বাংলাদেশ, , শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪

পেকুয়ায় সংঘর্ষে মাদ্রাসা ছাত্রী ও যুবলীগ নেতাসহ আহত- ৫

বাংলাদেশ পেপার ডেস্ক ।।  সংবাদটি প্রকাশিত হয়ঃ ২০১৯-০৮-২৫ ১৭:১৫:৫০  

নিজস্ব প্রতিবেদক, পেকুয়া:


পেকুয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় অন্তত ৫ জন জখম হয়েছে। জখমীদের মধ্যে ১ জন মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত আলীম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ১ জন যুবলীগ নেতা রয়েছেন।  আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, চমেক হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করে। ২৪ আগস্ট (শনিবার) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের হাজিরঘোনা গ্রামে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে।  


 

আহতরা হলেন, একই গ্রামের বাসিন্দা  ৮ নং ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি জাফর আলমের মেয়ে পহরচাঁদা

ফাজিল মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী খাইরুল জন্নাত ওরফে শিফা মনি (১৭), জাফর আলমের স্ত্রী

খাইরুন্নেছা (৪১), খাইরুন্নেছার পিতা আকবর আহমদ (৭৬), ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতি জাফর আলমের

ছেলে রিফাত (২২) ও ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগ বর্তমান কমিটির সভাপতি ও আকবর আহমদের ছেলে মাইমুন

হামিদ কফিল (২৮)। জখমীদের মধ্যে মাদ্রাসা ছাত্রী শিফা মনি,  ও ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মাইমুন হামিদ কফিলসহ ৩ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। তারা ৩ জনের জখম গুরুতর।

 

স্থানীয় সুত্র জানায়, শিলখালী সাকুরপাড় ষ্টেশনের ৩ টি দোকানের ফটক ও এর জায়গা নিয়ে শিলখালীর হাজিরঘোনা গ্রামে দন্ত চিকিৎসক শফিকুর রহমান গং ফিরোজ আহমদ স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ওই জায়গা ফিরোজ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম পৈত্রিক সুত্রেপ্রাপ্ত হয়েছেন। রেকর্ডীয় জায়গায় ফিরোজ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম সাকুরপাড় ষ্টেশনে দোকান ঘর নির্মাণ করছিলেন। তবে জোট সরকারের সময় ওই জায়গা শফিকুর রহমান গং জবর দখলে নেয়।

 

স্থানীয়রা জানায়, শফিকুর রহমান গং জামায়াতের রাজনীতির অনুসারী। অপরদিকে ফিরোজ আহমদ গং

আ’লীগের রাজনীতির অনুসারী। জোট সরকারের সময় ওই জায়গা বেহাত হয় মনোয়ারার। গত জাতীয় সংসদ

নির্বাচনের কয়েকদিন আগে মনোয়ারার ছেলে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা নাঈমের নেতৃত্বে ফের  একটি দোকানঘর দখলে নেয়। নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দখলকৃত ওই দোকানঘরটি ক্ষমতাসীন দল প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। সংসদ সদস্য প্রার্থী জাফর আলম সে সময় তার নির্বাচনী অফিসটি আনুষ্টানিক উদ্বোধন করেছেন। এ অফিসটি আ’লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গত  তিন মাস আগে শফিকুর রহমান গং সেটি পুনরায় দখলে নেয়। এ নিয়ে ফিরোজ আহমদ গং ও শফিকুর রহমান গংদের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। ঘটনার দিন সকালে দোকান দখল নিয়ে শফিকুর রহমান গং মধ্যে সাকুরপাড় ষ্টেশনে লাঠিসোটা ও দেশীয় তৈরী অস্ত্র স্বস্ত্র নিয়ে ফিরোজ আহমদ গংকে হামলা করেছে।

 

ফিরোজ আহমদের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম জানায়, জায়গাটি আমার বিএস ১৮৪ খতিয়ানের বিএস দাগ ৬৩৭, ৬৩৮ দাগের মালিক হই।  শফিকুর রহমান ও ইয়াবা ফখরুল, ইয়াবা ইলিয়াস, জঙ্গি মনির তার ভাই ইউনুসসহ  মিলে আমাকে উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছে জোরপূর্বক। তারা জামায়াত করে। বিএনপি- জামায়াতের ক্ষমতার সময় অন্যায়ভাবে ওই দোকান থেকে আমাকে বিতাড়িত করে। অথচ তারা জামায়াত শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হলেও বর্তমান সময়ে আমার ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাঈমসহ আমার পরিবারে যে সব আ’লীগ করে এদের /বিরুদ্ধে ৪/৫ টি করে মামলা হয়েছে। পুলিশ জামায়াতের পক্ষে গেছে। আমার বসতবাড়ি আক্রমন করেছে । বাড়ি ঘিরে ফেলেছে। ৫ জনকে কুপিয়ে জখম করে।

 

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাইম বলেছেন, তারা কোন প্রকার কাগজ পত্র দেখাতে পারলে আমরা জায়গাটি ছেড়ে দিব। তারা জোর করে আমার অন্যায় করতেছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী করতেছে। তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয়া নিব ।

 

পেকুয়া থানার ওসি জাকির হোসেন ভূইয়া জানায়, বিষয়টি জেনেছি। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন পক্ষই লিখিত

এজাহার পৌছাননি। এজাহার পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পূর্ববর্তী - পরবর্তী সংবাদ
       
                                             
                           
ফেইসবুকে আমরা