গোপনে ছুটিতে যাওয়া এনজিও কর্মীরা ফিরছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে: মানছে না কোয়ারান্টাইন

প্রকাশিত: ১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ১৭, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

গোপনে ছুটিতে যাওয়া শত শত এনজিও কর্মী কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে। এমনিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে করোনা শনাক্তের হার বেড়েছে।দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটিতে যাওয়া এনজিও কর্মীরা গোপনে ফিরলেও মানছে না হোম কোয়ারান্টাইন। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির শংকা থেকেই যাচ্ছে।

ঈদের আগে গাড়ি বদল করে বা কয়েকজন মিলে মাইক্রোবাস রিজার্ভ ভাড়ায় বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে শত শত এনজিও কর্মী উখিয়া ও টেকনাফ ছেড়েছিল।

যাতায়াত এর ক্ষেত্রে সরকারি নিষেধাজ্ঞা কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিদিষ্ট কিছু প্রভাবশালী অসাধু ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গাড়ির সার্ভিস দেওয়া হয়’ নামক পোস্ট করে এনজিও কর্মীদের যাতায়াত সুবিধা প্রধান করে বলে জানা যায়।

সরকারী নিষেধাজ্ঞা লংঘন করে সংশ্লিষ্ট এনজিও গুলোর অফিস বসরাও অনৈতিকভাবে মৌখিক চুক্তিতে তাদের কর্মীদের ঈদের ছুটি দিয়ে দেন।এসব এনজিও কর্মীরা মহামারী সংক্রমণ প্রতিরোধ আইন মেনে ১৪ দিনের কেয়ারেন্টাইন পালন করছে না বলে জানা গেছে।

সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকুরীরত কর্মীরা কোনভাবে নিজ কর্মস্থলের স্টেশন ত্যাগ করতে পারবে না। এরপরও কিছু কিছু এনজিও সরকারী নির্দেশনা লংঘন করে তাদের কর্মীদের গোপন চুক্তির মাধ্যমে ছুটিতে যেতে অনুমতি দিয়ে সারাদেশের করোনা পরিস্থিতিকে এবং কক্সবাজার জেলাকে অনিরাপদ করে তুলেছে।

 

ঈদের আগে শত শত কর্মী এনজিও কর্মী মহামারী করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ আইন লংঘন করে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে যায় এবং বর্তমানে তারা একইভাবে আসতেও শুরু করেছে।

ঈদ উপলক্ষে গন্তব্যে যাতায়াতে বাস বদল করে জেলা থেকে জেলায় সারাদেশে সংক্রমণ ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমিত ব্যক্তি যদি কক্সবাজার থেকে ঢাকা, বগুড়া বা নীলফামারী যেতে সব জেলায় নেমে বাস বদল করেন সেক্ষেত্রে গাড়ির স্টাফসহ অন্যদের শরীরে ভাইরাস ছড়ানোর আশংকা থেকে থাকে।

এতে সব জেলায় ছড়াবে করোনাভাইরাস। ফলে মে মাসের শেষে বা জুনের শুরুতে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এ সমস্যার বিষয়ে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, ঝুঁকির মধ্যে এই ভাইরাসটি সঙ্গে নিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। এ কারণে মে মাসের শেষের দিকে আর জুন- জুলাই মাসে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার বাড়তে পারে।

এই সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, যে ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি আছে সে কিন্তু ভেঙে ভেঙে বাড়ি যাচ্ছে। এ কারণে প্রতিটি স্থানে ভাইরাস ছড়িয়ে যাবে। এটি কিন্তু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আর যারা গ্রামে যাচ্ছেন শুধু তারা নন, অন্যকেও ঝুঁকিতে ফেলছেন। সুতরাং মানুষের মঙ্গলের জন্য আইন, কিন্তু মানুষ তা না মানলে কি করার থাকে।