স্বাস্থ্যঝুঁকির সাথে বাড়ছে তামাক চাষ

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২১

রাকিবুল ইসলাম রাফি, রাজবাড়ী

সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজবাড়ীতে ক্ষতিকর তামাকের চাষ বাড়ছেই। কিছুতেই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ কমছে না। তামাকে জমি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি জেনেও ঝামেলা কম, আর ধান গমের চেয়ে লাভ বেশি এবং বিক্রিতে কোনো ঝঞ্ঝাট নেই বলে কৃষকরা তামাকের চাষ ছাড়চ্ছেন না। তবে রাজবাড়ী জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, তামাক চাষ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে।

ধান, গম ও পেঁয়াজ ক্ষেতের পাশেই বিষ বৃক্ষ তামাকের চাষ হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন মাঠে। কৃষকরা বলছে, দেশি ও বিদেশী তামাক কোম্পানী তামাক চাষের জন্য আগে থেকেই দাদনের মত বীজ, সার ও শ্রমিকের টাকা অগ্রীম দিয়ে যায়। তাই আমরা প্রতি বছরই তামাকের চাষ করি। তামাক উৎপাদনের পরপরই সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর গাড়ী এসে আমাদের ঘর থেকে নগদ অর্থের বিনিময়ে তামাক নিয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত তামাকে খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয় এবং কোন প্রকার ঝামেলা হয় না।

তবে কোন কোন কৃষক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা চিন্তা করে এই বিষ বৃক্ষের চাষাবাদ বাদ দিয়েছেন। রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর, রামকান্তপুর, বসন্তপুর, পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৪ ইউনিয়নে এবং পাংশা পৌর এলাকাও বিভিন্ন ফসলি মাঠে ব্যপকহারে এই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ হচ্ছে।

এসব অঞ্চলে কোণভাবেই দীর্ঘদিন এর আবাদে জনস্বাস্থ্য ও জমির ক্ষতিকর প্রচারনা চালিয়েও তামাকের আবাদ কমানো যাচ্ছে না। অথচ প্রকাশ্যে তামাকের ব্যবহারে জরিমানা করার বিধান থাকালেও প্রশাসনিকভাবে এর প্রয়োগ নেই বলে তামাকের চাষ ও ব্যাবহার কমছেনা বলে এর ভুক্তভোগী সচেতন মহল মতামত ব্যাক্ত করেন।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ ইব্রাহিম টিটন জানান, তামাক চাষী, শ্রমিক ও তামাক সেবনের ফলে প্রত্যেকের শ্বাসকষ্ট, করোনার মতো ভাইরাসের মারাত্ব ঝুঁকি বাড়বে ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আশি শতাংশই বেড়ে যায়। জেলার বিভিন্ন হাসাপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে তামাক সেবন ও ব্যবহারের ফলে প্রায় ২০ হাজার রোগী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা গ্রহন করেছে। অনেক চিকিৎসক আছেন যারা ওইসব রোগীর চিকিৎসা করতেও দ্বিধাবোধ করেন।

রাজবাড়ী জেলা কৃষি সস্মপ্রসারন কর্মকর্তা এস এম শহিদ আকবর বলেন, গত দশ বছর ধরে প্রতি বছরই কিছুটা তামাকের আবাদ কমছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তামাক চাষে জমি, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য ফসলের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করছে কৃষি বিভাগ। এতে অনেকে সচেতন হচ্ছেন।

তামাকে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমান বেশি তা কৃষকদের বুঝাতে কৃষি বিভাগ ব্যার্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অভিজ্ঞ ও সচেতন মহল, সরকার এবং কৃষি বিভাগ কড়াকড়ি আইন করে তামাকের চাষ বন্ধ না করলে, এই বিষ বৃক্ষের আবাদ কোনোভাবেই কমানো যাবে না।