অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যানের হামলার শিকার ছাত্রলীগ নেতা

প্রকাশিত: ২:৪৯ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জন্মনিবন্ধনে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতিকে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে চেয়ারম্যান ও চকিদার। রবিবার (৩০ মে) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়ন কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হলে চেয়ারম্যানের উপর হামলার অভিযোগ এনে আহত ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
এ ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

আহত ছাত্রলীগ নেতার নাম ফরহাদুল ইসলাম। তিনি বিএমচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি ও বহদ্দার কাটা গ্রামের কাশেমের ছেলে।

মাতামুহুরী সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বাহার উদ্দিন আহত ছাত্রলীগ নেতার বরাত দিয়ে বলেন, ফরহাদ তার ভাইপোর জন্য জন্মনিবন্ধনের জন্য পরিষদে যায়। সেখানে বিভিন্ন লোকজনের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায় করতে দেখে প্রতিবাদ করেন। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান দৌড়ে এসে ফরহাদকে মারধর শুরু করেন। সাথে যোগ দেন পরিষদের চকিদারগণ। দিন দুপুরে জন সম্মুখে ফরহাদকে মারধর করলেও কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে লোকজন এগিয়ে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে এমন ভয়ে একটি রুমে আটকে রেখে ভিডিও করেন চেয়ারম্যান। এরপরে চকরিয়া থানা পুলিশকে খবর দিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এদিকে ছাত্রলীগ নেতা নির্যাতনের ঘটনা ছড়িয়ে পড়েল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠে। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চেয়ারম্যানের শাস্তি দাবি করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

জেলা ছাত্রলীগ যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক এইচএম শওকত বলেন, বিএমচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ফরহাদুল ইসলাম বিএনপির কুখ্যাত সন্ত্রাস জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জন্ম নিবন্ধনের নামে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার প্রতিবাদ করেছিল। বিএমচর ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে তাকে আটকে রেখে শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনের পরে সন্ত্রাসী বানিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। আগামী চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত চেয়ারম্যান এবং তার সন্ত্রাস বাহিনীদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে ছাত্রলীগ রাজপথে নেমে নিন্দনীয় ঘটনার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

জানতে চাইলে মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি চৌধুরী মোহাম্মদ আসফি বলেন, গেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন ফরহাদ। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় লাভ করার পর থেকে ফরহাদকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে চাইতো চেয়ারম্যান। রবিবার সুযোগ পেয়ে পরিষদ কার্যালয়ে প্রায় আধা ঘন্টা ধরে আমাদের ছাত্রলীগ নেতার উপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

আমরা এ ঘটনার আমরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলেছি। তাদের নির্দেশ মতো সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিবো।

জানতে চেয়ে চেয়ারম্যানজাহাঙ্গীর আলমকে ফোন করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

চকরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকের মুহাম্মদ যুবাইর বলেন, চেয়ারম্যানের উপর হামলা হয়েছে এমন সংবাদে পুলিশের একটি টিম গিয়ে ফরহাদুল ইসলামকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে ঘটনা সম্পর্কে আমরাও অবগত হই। তাই নিজ জিম্মা তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।