ্যে রয়েছি।’

প্রকল্প ইলিশে দর্শনার্থীরা দেশি-বিদেশি স্বাদযুক্ত খাবারের সাথে বিশাল মেনুতে প্রায় ১৪ টি ইলিশ আইটেম যেমন পাটুড়ি, শোরশে ইলিশ এবং ভাজা ইলিশের স্বাদ নিতে পারবেন। বাংলা, থাই ও ভারতীয় জুস ও পানীয়ের পাশাপাশি খাবারও রেস্তোঁরায় পাওয়া যায়। তবে, যাত্রা শুরুর পর থেকে রেস্তোঁরাটি খাবারের দাম এবং স্বাদ উভয় ক্ষেত্রেই মিশ্র পর্যালোচনা পাচ্ছে।

বলা বাহুল্য, ইলিশের বিভিন্ন থিমযুক্ত আইটেমগুলি প্রকল্প ইলিশের মেনুতে আধিপত্য বিস্তার করে। যেমন, ভাপা ইলিশ, ইলিশ মালাইকারি, ইলিশ ভুনা, ধূমপান করা ইলিশ, ইলিশ খিচুড়ি, ভাজা ডিম ইলিশ, ইলিশ ডোপিয়াজা, ইলিশ তরকারি, পানিখোলা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ইলিশ আইটেম। এছাড়াও রেস্টুরেন্টটিতে শিশুদের জন্য রয়েছে খেলার ব্যবস্থা। রয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাও।

ফরিদপুর থেকে রানু ‘প্রজেক্ট হিলশায়’ খেতে এসেছিলেন। তার অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার অনেক বন্ধুবান্ধব এখানে চেক ইন করেছিল এবং ফটো আপলোড করায় আমি ফেসবুক থেকে এই রেস্তোঁরাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছিলাম ভীড় হওয়ার কারণে রেস্তোঁরাটিতে প্রবেশ করা একটি বিরাট ঝামেলা ছিল এবং খাবারের গুণমান হতাশার মতো হয়েছিল “তবে ছবি তোলার জন্য এটি ভাল জায়গা হওয়ায় আমি অভ্যন্তরটি পছন্দ করেছি।’

প্রকল্প ইলিশ প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। গ্রাহকদের প্রবেশের জন্য দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হবে।

বিশাল এই রেস্টুরেন্টের নকশাও খুব সহজেই সবার নজর কাড়বে। রেস্টুরেন্টটির ভেতর আন্তর্জাতিকমানের ফার্নিচারে সাজানো হয়েছে। প্রজেক্ট হিলশার মূল আকর্ষণ হচ্ছে পদ্মার তাজা ইলিশ দিয়েই এখানে চলে অতিথি আপ্যায়ন। মাছ কেজি হিসেবে বিক্রি করা হয়। একা খেতে চাইলেও এক অর্ডারে দুই পিস করে পরিবেশন করা হয়। গ্রাহকরা মাছটি কিনতে পারেন এবং পছন্দসই খাবারগুলি খোলা রান্নাঘরে সরাসরি রান্না করার জন্য অর্ডার করতে পারেন। তারা ইলিশের পৃথক প্রতি টুকরো ২০০ টাকায়ও কিনতে পারবেন।

তবে প্রতিদিন মাছের দাম বদলে যায়। সাধারণত, এই রেস্তোঁরাতে প্রতি কেজি ইলিশের দাম প্রায় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা। ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ১০ শতাংশ সার্ভিস চার্জ ব্যতীত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে ‘প্রজেক্ট হিলশা’ রেস্টুরেন্টটি। সবাই যখন যাওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছেন, চাইলে প্রিয়জন নিয়ে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন প্রকৃতির কাছে তাজা ইলিশের স্বাদ নিতে।